IMG-LOGO

বুধবার, ১৯ই আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
এসি বিস্ফোরণে কলকাতার হোটেলে আগুন, শিশুসহ অন্তত নিহত ৯নিয়ামতপুরে আদর্শ কৃষকদের নিয়ে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিতনিয়ামতপুরে বৃষ্টির অভাবে খরায় পুড়ছে আমনের খেত, দুশ্চিন্তায় কৃষকতারাগঞ্জে বিভিন্ন দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন রংপুর জেলা প্রশাসকগোমস্তাপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন ও গাছের চারা বিতরণমোহনপুর কেশরহাট পৌর মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন পরামর্শকরণ সভাপুঠিয়ায় নন্দনগাছী সড়কে ৫০০ গাছের চারা রোপণচাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবকের মৃত্যুতানোরে নারী এনজিও কর্মীর ঘরে আটক কর্মকর্তা আশরাফুলের প্রতিবাদ দিয়ে রক্ষার চেষ্টানিয়ামতপুরে ৫৪ লিটার চোলাই মদ জব্দ, গ্রেপ্তার ৫ফুলবাড়ীতে বাসের চাপায় ১০ বছরের শিশু নিহত‘এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে’পুঠিয়ার অবৈধভাবে সার মজুদ করার ব্যবসায়ীর অর্থদণ্ডরাজশাহী মহানগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৯জেলা প্রশাসক আন্তঃ উপজেলা গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মহানগর ফুটবল দলের সাথে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়
Home >> মতামত >> কবি নজরুলের মর্যাদার নেপথ্যে বঙ্গবন্ধুর ছিল অসামান্য অবদান

কবি নজরুলের মর্যাদার নেপথ্যে বঙ্গবন্ধুর ছিল অসামান্য অবদান

আশরাফুল নয়ন : দেশ স্বাধীনের মাত্র দেড় মাস পরেই ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারতে আসেন। সেখানে তিনি অবস্থান করেন ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সেই সফরে শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদায় রাখা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের বাসভবন কলকাতার রাজভবনের অতিথিশালায়। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তখন এ এল ডায়াস। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে বললেন, ‘দেখুন আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে। কলকাতাতেই থাকেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি যেমন আপনাদের কবি, তেমনি আমাদেরও কবি। আমাদের ভাষা এক। সংস্কৃতিও এক। কবি নিজে আগে বহুবার ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশের অনেক শহরে গিয়েছেন। তো এবারে আমরা কবিকে ঢাকায় নিয়ে ধুমধাম করে তার জন্মদিন পালন করতে চাই।’ রাজ্যপাল এ এল ডায়াস সব শুনে বললেন, ‘এ তো ভালো প্রস্তাব। এমন তো হতেই পারে যে আমরা পালা করে কবির জন্মদিন পালন করলাম। একবার ঢাকায় আর পরেরবার কলকাতায়। তবে আমি এর অনুমতি দিতে পারবো না। আপনি বরং সরাসরি মিসেস গান্ধীর সঙ্গেই কথা বলুন।’

পরদিনই মুজিব ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কথা বললেন। তৎকালিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আবার মতামত চাইলেন পশ্চিমবঙ্গের তখনকার মুখ্যমন্ত্রী ও তার অত্যন্ত আস্থাভাজন কংগ্রেসি নেতা সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের। তিনিও সম্মতি দিলেন। দুটো দেশের মধ্যে যে পারস্পরিক প্রীতি ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক, সেটার ভিত্তিতেই শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধ ভারত মেনে নিল। তবে এটাও ঠিক, দিল্লি ভেবেছিল কবির এই যাত্রাটা হবে সাময়িক। তিনি আবার কিছুদিন পরে ফিরে আসবেন।

এরমধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় পৌঁছেই বঙ্গবন্ধু কবির সুস্থতা কামনা করে তাকে দুইটি ফুলের তোড়া পাঠান।

এছাড়া এই সফরের মধ্যেই রাজভবনে কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে তখন রাজভবনে এসেছিলেন কবির দুই ছেলে কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ এবং পুত্রবধু কল্যাণী কাজী। তাদেরকেও বঙ্গবন্ধু জানালেন, বাংলাদেশ স্বসম্মানে কবি নজরুলকে দেশে নিয়ে সংবর্ধনা দিতে চাই। এভাবেই বঙ্গবন্ধু তার সরকারের পক্ষে নজরুলের পুত্রদের কাছে কবিকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানায়।

নজরুলকে ঢাকায় পাঠানো ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে কবির পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই মতবিরোধ ছিল। তিন দশক ধরে বোধশক্তিহীন, নির্বাক এক কবি ঢাকায় এসে কোথায় ও কিভাবে থাকবেন সেটি তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে স্পষ্ট ছিল না। সেকারনে কবির ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধ চাননি বাবাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হোক। কিন্তু বড় ছেলে কাজী সব্যসাচীর আবার এ ব্যাপারে তুমুল উৎসাহ ছিল। স্ত্রী প্রমীলার মৃত্যুর পর কবি তখন থাকতেন বড় ছেলে কাজী সব্যসাচীর পরিবারের সঙ্গে। তাছাড়া কাজী সব্যসাচী ছিলেন দাপুটে মানুষ – বড় ছেলে হিসেবে পরিবারে তাঁর মতামতটাই প্রাধান্য পেত।

অপরদিকে কাজী অনিরুদ্ধ ছিলেন শান্ত ও মিতবাক প্রকৃতির মানুষ। তারপরও কবিকে ঢাকায় পাঠানো হবে কিনা এ নিয়ে পরিবারে চরম মতবিরোধ দেখা দেয়। তবে বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রনটি এতটায় আন্তরিক ছিল যে, না করতে পারেনি কবির পরিবার। সেজন্য বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে দুই ভাই ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসেন। এ সফরে তারা অসুস্থ কবিকে কীভাবে বাংলাদেশে আনা যায়, তা নিয়ে তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

বিদ্রোহী কবি নজরুলকে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে সরকারিভাবে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে—খবর প্রচারিত হতে থাকে রেডিও এবং টেলিভিশনে। এতে কলকাতায়ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভারতের দমদম বিমানবন্দর থেকে কলকাতা প্রবেশ করতে হয় যে সড়ক দিয়ে, তার নাম ‘কবি নজরুল ইসলাম এভিনিউ’। এ পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিনিধি মন্ত্রী মতিউর রহমান এবং মুস্তাফা সারোয়ার। রাস্তার দুপাশে কিছু পোস্টার দেখতে পান তারা। তাতে লেখা ‘অসুস্থ কবি নজরুলকে বাংলাদেশে নেওয়া যাবে না’। কলকাতার কয়েকটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই পোস্টার লাগিয়েছিল। শুধু তাই নয়, কবি অসুস্থ তাই তাকে বাংলাদেশে নেওয়া যাবে না— সংগঠনের কর্তারা এমন ডাক্তারি সার্টিফিকেটও যোগাড় করে রাখে। নজরুলকে বাংলাদেশে আনার বিপক্ষে চালাতে থাকে প্রচার-প্রচারণা। এমনকি বিক্ষোভও করা হয়।

পরিস্থতি বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার সিদ্ধার্থ রায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে মন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় ভারতীয়দের প্রতিবাদের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাকে সেদিন খুব চিন্তিত দেখায়।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলও চিন্তায় পড়ে যান। যোগাযোগ করেন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর সে সময়ের রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ এবং অন্যতম সচিব প্রয়াত রফিকুল্লাহ চৌধুরী জানান যে, কবিকে সঙ্গে করে ঢাকায় নিয়ে যেতে না পারলে, বাংলাদেশেও বিক্ষোভ শুরু হতে পারে। কারণ, ইতোমধ্যেই রেডিও এবং সংবাদপত্রে প্রচার করা হয়ে গেছে যে, অমুক সময় কবিকে বহনকারী বিমানটি ঢাকায় অবতরণ করবে। এ খবর পেয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল উভয় সঙ্কটের পড়েন।

কলকাতায় বিক্ষোভ, অপরদিকে ঢাকায় প্রতিবাদের সম্ভাবনা—এই উভয় সঙ্কটের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর সুসম্পর্ক। এ সম্পর্কের ফলেই নজরুলকে বাংলাদেশে দিতে রাজি হয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে আবারও বৈঠক হয় ‘রাইটার্স ভবনে’। তবে শর্ত থাকে যে, কবির অসুস্থতার ব্যাপারে যাবতীয় দায়-দায়িত্ব গ্রহণ এবং একটা সময় পরে কবিকে ভারতে ফিরিয়ে দিতে হবে।

দ্বিতীয় বৈঠকের পরদিন ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভোরেই কবিকে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেদিন কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিল বাংলাদেশ বিমান। খুব ভোরেই কবিকে বিমানে ওঠানো হয়। এতে অন্যান্যদের মধ্যে সহযোগিতা করেন কবির দুই ছেলে কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ। বিমানবন্দরে দ্রুত ছুটে আসে কলকাতার ফটো সাংবাদিকরা, কিন্তু পাননি। কারণ ততক্ষণে কবিকে বহনকারী বিমানটি আকাশে উড়ে গেছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের পাশাপাশি পরে কলকাতায় বোমা বিস্ফোরণের খবরও পাওয়া যায়। ৩০ মিনিটের মধ্যেই বিমানটি উড়ে আসে ঢাকায়।

১৯৭২ সালের ২৪ মে অসুস্থ কবি দেখলেন স্বাধীন বাংলাদেশকে। হাজারো মানুষের ভিড় ঠেলে অ্যাম্বুলেন্সে করে কবিকে নেওয়া হয়েছিল ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডে বাড়ি ‘কবি ভবন’-এ। যা আগে থেকেই কবির জন্য নির্ধারিত ছিল।

এ বাড়িতেই পঁচাত্তরে অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত কবিকে রাখা হয়েছিল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়।” সরকারের বরাদ্দ করা সেই বাড়িটি এখন নজরুল ইন্সটিটিউট।

কাজী নজরুলের সঙ্গে সেদিন তার পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে এসেছিলেন। বড় ছেলে কাজী সব্যসাচী ও তার স্ত্রী উমা কাজী, ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধ ও তার স্ত্রী কল্যাণী কাজী এবং তাদের সন্তানেরা এসেছিলেন কবির সঙ্গে। কবির ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডি কে রায়ও এসেছিলেন সঙ্গে। এরপর কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।

১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে কবিকে একুশে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক না হলে পদক দেওয়া যায় না বলে ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে নাগরিকত্বও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে আসার পর কবি আর বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি। এ দেশের মাটিতেই তার সমাধি হয়েছে।রকবি নজরুলের বাংলাদেশে এই ঐতিহাসিক ফেরা সম্ভব হয়েছিল বাঙালির আরেক মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগের জন্য। ইতিহাসবিদদের মতে বঙ্গবন্ধু ছাড়া নজরুলকে ঢাকায় আনা সম্ভব হতো না।

সর্বশেষ নির্দ্বিধায় স্বীকার করতেই হয় কবি নজরুলের বাংলার মাটিতে মর্যাদার নেপথ্যে বঙ্গবন্ধুর ছিল অসামান্য অবদান।

লেখক : আশরাফুল নয়ন, গল্পকার ও চর্যাপদ গবেষক, নওগাঁ।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031