ধূমকেতু প্রতিবেদক, চারঘাট : রাজশাহীর চারঘাটে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় মাসুদ রানা (৩১) নামের এক যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় চারঘাট থানার মাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহত মাসুদ রানা চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে চারঘাট মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- মাড়িয়া গ্রামের কামরুল হাসান (৩৭), মো. রিক্ত (৩৬), মো. সাগর (৩৫), সামিরা বেগম (৩২) এবং পুঠিয়া থানার খুঁটিপাড়া গ্রামের রমজান ইসলাম (২৭)। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মাড়িয়া গ্রামসহ চারঘাট থানা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। বাদী মাসুদ রানাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাদেরকে একাধিকবার মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য নিষেধ করলেও তারা তোয়াক্কা না করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। গত শনিবার সন্ধ্যায় মাসুদ রানা মাড়িয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মাড়িয়া গ্রামের নওশাদ আলীর পারিবারিক গোরস্থান সংলগ্ন কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার পথরোধ করে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্ত রমজানের হুকুমে কামরুল তার কাছে থাকা চাকু দিয়ে মাসুদ রানাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেন। কোপটি ঠেকানোর চেষ্টা করলে মাসুদ রানার ডান হাতের কনিষ্ঠা আঙুল এবং ডান চোখের উপরে কেটে গিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। এরপর অন্যান্য রিক্ত, সাগর ও সামিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলাফোলা জখম করে। মাসুদ রানার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, ওই ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী মাদক ব্যবসায়ী কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



