ধূমকেতু প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌরসভার মেয়র সহ ২৬জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এক ভুক্তভোগি।
গত সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ আমলী আদালত নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্ট) এ মামলা দায়ের করেন নাচোল উপজেলার পৌর এলাকার পিপড়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত সলেমান হোসেনের ছেলে রুহুল আমিন।
ভাংচুর, লুটপাট, জখমসহ অন্যান্য অভিযোগে নাচোল পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন ঝালু, ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম, পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার মালেক,পৌর সার্ভেয়ার মো:আলী,কর্মচারী আব্বাস আলী, কাউন্সিলর মতিউর রহমান, কাউন্সিলর শফিকুলের ছেলে রাসেদুল ইসলাম রাসেল সহ ২৬জনের নাম উল্লেখ সহ আরো অজ্ঞাত নামা ১৪জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন রুহুল আমিন। যাঁহার সি.আর মামলা নং-৪৬/২০২২(নাচোল)।
বাদির অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার অন্তগত পিপড়া ডাঙ্গা গ্রামের মৃত সলেমান হোসেনের ছেলে রুহুল আমিন বাড়ির পাশে নয়নঞ্জলিতে একটি দোকান ঘর করে সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু বিগত পৌরসভার নির্বাচনে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম কে ভোট না দেওয়ার কারনে কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম তাঁর পক্ষের লোক দিয়ে রুহুল আমিনের সেই শেষ অবলম্বন টুকু দোকান ঘর ভাঙ্গতে পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করান। সেই অভিযোগের ভিত্তিত্বে নাচোল পৌর সভার মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন ঝালুর নির্দেশে ছোট্র একটি দোকান ঘর ভাঙ্গতে গত ২৪ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার মালেকের নেতৃত্বে প্রায় পৌরসভার ৩০থেকে ৪০জন লোক নিয়ে দোকানঘর টি ভাংতে শুরু করে।দোকান ঘরটি ভাঙ্গতে কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামকে রুহুল আমিনের ছোট ছেলে নাজিম ভাঙ্গতে বাঁধা দিলে পৌরসভার লোকজন নাজিমকে বেধড়ক মারধর করে।
নাজিম কে মারধর করার পর মেয়র আব্দুর রশিদ কাঁন ঝালুর নির্দেশে সেই দোকানঘরটি ভাংচুর করে উক্ত দোকানে থাকা যাবতীয় মালামাল পৌরসভার গাড়িতে করে নিয়ে যায়। ঘটনার এক পর্যায়ে পরিস্থতি ঘোলাটে হলে নাচোল থানার ওসি মিন্টু রহমান সরেজমিনে গিয়ে উপস্থিত হয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগি রুহুল আমিন জানান,রাজনৈতিক জেরে পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন ঝালু ও কাউন্সিলর শফিকুল আমার দোকান ঘরটি ভাঙ্গার জন্য অবৈধভাবে আমাকে নোটিশ করে। আমি দোকানটিঘর ভাঙ্গতে না চাইলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরসভার প্রায় ৪০জন লোক আমার দোকানে এসে জোরপূর্বক ভাবে ভাঙ্গা শুরু করে। আমার ছেলে দোকানটি ভাঙ্গতে বাঁধা দিলে তারা আমার ছেলেকে ও মারধর করে।
তিনি আরও জানান, আমি দু বছর ধরে আমার বাড়ি সংলগ্ন সরকারি রাস্তার ধারে দোকান করে সংসার চালাচ্ছিলাম। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা অবৈধভাবে দোকান ঘরটি ভাঙ্গে।
এ ঘটনার নায্য বিচার দাবিতে গত শুক্রবার বিকালে পিপড়াডাঙ্গা গ্রামবাসীর ব্যানারে নাচোল বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন করে রুহুল আমিন।
নায্য বিচার পাবার আশায় গত সোমবার দুপুরে -বিজ্ঞ আমলী আদালত নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্ট) এ বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৪৩/১৪৮/৪৪৮/৩৫২/৩২৩/৩২৬/৩২৫/৩০৭/৩৮০/৩৫৪/৪২৭/১০৯/১১৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন রুহুল আমিন।মামলাটি তদন্তের জন্য বিজ্ঞ আদালত নাচোল থানার ওসি কে নির্দেশ দিয়েছেন।
এবিষয়ে নাচোল থানার ওসি মিন্টু রহমান জানান, মামলাটি সুষ্ঠভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।


