IMG-LOGO

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
জার্মান পর্যটক চুরি হওয়া ল্যাপটপের খোঁজে রাজশাহী রেলস্টেশনেআন্দোলনে যোগ দিতে দিল্লি গেলেন মমতা ব্যানার্জীশারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি ওমণ্ডপ সভাপতিদের সঙ্গে ভূমিমন্ত্রীর মতবিনিময়শাহমখদুম কলেজে সম্প্রীতি সভা: গুজব ও উসকানি প্রতিরোধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানগোমস্তাপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ সভাগোদাগাড়ীতে চায়না প্রজেক্ট সংলগ্ন সরকারি খাল ভরাট করে বন্ধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ইউএনও-কে লিখিত আবেদন‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আমার ছোট ভাই মেরেছে’ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব নিশাতনন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা‘বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই’বাগমারায় কবর খননের সময় ৬.৭ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধারবদলগাছীতে প্রাথমিক শিক্ষক বদলি ; নিয়ম মেনে নাকি নীতিমালা লঙ্ঘনআত্রাইয়ে বজ্রপাতে এক শিশুর মৃত্যুবাগমারায় বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সংবর্ধনা ও স্বাস্থ্যসেবা মতবিনিময় সভানিয়ামতপুরে অবাধে বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগবলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই
Home >> নগর-গ্রাম >> লিড নিউজ >> ব্রহ্মপুত্রে চীনের বাঁধ, বাংলাদেশের দুঃশ্চিন্তা কতটা?

ব্রহ্মপুত্রে চীনের বাঁধ, বাংলাদেশের দুঃশ্চিন্তা কতটা?

ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাটির মুখে বাঁধ নির্মাণের যে পরিকল্পনা চীন নিয়েছে, তাতে এ নদের আরও নিম্ন অববাহিকায় থাকা বাংলাদেশের বিপদ কতটা তা নিয়ে নিশ্চিত নন দেশের বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, বাংলাদেশে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা বুঝতে হলে তথ্য প্রয়োজন, পাশাপাশি পরিবেশগত সমীক্ষারও প্রয়োজন হবে।

তিব্বতের মেডগ কাউন্টির কাছে নদীখাতের যে অংশে ওই বাঁধ নির্মাণ করা হবে, তার কাছেই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত।

সে কারণে ভারতের জন্য ওই বাঁধ অশনি সংকেত বয়ে আনতে পারে বলেই দেশটির বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

হিমালয়ের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে মানস সরোবর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি। হিমালয়ের ওই অংশটি পড়েছে তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে, সেখানে এ নদের নাম ইয়ারলুং জ্যাংবো।

এরপর পূর্বদিকে এগিয়ে ন জলধারা ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করেছে সিয়ং নাম নিয়ে। আরও কয়েকবার নাম বদলে সমতলে এসে এর নাম হয়েছে ব্রহ্মপুত্র।

আসামের ওপর দিয়ে এসে এ নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কুড়িগ্রাম হয়ে। তারপর ময়মনসিংহের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে পড়েছে মেঘনায়।

তিন দেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলা ২ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রহ্মপুত্র এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদী হিসেবে বিবেচিত।

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তিব্বতের জাঙ্গমু, দাগু, জিয়েক্সু ও জাছা এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ওপর আগেও চারটি বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন, সেগুলোর সবই ইয়ারলুং জ্যাংবোর (ব্রহ্মপুত্র) উজানে উচ্চ ও মাঝের গতিপথে।

কিন্তু চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত জলবিদ্যুৎ কোম্পানি পাওয়ারচায়নাকে এই প্রথম নদের নিম্ন গতিপথে বাঁধ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা শঙ্কিত।

এই বাঁধকে কেন্দ্র করে চীন তাদের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। পাওয়ারচায়নার চেয়ারম্যান ইয়ান ঝিইয়ংয়ের ভাষায়, ইতিহাসে এই বাঁধের সাথে তুলনা করার মত ‘আর কিছু নেই’।

ভারতীয় পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রহ্মপুত্রে চীনের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতে পানিসঙ্কট দেখা দিতে পারে, তাতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মত পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে।

ভারতের চেয়ে আরও ভাটিতে থাকা বাংলাদেশেও এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তবে সেই প্রভাব কতটা হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা তারা এখনও দিতে পারছেন না।

বাংলাদেশে যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ব্রহ্মপুত্রে চীনের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কোনো তথ্য পায়নি।

“চীন ব্রহ্মপুত্রের একেবারে উৎসমুখে রয়েছে। সেখানে ওরা যা করছে, তা অফিশিয়ালি আমরা জানি না। গণমাধ্যমে আমরা বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি জানলাম। তথ্য-উপাত্ত বলতে আমাদের কাছে কিছু নাই। সেটা ছাড়া এখানে কী প্রভাব পড়বে- সেটা বলা যায় না।

“এ বিষয়ে সমীক্ষা না করে কিছু বলা ঠিক হবে না। এজন্য চীনের তথ্য-উপাত্ত লাগবে- তারা কত জায়গার উপরে কী উপায়ে বাঁধ তৈরি করবে…।”

ব্রহ্মপুত্র নদে নতুন বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা চীনের
বাঁধ দিয়ে নদী থেকে পানি সরিয়ে নেওয়া হলে বাংলাদেশেও যে প্রভাব পড়তে পারে, সে কথা মাহমুদুর রহমানও মানছেন। তবে চীনের পরিকল্পনা নিয়ে কোনো তথ্য যেহেতু জানা নেই, এখনই সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা তিনি সমীচীন মনে করছেন না।

ব্রহ্মপুত্রের সাড়ে পাঁচ লাখ বর্গ কিলোমিটার অববাহিকার মধ্যে ২ লাখ বর্গকিলোমিটার পড়েছে ভারতে, আর বাংলাদেশে পড়েছে ৩৯ হাজার বর্গকিলোমিটার। সে হিসেবে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের দুঃচিন্তা তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করেন যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক।

তিনি বলেন, “কোনো প্রভাব পড়লে, ভারতে সেটা আগে পড়বে। এরপরে পড়বে বাংলাদেশে। যদি তারা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করে, সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নাও হতে পারে। কারণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের থিমই হচ্ছে, পানি ধরে রাখতে পারবে না। ফলে তারা পানি ছাড়তে বাধ্য।”

তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পানির প্রবাহে পরিবর্তন হয় জানিয়ে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের (সিইজিআইএস) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান বলছেন, এই প্রকল্প ব্রহ্মপুত্র বেসিনের চারটি দেশেই প্রভাব ফেলবে।

“জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে যেটি হয়- দেখা যাবে, বর্ষায় যে পানিটা আসে, সেই পানিটা কমে যাবে। আবার শীতকালে যে পানির পরিমাণটা কম থাকত, সেটা বেড়ে যাবে। প্রভাবটা পুরো বেসিন এলাকার মধ্যে হবে। চীন, ভুটান, ভারত ও বাংলাদেশে এর প্রভাব অবশ্যই পড়বে।”

তিনি বলেন, “জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বাঁধ করে পানিটাকে ধরে রাখা হয়, তারপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পানিটা ছেড়ে দিতে হয়। যেহেতু সমানভাবে ছাড়তে হয়, তাই শীতকালে এর প্রবাহটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাবে। তারপরও সম্ভাব্যতা ও পরিবেশগত প্রভাব না দেখে কিছু বলা যাবে না।”

সেজন্য অন্য দেশগুলোর সঙ্গে চীনের পরিকল্পনা শেয়ার করা উচিত বলে মনে করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের এই সদস্য।

“প্রভাবটা কতটুকু পড়বে, উজানে (আপস্ট্রিম) কোনো বড় তৎপরতা চালালে পুরো বেসিনে সেটার প্রভাব পড়বে কিনা- সেটার একটা মূল্যায়ন দরকার। সেই মূল্যায়নটা ভাটির দেশের সাথে শেয়ার করা দরকার। চীন যদি এমন কিছু করে, সেটা ভুটান, ভারত ও বাংলাদেশের সাথে শেয়ার করা উচিত।

“বাঁধ দিলে সেটার সম্ভাব্যতা ও পরিবেশগত প্রভাবটা যদি ভাটির দেশগুলোর সাথে শেয়ার করে, তখন আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারব। এটা হচ্ছে একটি অলিখিত চুক্তি, উজানের দেশগুলো ম্যাসিভ কোনো ইন্টারভেনশনে গেলে সেটা শেয়ার করে।”

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক রেজাউর রহমানও মনে করেন, চীনের বাঁধ নির্মাণের প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে।

“যে কোনো বাঁধের একটা প্রভাব থাকেই, বাংলাদেশেও প্রভাবটা পড়বে। তবে ভারতের চেয়ে এখানে প্রভাবটা কম পড়বে, কারণ আমরা অনেক নিচের দিকে আছি।”

তিব্বতে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভারত আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। তবে চীন তাতে কর্ণপাত করেনি।

এখন চীনের নতুন বাঁধের পাল্টা হিসেবে অরুণাচলে ভারতও একটি বাঁধ নির্মাণের কথা ভাবছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে।

দুই দেশের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যে ক্ষতির মুখে পড়বে, তা জানিয়ে এই অধ্যাপক রেজা বলেন, “আমরা যে পানিটা পাই, তার বেশিরভাগ ভারত থেকেই আসে। যে নদীগুলো আমরা শেয়ার করছি, সেগুলোতে ভারত বাঁধ দিচ্ছে; কিন্তু ভারত আমাদের ক্ষতিটা স্বীকার করতে চায় না।

“এখন বড় দুই দেশ পাল্টাপাল্টি প্রতিযোগিতায় নেমে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করলে ভাটির দেশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হব আমরাই।”

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আড়ালে চীন বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানি অন্যদিকে সরিয়ে নেয় কিনা, সেদিকেও নজর রাখতে বলছেন অধ্যাপক রেজাউর রহমান।

“জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হলে, প্রভাবটা একটু কম পড়বে। কারণ পানিটা তাদের ছেড়ে দিতে হবে, পানি ধরে রাখতে পারবে না।

“চীন কিন্তু আগে বলেছিল, তারা বাঁধ দেবে না। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করবে না। এখন দেখা যাচ্ছে, তারা একটা একটা করে করছে। ২০১৫ সালে তারা বাঁধ দিয়ে মঙ্গোলিয়ায় পানি সরিয়ে নিয়েছিল।”

চীন ও ভারতের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় যাওয়া উচিত মন্তব্য করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, “ভারতের চেয়ে আমাদের কম ক্ষতি হবে, সেটা ভেবে আমাদের বসে থাকলে তো হবে না। সরকারকেও আলোচনা করতে হবে এ বিষয়গুলোতে।

“ব্রহ্মপুত্র নদের ভাটির দিকের দেশ হিসেবে আমাদের এখানেও প্রভাব পড়বে, সে দিকটাতে আমাদেরই লক্ষ্য রাখতে হবে।”

এ বিষয়ে চীন বা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কারও বক্তব্য জানতে পারেনি।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930