ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে তা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে শেহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কর্তৃত্বের’ ব্যাপারে নিজের অপছন্দের বিষয়েই ইঙ্গিত দেন তিনি।
তিনি বলেন, ইউরোপের দেশটিতে অনেক পাকিস্তানি বসবাস করে, তাই দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পক্ষপাতি তার সরকার।
এদিকে সোমবারই পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। ইসলামাবাদের আইওয়ান-ই-সদরে এক যুগান্তকারী অনুষ্ঠানে তিনি শপথ নেন বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউন এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
সিনেটের চেয়ারম্যান সাদিক সানজরানি প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির অনুপস্থিতিতেই শেহবাজকে শপথবাক্য পাঠ করান।
এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ১৭৪ জন সদস্য শেহবার শরীফের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে কেউ ভোট দেননি কেউ।
এই ১৭৪ জন সদস্যই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়।
এদিকে শেহবাজ শরীফের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের কো চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ কোরেশির। কিন্তু অধিবেশন শুরু হওয়ার পর কোরেশি ঘোষণা দেন পিটিআইয়ের সব সদস্য পদত্যাগ করবেন।
তার এ ঘোষণার পর পিটিআইয়ের সকল সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার কাসেম সুরিও বের হয়ে যান।
এর ফলে পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেহবাজ শরীফ নির্বাচিত হয়ে যান।
কাসেম সুরি বের হয়ে যাওয়ার পর স্পিকারের দায়িত্ব নেন মুসলিম লিগ-এন এর নেতা আয়াজ সাদিক। তিনি স্পিকারের চেয়ারে বসেই ভোটাভুটির কার্যক্রম শুরু করেন।
তিনি জানান, যারা শেহবাজকে প্রধানমন্ত্রী চান তারা ডান দিকে যান। আর যারা কোরেশিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে চান তারা বাঁ দিকে যান।
কিন্তু কোরেশি আগেই বের হয়ে যাওয়ায় তার পক্ষে কেউ ভোট দেননি।
স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়া আয়াজ সাদিক ফলাফল ঘোষণা করে জানান, শেহবাজ শরীফ ১৭৪ ভোট পেয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।


