IMG-LOGO

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আমার ছোট ভাই মেরেছে’ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব নিশাতনন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা‘বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই’বাগমারায় কবর খননের সময় ৬.৭ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধারবদলগাছীতে প্রাথমিক শিক্ষক বদলি ; নিয়ম মেনে নাকি নীতিমালা লঙ্ঘনআত্রাইয়ে বজ্রপাতে এক শিশুর মৃত্যুবাগমারায় বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সংবর্ধনা ও স্বাস্থ্যসেবা মতবিনিময় সভানিয়ামতপুরে অবাধে বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগবলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেইমেসির বিদায়ে রোনালদো যে বার্তা দিলেননন্দীগ্রামে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনীত হলেন সুমনবাঘায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসব শুরু হচ্ছে আজশেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানাল ভারতনন্দীগ্রামে উপজেলা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলরাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ফের আটক
Home >> সাহিত্য >> স্বপ্নচারী কবি মাহফুজুর রহমান আখন্দ

স্বপ্নচারী কবি মাহফুজুর রহমান আখন্দ

মঞ্জিলা শরিফ : বাংলা সাহিত্যে সকল শাখায় বিচরণ করেন ডক্টর মাহফুজুর রহমান আখন্দ। ছড়া, কবিতা, গীতিকবিতা রচনা ও সুরারোপ, শিশুসাহিত্য, প্রাবন্ধ-নিবন্ধ, ও গবেষণাসহ সাহিত্যের সকল শাখায় তাঁর কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মতো। পেশায় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক। মিষ্টভাষি, বন্ধুবৎসল, ছাত্রবান্ধব শিক্ষক হিসাবে মতিহারের সবুজ চত্বরে তাঁর যেমন সুনাম রয়েছে তেমনি একনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী গবেষক হিসেবেও বুদ্ধিজীবী মহলে তিনি সমাদৃত। ক্যাম্পাসের বাইরেও তাঁর পরিচিতি এবং সুনাম দেশ জুড়ে বিস্তৃত।

ফুলের মত ফুল হতে চাই/ ফুলের মত ফুল, যে ফুল পেলো নবীর পরশ/গন্ধ যার অতুল। অথবা, তুমি মালিক তুমি খালিক/ তুমি রহমান, তোমায় দয়ায় ফুল পাখি গায়/ নদী বহমান, কিংবা, হাল জুরবার সময় হচে রে/ লাঙল গরু লিয়া চ/ মাছের ভর্তা দিয়ে পানতা খামো তোর চাচিক যায়া ক; অথবা, মুই বসা থাকুম বাড়িতে/ আর যাবানম গয়েন্দিগিরিতে’ এ রকম অসংখ গানের কথা ও সুর তাঁর হাতে ও কণ্ঠে ফুটে উঠেছে।

ডক্টর মাহফুজুর রহমান আখন্দ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক। মিষ্টভাষি বন্ধুসুলভ এই লেখক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ মতিহারের গন্ডি পেড়িয়ে বাংলাদেশ ও দেশের বাইরেও শক্ত অবস্থান তৈরী করে নিয়েছেন শুধু তার মেধাশক্তি দিয়ে। ১৯৭২ সালের ২৮ ডিসেম্বরে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নে শ্যামপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত পরিবারে পিতা মোজাফ্ফর রহমান আখন্দ ও রতœগর্ভা মা মর্জিনা আখন্দের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। আট ভাই বোনের মধ্যে ড. আখন্দ দ্বিতীয় সন্তান।

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ একজন অনন্য সাহিত্যপ্রতিভা। সাহিত্যের সকল অঙ্গনে তাঁর অবাধ বিচরণ। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পাঠকপ্রিয় কবি ও গবেষক তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নন্দিত শিক্ষক, একজন উজ্বল নক্ষত্র। তার লেখা ছড়া, লিমেরিক ও কবিতার শব্দচয়ণ ও অন্ত্যমিল সবসময় পাঠকদের মুগ্ধ করে। কবির চিন্তা চেতনার কেন্দ্রবিন্দু দেশের কল্যাণ, মঙ্গল ও উন্নয়ন। বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে দেশটাকে সুন্দর করে সাজানোই কবির প্রত্যাশা। ‘আফসোস’ কবিতায় তিনি লিখেছেন,
হায়রে নীতির রাজা
দোষ করে কেউ উড়ায় মজার ফানুষ
কেউবা খাটে বিনা দোষে সাজা।

কবির কবিতায় কেবল আফসোস নেই আকুল আবেদনও আছে। ছড়ামাইট নামক কাব্যগ্রন্থে ‘তাড়াও’ কবিতায় তিনি লিখেছেন,
বিবেকটাকে নাড়াও
শপথ নিয়ে খাড়াও
ইঁদুর শকুন তাড়াও।

চেনা বামুনের যেমন পৈতা লাগেনা তেমনি ডক্টর মাহফুজুর রহমান আখন্দকে নিয়ে বেশি কিছু বলার প্রয়োজন হয় না। ‘আখন্দ’ নামটা উচ্চারণ করলেই বুঝা যায় বগুড়ায় বেড়ে উঠা মাহফুজুর রহমান আখন্দ। অনেকেরই আদরের বিল্লু। বিল্লু বললাম এই জন্য যে তাঁর লেখা ‘এ বিল্লু চ মাছ মারবার যাই/ ট্যাংরা ছাতান গচি মাগুর যদিল কিচু পাই’ তাঁর লেখা এই জনপ্রিয় আঞ্চলিক গানটি দেশে এবং দেশের বাইরে অনেকের মুখে মুখে। বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষাকে ছড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে এ গান অনন্য ভ‚মিকা পালন করেছে। এ জন্য অনেকেই তাঁকে বিল্লু নামেই আদর করে ডাকেন।

মাহফুজুর রহমান আখন্দ গান, কবিতা ছড়ায় যা কেবল প্রেমিক মনে দোলা দিবে এমন লেখাই লিখে যাননি বরং তিনি তার ভূতুরে লেখায় জ্বিন-পরী ভূত-পেতিœ লোকজ উপমায় সমাজ ও দেশের মানুষকে সচেতন করে তুলতে চেষ্টা করেছেন। দেশের মানুষ উজ্জীবিত হলে কুসংস্কার থাকবেনা। দেশের উন্নতি উচ্চ শিখরে গিয়ে পৌঁছবে। তাই তিনি কুসংস্কার, অন্যায় অবিচার অত্যাচার থেকে দুরে থাকতে আহ্বান করেছেন। সোনার বাংলা গড়তে ঘুম থেকে জাগ্রত হতে বলেছেন, ‘সোনার স্বদেশ গড়তে হলে তাড়াও সকল ভুত/ ঘুমকে তাড়াও জাইগ্যা উঠো মানব জ্বিনের পুত’।

ডক্টর আখন্দ যে কোন ধরনের লেখালেখিকে সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে মনে করেন। এই গবেষক গবেষণা প্রবন্ধের পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রভৃতি বিষয়ে জাতীয় ও স্থাানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রবন্ধ নিবন্ধ নিয়মিত লিখে চলেছেন। তাঁর প্রতিটি লেখায় সমাজের নানা অসঙ্গতি ও মানবিক বিপর্যয়সহ নানাবিধ দুঃখদূর্দশার অভূতপূর্ব চিত্র ফুটে উঠে। তাঁর প্রকাশিত ‘আরাকানের মুসলমানদের ইতিহাস’’ এক অনবদ্য প্রামন্য গ্রন্থ ।

ডক্টর মাহফুজুর রহমান আখন্দ একজন চলমান নক্ষত্র। তিনি থেমে থাকা কি তা জানেন না। সম্মুখপানে ছুটে চলতেই তিনি অভ্যস্ত। তাঁর লেখাপাঠে তরুণপ্রাণ উজ্জীবিত হয়। সুপ্ত হৃদয়কে করে বিকশিত। আশা জাগানিয়া প্রাণে বিজয়ের স্বপ্ন দেখে। তিনি তার ‘মনটা অবুঝ পাখি’ কাব্যগ্রন্থে লিখেছেন,

কান্নার হৃদয় থেকেও আসতে পারে বিজয়ের সুর
ঘুমের স্বপ্ন থেকেও আসতে পারে
চেতনার বিপ্লবী মশাল
পাথর ঠেলে যেমন উঠে আসে কোমল বৃক্ষ;
আশাহত হয়োনা হৃদয়
আঁধার ঠেলেই আলোর হাসি ফোটে।
আবার স্বপ্ন ডুবুরী শিরোনামে তিনি লিখেছেন,
স্বপ্ন দেখতে দেখতে আমার হাঁটাচলা
স্বপ্নরা রাতভর জেগে রাখে আমাকে
ক্লাসেও স্বপ্নখুঁজি
স্বপ্ন দেখি খাবার টেবিলেও
আজ আমি যেন হয়ে গেছি স্বপ্ন ডুবুরী
তবুও তুমি দুঃস্বপ্নই দেখাবে আমাকে?

সত্যিই প্রতিটা কাজে চিন্তা চেতনায় কবি আখন্দ সুন্দর একটা সমাজ গড়ার, সুস্থ জাতি গড়ার স্বপ্ন দেখেন, আর তাঁর স্বপ্নের বীজ ছড়িয়ে দেন তরুণ হৃদয়ে। মুলত তাঁর চিন্তা চেতনার কেন্দ্রবিন্দু দেশের কল্যাণ, মঙ্গল ও উন্নয়ন। বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তোলাই কবির একমাত্র প্রত্যাশা, একমাত্র স্বপ্ন।

আমরা সবাই জানি সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য তরুণদের ভূমিকা অগ্রগামী। আর তাই এই চির তরুণমনা ডক্টর মাহফুজুর রহমান আখন্দ তরুণদের মনে শুদ্ধ সাহিত্য সংস্কৃতির বীজ বুনে যান। শৈশব কৈশোরে তিনি গ্রামের আলো বাতাস আর কাদা মাটির সাথে মিশে একাকার হয়ে উপভোগ করে বেড়ে উঠেছেন। তার প্রায় লেখায় উঠে এসেছে গ্রামীণ জীবনের নানা অনুসঙ্গ। তারুণ্য বয়সে কবির সময় কেটেছে পড়ার টেবিল। পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে ঘুরে ঘুরে নিজেকে সমৃদ্ধি করার কাজে ব্যস্ত থেকেছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতাকে ছড়িয়ে দিতে চান তরুণদের মনে। তাঁর লেখা শুধু যে দেশ আর সমাজের কথা বলে তা কিন্তু নয়, প্রেমিক মনেও ঝড় তোলে যেমন তার প্রেমের খামার শিরোনামে লিখেছেন,
‘তোমার মনের ওই দীঘল আকাশ জানি শুধুই আমার
হৃদয়ের মাঠ জুড়ে তিলে তিলে বানিয়েছি প্রেমের খামার।’

শুধু কবিতা নয়, অন্যান্য লেখা, গবেষণা, গল্প, প্রবন্ধ শিশুতোষ রচনা যা শুধু শিশু-কিশোরদের নয় বয়স্কদেরও আনন্দ বা শিক্ষা দিয়েছে বিস্তর পরিমানে।

ডক্টর মাহফুজুর রহমান আখন্দ একজন ইতিহাস গাবেষক, সাহিত্যসাধক। কালজয়ী এই লেখককে সাহিত্যের নক্ষত্র বা তারুণ্যের নক্ষত্র বললে ভুল বলা হবেনা বলেই আমি মনে করি । নক্ষত্র আলো ছড়ায়। আপন আলোয় আলোকিত হয়। অন্যকে পথ দেখায়, উজ্জলতায় ভরে দেয় চারিপাশ। ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ তেমনি এক নক্ষত্র যিনি সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গন ও উচ্চতর বিদ্যাপীঠে আপন আলো ছড়িয়ে আলোকিত করে রেখেছেন। পথ চলছেন আপন আলোর গলিপথ ধরে। স্বীয় মহিমায় যার অগ্রযাত্রা। সেই অনন্য প্রতিভার অধিকারী প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময়ের বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির মাঠে একজন সফল চাষী হিসেবে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন। তরুণদের অনুপ্রেরণার উৎস তিনি। সাহিত্যের স্বাদ পেতে তারা ছুটে আসেন তাঁর কাছে। সকল বয়সের সাহিত্যপ্রেমি বিশেষত সুস্থ সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা করে শ্লীল-সংস্কৃতির সাগরে অবগাহন করতে চান, বিশ্বাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিশাল জগতে পথ চলতে চান, তাদের পথ দেখান ডক্টর মাহফুজুর রহমান আখন্দ। তাদের শুধু নির্দেশনা নয় নির্দেশ দেন অবিভাবকের ভঙ্গিতে এবং দ্বায়িত্বশীলতার সাথে।

লেখক : মঞ্জিলা শরিফ, রাজশাহী।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930