IMG-LOGO

বৃহস্পতিবার, ২২ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
‘সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ’দেশে ডেঙ্গুতে দিনে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫১২৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না কংগ্রেসসিরাজগঞ্জে নিরাপদ সড়ক গড়তে চালকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশ হতে পারে‘আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে’সর্বোচ্চ বিপজ্জনক’ অবস্থায় হরমুজ প্রণালিগোদাগাড়ীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ আতঙ্কে পৌরবাসী,পরীক্ষা অনুপাতে বাড়ছে পজিটিভের হারতাইওয়ানে ২২৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন চাম্পিরাজশাহী থেকে অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলো ঢাকায়‘‘গুপ্ত’ দল ও পতিত আ. লীগ যৌথভাবে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে’‘সাজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি’রাতের আঁধারে শহীদ মিনার ভাঙচুর নিয়ে ধোঁয়াশা, ভাঙচুর নাকি নড়বড়ে স্থাপনা?পবার বড়বিলের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে: এমপি মিলনঅসুস্থ ভূমিমন্ত্রীকে রামেক হাসপাতালে দেখতে গেলেন রাসিক প্রশাসক
Home >> নগর-গ্রাম >> বিশেষ নিউজ >> মুসাফিরদের আশ্রয় স্থান পোরশার মুসাফিরখানা

মুসাফিরদের আশ্রয় স্থান পোরশার মুসাফিরখানা

ধূমকেতু প্রতিবেদক, পোরশা : শত বছর আগের কথা। সময়টা ছিল ১৯০৮ সাল। বনজঙ্গলে ঘেরা এবং উঁচু-নিচু বরেন্দ্র ভুমির এলাকা নওগাঁর পোরশা থানা। সে সময় ভাল রাস্তাঘাটও ছিলনা। ছিলনা চলাচলের জন্য কোন যানবাহন। পাঁয়ে হেঁটে চলতো মানুষজন। আর মেঠোপথে চলতে চলতেই হতো দুপুর তারপর দুপুর গড়িয়ে সন্ধা। তখনকার যুগে যেমন ছিল চোর-ডাকাতের উপদ্রব তেমনি ছিল হিংস্র বিভিন্ন প্রাণী ও বিচ্ছুর ভয়।

এ এলাকার পথে হাঁটতে হাঁটতে যখন সন্ধা নামতো তখনি মানুষ রাত যাপনের জন্য পোরশার গ্রামগুলিতে আশ্রয়ের স্থান খুঁজতো। ওই সময় কাহারও ভাগ্যে নিরাপদ আশ্রয় মিলতো আবার কাহারও ভাগ্যে মিলতো ভোগান্তি আর কষ্ট। পথিক মুসাফির মানুষের ওই ভোগান্তি আর কষ্টের কথা চিন্তা করে শতবছর আগে তৎকালীন এ এলাকার জমিদার খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ মুসাফিরখানা নাম দিয়ে তৈরি করেছিলেন টিনের ছাউনি সম্বলিত একটি মাটির ঘরের প্রতিষ্ঠান।

পথিক মুসাফিররা যেন বিপদে আপদে এই ঘরে এসে আশ্রয় পান এবং তাদের রাত বা দিনে আশ্রয় এবং বিশ্রামের জন্যই এটি নির্মান করেছিলেন তিনি। মুসাফিরদের রাত ও দিনে থাকার পাশাপাশি বিনামূল্যে খাবারেরও ব্যবস্থা করেছিলেন জমিদার খাদেম মোহাম্মদ শাহ্। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা এবং সকল ধরনের খরচ পরিচালনার জন্য তিনি মুসাফিরখানার নামে দান করেছিলেন প্রায় ৮০ বিঘা জমি। দানকৃত ওই জমির ফসল বিক্রি করে আয়কৃত অর্থ দিয়ে চালানো হয় প্রতিষ্ঠানটি।

পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে বিশিষ্ট আলেম ও সমাজসেবক আলহাজ্ব শরিফ উদ্দিন শাহ্ এর পরিচালনায় মুসাফির খানাটি দুইতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এ রুপান্ত করা হয়। এতে মুসাফিরদের জন্য ১৩টি বেড রুম সহ একটি মিলনায়তন, একটি রান্নাঘর, ও ৮টি দোকান ঘর রয়েছে। দোকানঘর গুলি থেকে আয়কৃত অর্থ মুসাফিরদের জন্য খরচ করা হয়। বর্তমান সময়ে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকার কারণে আর ভোকান্তি পোহাতে হয়না এ এলাকায় এসে তারপরেও টিকে রয়েছে নওগাঁর পোরশা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মুসাফিরখানাটি। আর দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসাফির পথিকদের আগের মতোই সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

পোরশা গ্রামের আনিসুর রহমান শাহ্ জানান, নওগাঁ জেলা শহর থেকে ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে ১শ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পোরশা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মুসাফিরখানাটি। তৎকালিন বাদশা আলমগীরের সময়ে ইরান থেকে শাহ্ বংশের ফাজেল শাহ, দ্বীন মোহাম্মদ শাহ, মুহিদ শাহ, জান মোহাম্মদ শাহ, খান মোহাম্মদ শাহ ও ওমর আলী শাহ্ নামে আরও কয়েকজন মুরুব্বী স্ত্রী-সন্তানসহ হিজরত করতে বাংলাদেশের বরিশালে আসেন। পরবর্তীতে বরিশাল থেকে তারা পোরশায় আসেন। সে সময় এখানে কোন বসত-বাড়ি ছিলনা। চারিদিকে বন-জঙ্গলে ভরে ছিল। কিন্তু এলাকাটি তাদের ভাল লাগায় এখানে তারা ঘর বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতে শুরু করেন বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, ওই সময় তাদের নিজেদের পারিবারিক ভাবে পারস্পরিক সন্তানের বিয়ে দিয়ে তারা বংশ বিস্তার করেন এবং প্রথাটি আজও চালু রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ওই সময় এ এলাকায় তারা বসবাস শুরুর পর থেকে এখানকার জমি পেয়ে তাদের পরবর্তী বংশধররা এখানে জমিদারী করেন। তাদেরই বংশধর খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ ভারতের কলকাতা শহরের জাকারিয়া স্ট্রিটের নাখোদা মসজিদের পাশে অবস্থতি মুসাফির খানার অনুকরণে এই মুসাফিরখানাটি নির্মান করেছিলেন বলে আনিসুর রহমান জানান।

মুসাফিরখানার ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য জন্য একটি কমিটি রয়েছে। বর্তমান পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মঞ্জুরুল হক শাহ্। তিনি মুসাফিরখানার সকল বিষয়ে খোঁজ খবর নেন এবং দেখাশোনা করেন। সিরাজুল জানান, তিনি এখানে প্রায় ২৭বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতিদিনই এখানে অনেক মানুষ আসে এবং তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এখানে প্রায় ৬০জন মানুষ একসাথে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, অনান্য দিনের তুলনায় রমজান মাসে এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৭০০ মানুষ ইফতার করে এবং ২০০-২৫০জন মানুষ ইপতার-সেহরি দুইটি খায় বলে জানান পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মঞ্জুরুল হক শাহ্ জানান, ১৯০৮সালে এটি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৮০ বছর মাটির ঘরেই এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে মুসাফিরখানার জমিজমা থেকে ও অন্যদেন দেওয়া অনুদান থেকে আয়কৃত টাকা দিয়ে বর্তমান ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আসা করছেন।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930