IMG-LOGO

বুধবার, ২৮ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
রাজশাহীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমিতে স্থানীয়দের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবিনগরীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে মালামাল হেফাজতে নিয়েছে পুলিশনিয়ামতপুরে পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ‘‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি’রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষকী উদযাপিতসাপাহারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনবাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না রেখে রাজশাহীতে রেফার, বাড়িতে মৃত্যু কিরণ বালাররাণীনগরে বিশেষ অভিযানে ৫জন গ্রেফতার,মাদক উদ্ধারসিরাজগঞ্জে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ বিষয়ক সেমিনাররাণীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনমান্দায় হাট উন্নয়নে সাড়ে ৯ লাখ টাকায় নামমাত্র কাজের অভিযোগসিরাজগঞ্জে বর্নাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিতমহাদেবপুরে দুই বোনের এক স্বামী শ্বশুর বাড়ি এলাকায় মুখে চুনকালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা দিয়ে বিদায়চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে : প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীমোটরসাইকেল ছিনতাই: পুলিশের দ্রুত অভিযানে ৬ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২
Home >> কৃষি >> তানোরে বৃষ্টির অভাবে রোপন হয়নি ৬০ হাজার বিঘা আমন

চিন্তিত কৃষকরা

তানোরে বৃষ্টির অভাবে রোপন হয়নি ৬০ হাজার বিঘা আমন

ধূমকেতু প্রতিবেদক, তানোর : রাজশাহীর তানোরে সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির পানি না হওয়ার কারনে প্রায় ৬০ হাজার বিঘা জমি রোপন করতে পারেনি কৃষকরা। গত সপ্তাহের শুক্রবারে টানা ভারি বর্ষন হয়। এরপর আর বৃষ্টির দেখা মিলেনি। কৃষকরা জমি চাষ করে রেখেছেন রোপনের জন্য। কিন্তু পানির অভাবে চাষকৃত জমি শুকনো হয়ে পড়েছে। পানি না পেলে চাষ রোপন কোনটাই হবেনা বলে মনে করছেন কৃষকরা। এতে করে কৃষকের কপালে চরম ভাজ পড়েছে, সেই সাথে যারা রোপন করেছেন তাদের জমি ফেটে চৌচির। ফলে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তানোর পৌরসভা, তালন্দ, সরনজাই, পাচন্দর ও চান্দুড়িয়া এবং কামারগাঁ ইউপির বেশির ভাগ জমিতে রোপা আমন রোপন শেষ হয়েছে। কিন্তু মু্ন্ডুমালা পৌরসভা ও পাচন্দর, বাধাইড় এবং কলমা ইউপির উঁচু জমিগুলো চাষ করা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব এলাকা প্রচন্ড খরাপ্রবন। জমি রোপনের দু,তিন দিন পানি না হলে শুকে যায়। বিশেষ করে বাধাইড় ও মুন্ডুমালা পৌর এবং কলমা ইউপির উপর এলাকার জমিগুলো বেশিরভাগ চাষ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হয়তো একটি চাষ দিয়ে আবার অনেকের জমি মই দিয়ে সমতল করলেই রোপন হয়ে যাবে। এদিকে পাঁচন্দর ও কলমা ইউপির আংশিক জমি রোপন হয়নি। আবার কামারগাঁ ইউপি ছাঐড় মাঠে হিমাগার নির্মাণের কারনে জমি পুকুরে রুপান্তর হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত পানির জন্য জমি চাষ পর্যন্ত করতে পারেননি।

ওই এলাকার বেশকিছু কৃষকরা জানান, হিমাগার নির্মানের শুরুতে বৃষ্টির পানি বের করার জন্য আমরা বলেছিলাম। কিন্তু কোন কর্নপাত না করে রাস্তার নয়নজুলি পর্যন্ত দখল করেছে। যার কারণে পানি বের হচ্ছেনা। আবার সপ্তাহ ধরে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে, পানি থেকে চরম দূর্গন্ধ বের হওয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত পানি বের করার ব্যবস্থা না করলে চাষাবাদ করা যাবেনা বলেও মনে করছেন তারা।

এছাড়াও বাধাইড় ইউপি ও মুন্ডুমালা পৌর এলাকা এবং কলমা ইউপির উত্তর পশ্চিমে হাজার হাজার হেক্টর জমি চাষ করা আছে। কিন্তু বৃষ্টি বা সেচের পানির অভাবে রোপন করতে পারছেন না।

বাধাইড় গ্রামের কৃষক শফিকুল ওই এলাকার সাদিকুল, দুরুল, বাচ্চুসহ অনেকে জানান, রোপা আমন চাষ প্রতি বছর করে থাকেন কৃষকরা। এআবাদই উপজেলাবাসীর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায়। বিগত সময়ে শ্রাবন মাস জুড়ে রোপন হত। কিন্তু আলু চাষের জন্য আষাঢ় ও শ্রাবনের প্রথম সপ্তাহের দিকেই রোপন হয়ে যায়। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে সময়মত বৃষ্টির পানি না হওয়ার কারনে শতশত একর জমিতে আম, বরইসহ নানান বাগান করেছেন কৃষি জমিতে। দুএক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে পুনরায় নতুন ভাবে জমি চাষ করতে হবে। আবার যারা রোপন করেছেন তাদের জমি ফেটে চৌচির হয়ে পড়ে রয়েছে। যাদের জমির পার্শ্বে খাল বা পুকুর আছে তারা কোন রকমে সেচ দিয়ে রোপনকৃত ধান গাছ রক্ষা করছেন। কিন্তু যারা সেচ দিতে পারছেন না তাদের রোপন করা ধান গাছের অবস্থা চরম আশংকা জনক। পানি না পেলে মরে যাবে।

বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক করিম বাধাইড় গ্রাম থেকে মিশন পাড়ায় যাচ্ছিলেন। রাস্তার পার্শ্বে রোপন করা জমি ব্যাপকহারে ফেটে পড়েছে। তিনি জানান, গভীর নলকূপ বা মটর থেকে সেচ দিচ্ছে না। আবার দিবে কি ভাবে, তারপরও সেচ দেয়ার জন্য চালু করলে অল্প সময়ের মধ্যে গভীর নলকূপ বিকল বা পানি উঠেনা। শতশত একর জমি চাষ করা আছে।

স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক নুর মোহাম্মাদ বলেন, অতীতে শ্রাবন মাস জুড়েই জমি রোপন করা হত। কিন্তু আলু চাষের জন্য আগাম রোপন করে থাকেন এখন। কারন রোপনের আগেই আলুর জন্য জমি লীজ হয়ে যায়। এসব টার্গেট করে কৃষকরা বীজও আগাম করেন। দু চার দিনের মধ্যে বৃষ্টির পানি না হলে বীজের বয়স হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বয়স্কো বীজ রোপন করলে ফলন কম হবে। রোপা আমন বৃষ্টির পানি নির্ভর চাষাবাদ। কিন্তু জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের কারনে একদিন বৃষ্টি হচ্ছে তো ছয় সাত দিন বৃষ্টির পানির দেখা নেই। গত ১৪ জুলাই শুক্রবার শেষ বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভারি বর্ষন হয়। ভারি বর্ষনের কারনে সপ্তাহের ব্যবধানে লক্ষমাত্রার দুভাগ জমি রোপন হয়েছে। বিশেষ করে মুন্ডুমালা, বাধাইড় ও কলমা ইউপির উপরি ভাগের জমিগুলোতে পানি নেই। বৃষ্টির পানি পেয়ে কৃষকরা জমি চাষ করতে পারলেও রোপন করতে পারছেন না। গত ১৪ জুলাই শুক্রবার থেকে ২১ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত ৩৪, ৩৩, ৩৫ ও ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সাথে ছিল রোদের প্রচন্ড প্রখরতা ও ভ্যাবসা গরম। ২১ জুলাই শুক্রবারে বৃষ্টির সম্ভবনা ছিল বলে আবহাওয়া দপ্তর অবহিত করেছিল। সন্ধ্যার পর থেকে মেঘলা আকাশ থাকলেও বৃষ্টি নেই, আছে বাতাস।

বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ইউপির বেশির ভাগ জমি রোপন হয়নি। কিন্তু চাষ করা আছে। একটা ভারি বর্ষন হলেই কৃষকরা জমি রোপন করতে পারবেন। কত বিঘামত জমি রোপন হয়নি জানতে চাইলে তিনি জানান, সঠিক হিসেব দেয়া কষ্টকর, এসব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। তবে বেশির ভাগ জমি রোপন হয়নি, আবার যারা রোপন করতে পেরেছেন তাদের জমিতে নেই পানি। বৃষ্টির পানি না হলে সেচের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি আহবান জানান তিনি।

সূত্রে মতে, উপজেলায় মোট আবাদ যোগ্য জমি আছে ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, সেচের আওতায় জমি রয়েছে ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর। সেচ বহির্ভূত জমি আছে ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর, এক ফসলী জমি রয়েছে ৩৪৪ হেক্টর, দুই ফসলী জমি রয়েছে ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর, তিন ফসলী জমি রয়েছে ১৯ হাজার ১০৯ হেক্টর।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, এবারে রোপা আমনের লক্ষমাত্রা ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর, এখন পর্যন্ত রোপন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমি। শ্রাবন মাস জুড়েই রোপা আমন রোপন করে থাকেন কৃষকরা। বৃষ্টির পানি না হলে অবশ্যই সেচের ব্যবস্থা করে জমি রোপন করা হবে। এক ইঞ্চি পতিত জমি রাখা হবে না এবং কৃষকের পাশে থেকে গত বোরো ও আউসে যেরকম বাম্পার ফলন হয়েছে, রোপা আমনেও হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930