IMG-LOGO

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২০ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করলেন ভূমিমন্ত্রী মিনুসঠিক পথে দেশ পরিচালার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম: বিভাগীয় কমিশনারগ্যাস সিলিন্ডার, কসমেটিকস ও নিত্যপণ্যের দোকানে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান ও জরিমানাপুঠিয়ায় জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ছয় মাসের কারাদণ্ডকলম থেমেছে সাংবাদিক আবু সাঈদের, তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি ফজলে হুদাকুষ্টিয়ায় দুই মাসে অ্যানথ্রাক্সে রোগী আক্রান্ত ৫৪ জননওগাঁ জেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সহ-সভাপতি ইয়াবাসহ আটকরাণীনগর মহিলা কলেজে নবীন-বরণনবীন শিক্ষকদের বরণে মুখর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস‘চরিত্র ছোট-বড় বিষয় নয়, বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ’সিরাজগঞ্জ আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভারাজশাহী মহানগরীতে নির্মাণাধীন তিনটিফ্লাইওভার পরিদর্শন করলেন রাসিক প্রশাসকচাঁপাইনবাবগঞ্জে জমি কিনে বিপাকে পুলিশ সদস্যের পরিবার, ‘মিথ্যা মামলার আসামিনিয়ামতপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিতফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Home >> মতামত >> তামাকমুক্ত দেশ গড়ার উদ্যোগ, কোম্পানির অপকৌশল

তামাকমুক্ত দেশ গড়ার উদ্যোগ, কোম্পানির অপকৌশল

আবু নাসের অনীক : বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের অন্যতম একটি কারণ তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার, যা বর্তমানে করোনা সংক্রমণের চেয়েও বেশি ভয়াবহ। মানুষের শরীরে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব কাজ করে ধীরে ধীরে। যে কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের মনোজগতে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির ‘দ্য ইকোনমিক কস্ট অব টোবাকো ইউজ ইন বাংলাদেশ: অ্যা হেলথ কস্ট অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, তামাক ব্যবহারের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা সেই বছরের মোট মৃত্যুর ১৩.৫ শতাংশ।

একই বছরে প্রায় ১৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত রোগে ভুগেছে এবং প্রায় ৬২ হাজার শিশু পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যখাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৬ শতাংশ খরচ বহন করেছে ব্যবহারকারীর পরিবার আর ২৪ শতাংশ মেটানো হয়েছে জনস্বাস্থ্যের বাজেট থেকে।

তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা ও এর কারণে অকাল মৃত্যুর ফলে বার্ষিক উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায় প্রায় ২২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতি ছিল ৩০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা, এর বিপরীতে ২০১৮ সালের দামের হিসাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপিতে তামাক খাতের অবদান ছিল ২২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

এই খাতে অর্থনৈতিক ব্যয়ের চেয়ে আয় কম হয়েছে ৭ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। এই তথ্যকে পাশ কাটিয়ে তামাক কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত প্রচার করা হয় তারা সর্বোচ্চ করদাতা। পরিতাপের বিষয় এই কর প্রাপ্তির মাশুল হিসেবে সরকারকে কয়েক হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় মেটাতে হয়।

বাংলাদেশে এমন দ্বিতীয় কোনো বেসরকারি খাত খুঁজে পাওয়া যাবে না, যার আয়করের জন্য উল্টো সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, এমনকি জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন ক্ষতিকে মেনে নিয়ে এ খাতকে যারা বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে, এর পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করছে, তারা ‘রূপকল্প ২০৪১’-কে নিশ্চিতভাবেই বাধাগ্রস্ত করতে চায়। কারণ জনস্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ‘ভিশন বাংলাদেশ ২০৪১’ অর্জন যে একটি অসম্ভব ব্যাপার, সেটা বোঝার জন্য জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই।

তামাক কোম্পানি প্রশ্ন উত্থাপন করছে, তামাক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কেনো সম্পৃক্ত হচ্ছে? স্থানীয় সরকার (পৌরসভা/ সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ অনুযায়ী, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা’ প্রকাশ করেছে।

গাইডলাইনের ধারা ৮.১ অনুসারে, তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হয়েছে বিক্রয় সীমিতকরণের লক্ষ্যে। এই লাইসেন্সিং ব্যবস্থাটি তামাক কোম্পানির গাত্রদাহের কারণ হয়ে ওঠেছে। ব্যবস্থাটিকে বানচালের জন্য তারা একের পর এক অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে নীতিনির্ধারকদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

তামাক কোম্পানি তাদের পেইড বেনিফিশিয়ারিদের মাধ্যমে একটি বিতর্ক উত্থাপন করছে- লাইসেন্স দেওয়ার অর্থ বৈধতা দেওয়া। আচ্ছা বলুন তো, বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কি অবৈধ? যদি অবৈধ না হয়ে থাকে, তবে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় আনার মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া না দেওয়ার প্রশ্নটি কি একেবারেই অবান্তর নয়? যে বিষয়টি সামনে আসছে সেটি হলো তামাকজাত দ্রব্যের অনিয়ন্ত্রিত বিক্রিকে নিয়ন্ত্রিত করা। যাতে এর ব্যবহার কমে আসে। এটাই এখন তামাক কোম্পানির জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তামাক কোম্পানি তাদের অনুগত বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে বলানো হচ্ছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ও বাড়তি লাইসেন্স বোঝা হিসেবে চাপিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলবে। এটাও বলছে, সরকার অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

স্বল্প আয়ের মানুষদের কি একমাত্র বিক্রয়পণ্য তামাকজাত দ্রব্য? বিড়ি-সিগারেট-জর্দা-গুল বিক্রির পরিবর্তে স্বল্প পুঁজিতে কি তার পক্ষে আর কোনো দ্রব্য বিক্রয় করা সম্ভব নয়? অবশ্যই সম্ভব। কারণ দেশের যেসব স্বল্প আয়ের মানুষ ব্যবসা করে, তারা সবাই তো তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করে না। তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি না করে এসব প্রান্তিক মানুষেরা খাদ্যদ্রব্য অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য এমন আরো অনেক কিছু নিয়েই হকারি করে তাদের জীবনযাত্রা নির্বাহ করছে।

যাদের হোল্ডিং নম্বর নেই, তারা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে পারবে না। সরকার তো তাকে অন্য কিছু বিক্রি করতে নিষেধ করছে না। এর জন্য লাইসেন্সও নিতে বলছে না। তামাকজাত দ্রব্যের পরিবর্তে অন্য কিছু বিক্রি করলেই তো কোনো সমস্যা থাকছে না। বিষয়টি কোনোভাবেই অনানুষ্ঠানিক খাতকে জোর করে আনুষ্ঠানিক খাতে আনার বিষয় নয়। সমস্যাটি স্বল্প আয়ের মানুষদের বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের না, সমস্যা হবে তামাক কোম্পানির। কারণ তাদের উৎপাদিত দ্রব্যের বিক্রি কমে যাবে। ফলশ্রুতিতে উৎপাদনও কমে আসবে।

সরকার সেটাই চাইছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ ঘোষণা বাস্তবায়ন করার জন্য নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমেই ব্যবহার-উৎপাদন এভাবে কমিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশে এমন অনেক ব্যবসা আছে, যার জন্য দ্বৈত লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। সেক্ষেত্রে যাদের হোল্ডিং নম্বর আছে এবং তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা ছাড়া যদি তাদের না চলে, তারা লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা করবে। যাদের দুটি লাইসেন্স করার সামর্থ্য নেই, তারা তামাকজাত দ্রব্যের পরিবর্তে অন্য কিছু বিক্রি করবে।

সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কর তফসিল পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তামাকজাত দ্রব্যের কোম্পানির লাইসেন্স ফি ৫ হাজার টাকা, এজেন্টের ৫ হাজার টাকা, খুচরা বিক্রেতার ৫০০-৩০০ টাকা। অন্যদিকে, প্রাইভেট হাসপাতালের জন্য ৩৫ হাজার টাকা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৭ হাজার ৫০০ টাকা, হেলথ ক্লাব ৫ হাজার টাকা।

তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করে তামাক কোম্পানি এবং লাইসেন্স ফিও সবচেয়ে কম তাদের। অথচ স্বাস্থ্য-শিক্ষা-শরীর চর্চা, যা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখে; তাদের লাইসেন্স ফি বেশি। অন্যদিকে যাদের কারণে জনস্বাস্থ্য সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের ফি কম! প্রকৃতপক্ষে দেশের অন্য সবকিছুর তুলনায় তামাক কোম্পানির লাইসেন্স ফি হওয়া উচিত সবচেয়ে বেশি।

২০৪০ হতে বাকি মাত্র ১৮ বছর। যারা তামাক কোম্পানির পক্ষে এখনো ওকালতি করেন, জানতে ইচ্ছা করে- আপনারা কি স্বপ্ন দেখেন ২০৪০ সালে এসেও বাংলাদেশে তামাক কোম্পানি সর্বোচ্চ করদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে? যদি এই স্বপ্ন দেখে থাকেন, সেটি তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক! তাহলে ইনিয়ে-বিনিয়ে না বলে জোর গলায় বলুন, ‘২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ এই ঘোষণা আপনারা মানেন না।

যারা লাইসেন্সিংয়ের বিরোধিতা করছেন, তাদের প্রতি আহ্বান- সত্যিই যদি ব্যথিত হয়ে থাকেন তবে বিরোধিতা না করে বিকল্প অর্থনৈতিক প্রস্তাবনা দেন। বিশ্বের ইতিহাসে এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাসেও যুগে যুগে সময়ের প্রয়োজনে পেশার পরিবর্তন ঘটেছে। এটা অস্বাভাবিক কোনো বিষয় না।

দেশে একসময় টাইপরাইটার মেশিনে টাইপিস্টরা টাইপ করতেন, কিন্তু এখন আর এই পেশাটি সেভাবে নেই। যারা এর সাথে যুক্ত ছিলেন তারা কি জীবন-যাপন করছেন না?

শৈশবে দেখেছি ফেরিওয়ালারা পুরনো জামার বদলে হাড়ি-পাতিল দিত; এদেরকে এখন দেখা যায় না, তারাও কি জীবিকা ছাড়া রয়েছে? এভাবেই সময়ের প্রয়োজনে পেশা পরিবর্তন হয়ে যায়! আমাদের সবার উচিত বিকল্প চিন্তা করা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তামাক নিয়ন্ত্রণ গাইডলাইন অনুসারে, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর বিরোধিতা আর তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার বিরোধিতা সমার্থক।

লেখক: আবু নাসের অনীক, উন্নয়ন কর্মী।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930