IMG-LOGO

বৃহস্পতিবার, ২৭ই আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১২ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুনপাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত নেপাল, নিহত বেড়ে ১৬০বাঘায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় রাসেল গ্ৰেপ্তারফ্লাইটে যাত্রী অসুস্থ, অবতরণের পর মৃত ঘোষণানেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৮, বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৩৮৪‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করতে পারি না’চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১২৫ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ গ্রেফতার ১সালিসে ১ লাখ ৫০ হাজার জরিমানা, হাতে গেল ১ লাখ—বাঁকি ৫০ হাজার চেয়ারম্যানের ‘খাটুনির মজুরি’?নন্দীগ্রামে র‍্যাবের অভিযানে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তারজামিন আবেদন নাকচ, দুই বছরের সাজার মামলায় কারাগারে বিদিশাচাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কমিটি অনুমোদন: আহ্বায়ক দেলোয়ার , সদস্য সচিব হেলালতারাগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালীপুঠিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডরাসিক প্রশাসকের সঙ্গে জাপানের ব্যবসায়ীপ্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়মান্দায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৩ রাউন্ড গুলি, আতঙ্ক
Home >> লাইফস্টাইল >> সফল ব্যাংকার চন্দন বনিক

সফল ব্যাংকার চন্দন বনিক

ধূমকেতু প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও : অন্য দশটা মানুষের চেয়ে বেড়ে উঠার গল্পটা একটু আলাদা ঠাকুরগাঁও সোনালী ব্যাংকের সফল ব্যাংকার চন্দন কুমার বনিকের। অন্য মানুষের মত স্বাভাবিক না হওয়ায় সাইকেল চালিয়ে কলেজে যেতে পারতেন না তিনি। বন্ধুরা তাকে সাইকেলের সামনে বসিয়ে কলেজে নিয়ে গেছে। ক্লাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আমার জন্য অপেক্ষা করেছে। ক্লাস শেষে তারা আবারো চন্দনকে সাইকেলে চড়িয়ে বাসায় পৌঁছে দিয়ে বাড়ি গেছে।

তিনি বলেন, ‘এরপর আবার প্রাইভেটের সময় তারা আমার বাসায় এসেছে। আমাকে নিয়ে প্রাইভেটে গেছে। প্রাইভেট শেষে আবারো বাসায় পৌঁছে দিয়ে তারা তাদের বাড়ি গেছে। আমার সফলতার গল্প বলতে গেলে সবার আগে আমার বন্ধুদের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে। কারণ তাদের আন্তরিকতা এবং সহযোগিতায় আজ আমি সফল।’

‘অনেকের জীবন নাকি শেষ হয়ে যায় বন্ধুর পাল্লায় পড়ে। এক্ষেত্রে আমি ব্যতিক্রম। কারণ আমাকে উঁচুতে তুলে ধরতে মই হিসেবে কাজ করেছে আমার বন্ধুরা।’ উল্লেখ করেন চন্দন বনিক।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে নিজ অফিসে বসে এভাবেই বন্ধুদের সহযোগিতার কথাগুলো উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছিলেন ঠাকুরগাঁও সোনালী ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।

বলছিলেন, সেই ছোটবেলা থেকে নিভু নিভু প্রদীপের মাঝে কীভাবে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছেন তারই গল্প। নিজের গল্প শোনানোর আগে তিনি জানিয়ে দিলেন, তার কিছু স্বপ্নের কথা যে স্বপ্নগুলো বাস্তব করতে অনেক কষ্ট করেছেন। তাই তিনি চান না একই কষ্ট তার মতো অন্যরা করুক।

স্বপ্নের কথাগুলো বলতে গিয়ে সবার আগে তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে একটি প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট গড়ে তুলতে চাই। সেই কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতায় মেধাবী প্রতিবন্ধিরা লেখাপড়া করে শিক্ষিত হয়ে উঠবে।’

তিনি বললেন, ‘আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধিরা এখনো অনেক অবহেলিত। অভিভাবকরা প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে সব সময় বিপাকে থাকেন। সমাজের কাছে সহযোগিতা পেলে প্রতিবন্ধিরা এগিয়ে যাবেই যাবে।’

চন্দন কুমার বনিক বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ঠাকুরগাঁও প্রিন্সিপাল অফিসের কর্মকর্তা। সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ২০১৫ সালে চাকরি পেয়েছেন তিনি। তার উচ্চতা তিন ফুট। স্ট্রেচারের সাহায্য ছাড়া হাঁটা-চলা করতে পারেন না। জন্মের পর থেকেই এমন। এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।

অদম্য এই মানুষটিকে জীবনে অনেক কঠিন পথ পারি দিতে হয়েছে। হাজারো কটূক্তি শুনেও থেমে যাননি। শুধুমাত্র মেধা আর নিরলস প্রচেষ্টার জোরে বলার মতো একটা পর্যায়ে এসেছেন। আর্থিক ও পারিবারিক সঙ্কটকে রূপান্তর করেছেন শক্তিতে। চন্দন বনিক এখন পর্যন্ত ২০টি চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে দশটি পরীক্ষা তিনি সুদূর ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় এসে দিয়েছেন। সোনালী ব্যাংকসহ চারটি ভাইভা দিয়ে আগের তিনটি চাকরি পাননি। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। কোথাও কোনো কোচিংও করেননি। আবার নতুন করে শুরু করলেন। সোনালী ব্যাংকে প্রিলি ও লিখিত পাস করলেন। অবশেষে জীবনের চতুর্থ ভাইবা দিয়ে সফল হলেন; চাকরি পেলেন।

একবার ভাবুন তো- যে মানুষটি শারীরিকভাবে স্বাভাবিক নয়, স্ট্রেচার ছাড়া হাঁটতে পারেন না; পারিবারিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনি যদি নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেতে পারেন, তাহলে আপনি কেন পারবেন না? অনেকেই বলতে পারেন- তার তো কোটা ছিল। হ্যাঁ ছিল, কিন্তু সেটা তো লিখিত পরীক্ষায় পাস করার পর কার্যকর হয়। নিজ মেধার যোগ্যতায় লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছেন তিনি। অনেক কষ্টের বিনিময়ে ভালো চাকরি পেয়েছেন। বিয়েও করেছেন, নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন…।

গুনে গুনে বলুন তো- আপনি জীবনে মোট কয়টা পরীক্ষা দিয়েছেন? এর মধ্যে কয়টা পরীক্ষা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে দিয়েছিলেন? চন্দন বনিক কিন্তু দশটি পরীক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে দিয়ে সফল হয়েছেন। আসলে আমাদের প্রস্তুতি আর মনোবলের ঘাটতি রয়েছে। যার ফলে অল্পতেই হতাশ হয়ে যাই। আপনি-আমি চন্দন বরনেরর থেকে অনেক ভালো অবস্থায় আছি। উনি পারলে আমরাও পারবো। মানুষ চাইলে পারে না- এমন কিছুই নেই!

১৯৮৬ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কদমরসুল গ্রামে অন্যান্য সব সাধারণ শিশুদের মতোই ভালোভাবেই জন্ম হয় চন্দন কুমার বণিকের। জন্মের ৩ বছর বয়সে হাঁটতে হাঁটতে পড়ে গিয়ে তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। তার বাবা রোহিনী চন্দ্র বণিক অনেক ডাক্তার ও কবিরাজ দেখান তাতেও চন্দনের পায়ের হাড় জোড়া লাগাতে পারেনি কেউ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জন্মের ৩ বছর বয়সে হাঁটতে হাঁটতে পড়ে গিয়ে পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর তৎকালীন ঠাকুরগাও সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ওমর আলীর কাছে নিয়ে যান এবং তিনি চিকিৎসার শুরুতেই জানান, চন্দন পোলিও রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার শরীরের হাড় খুব নরম। একবার ভাঙলে সেটি জোড়া লাগানো অসম্ভব। পরে চন্দনের বাবা তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ডাক্তার পার্থ সারথীর কাছে নিয়ে গেলে তিনিও একই কথা বলেন।

সর্বশেষ চন্দনের বাবা একমাত্র ছেলেকে ভালো করার জন্য এলাকার নানান রকম মাহাতো-মুন্সি, তাবিজ-কবজসহ নানা রকম কুসংস্কারপন্থি কাজ করেন। চন্দনের দুই বোন। তারা অবশ্য স্বাভাবিক। চন্দনের বাবা সদর উপজেলার ভুল্লী বাজারে একটি জুয়েলার্সের দোকানে কাজ করেন। অনেক কষ্ট করে তাদের পরিবার চালাতে হতো। চন্দনের পড়ালেখার খরচ জোগাতে পারছিল না তার পরিবার। চন্দন শহরে নিজে প্রাইভেট পড়িয়ে লেখাপড়া চালিয়ে শিক্ষা জীবন শেষ করে আজ কর্মজীবনে সফল হয়েছেন।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031