IMG-LOGO

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৪ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
মহাদেবপুরে স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যানগদ ৬ লক্ষ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাইনিয়ামতপুরে আন্ত:জেলা চোর চক্রেরদুই গরুচোর গ্রেপ্তারসিংড়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভানিয়ামতপুরে কাব ক্যাম্পুরীতে স্কাউটদের দক্ষ, সুনাগরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রত্যয়রাণীনগরে এক কেজি গাঁজা ও ১১৩পিস ট্যাপেন্টাডল বড়ি উদ্ধারতানোরে গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারসিংড়ায় অবৈধভাবে সরকারি সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ডরাণীনগরে ভ্রাম্যমান আদালতে ২মাদক সেবির কারাদন্ড১১ হাজার ৪৯৫ জন ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকুষ্টিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত ২বাঘায় গরু চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ১অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিগত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যুচিত্রনায়িকা পরীমনির কোলে ফুটফুটে শিশুরাণীনগরে ৩য় শ্রেনীর শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক
Home >> নগর-গ্রাম >> বিশেষ নিউজ >> বদলগাছীর প্রাচীন গ্রাম বটগোহালী এখন গোয়ালভিটা

বদলগাছীর প্রাচীন গ্রাম বটগোহালী এখন গোয়ালভিটা

ধূমকেতু প্রতিবেদক, বদলগাছী : ঐহিহাসিক বৌদ্ধ বিহার পাহাড়পুর নাম জানেনা এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবেনা। আর এই বিহারটি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক আসে এখানে। বাংলাদেশ তথা গোটা বিশ্বের কাছে এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান। এই ঐতিহাসিক স্থানটি নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত।

পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে সোমপুর বিহার বা বৌদ্ধ বিহান পাহাড়পুরের নাম রয়েগেছে আজো । কিন্তু সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে গেছে পাহাড়পুরের পাশে অবস্থিত বটগোহালী নামের একটি গ্রাম। এটি শুধু গ্রামের নাম ছিলোনা, ঐনামে ছিলো মৌজারও নাম। কালে কালে সেই গ্রামের নাম ও মৌজার নাম বটগোহালী থেকে পরিবর্তন হয়ে গোয়ালভিটা হয়েছে।

এখন বটগোহালী গ্রামের নাম হয়েছে গোয়ালভিটা আর এই গোয়ালভিটা নামেই হয়েছে মৌজা। কালের বিবর্তনে বটগোহালী গ্রামের নামটি হারিয়ে গেছে। বঠগোহালী থেকে গোয়ালভিটা একটি হারিয়ে যাওয়া গ্রামের নাম।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি প্রাচীন গ্রামের নাম ছিলো বটগোহালী এবং এই বটগোহালী নামেই মৌজা ও ছিলো। এই বটগোহালী গ্রামেই একটি প্রাচীন জৈন বিহার ছিল। পাহাড়পুর বিহার খননকালে একটি পান্ডুলিপি পাওয়া যায়।

এই লিপি থেকে জানা যায়, এক ব্রাহ্মণ দম্পতি কর্তৃক বটগোহালীতে অবস্থিত একটি জৈন বিহারের ‘অইত’ পূজা ও একটি বিশ্রামাগারের জন্য কিছু জমি দান করা হয়েছিল। এই জৈন বিহারের প্রধান ছিলেন বিখ্যাত জৈন গুরু গুহ নন্দী । সেই মন্দিরে তাঁর বহু শিষ্য-প্রশিষ্য বসবাস করতেন।

খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে জৈন বিহারটি যে একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ছিল, যা পান্ডুলিপিটি তা প্রমাণ করে। এখানে এখনো যে কোনো জায়গার মাটি খুঁড়লে প্রাচীন ইটের অনেক প্রাচুর্য পাওয়া যায়। এই গ্রামে এখনো রয়েছে কালো পাথর। কালের বিবর্তনে সেই গ্রামে আজ প্রাচীন ইট বা কালো পাথর থাকলেও নেই সেই আদি গ্রামের নাম। কেউ জানেনা সেই নামে এই গ্রাম ছিলো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বদলগাছীর পাহাড়পুরের উত্তর দিকে অবস্থিত গোয়ালভিটা গ্রামে বাঁশঝাড় নিচে ইটের প্রাচুর্য দেখাযায়। গ্রামেই রয়েছে কালো বৃহ্ৎ আকৃতির পাথর। প্রাচীন বটগোহালী গ্রাম আর বর্তমানের গোয়ালভিটা গ্রামের বিভিন্ন মানুষেরা জানিয়েছেন কিংবদন্তির বিভিন্ন গল্প।

এই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফা বলেন, আজকের গোয়ালভিটা গ্রামটিই যে বঠগোহালী গ্রাম সেটা শুনেছি। এখানে একটি জৈন মন্দির থাকার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই গ্রামের মাটির নিচে রয়েছে প্রচুর ইট। সে গুলো হয়তো সেই জৈন মন্দিরের ইট।

গোয়ালভিটা গ্রামের মোস্তফা বলেন, বটগোহালী গ্রামের নাম আমি প্রথম শুনলাম, ইতি পূর্বে আমি শুনিনি। তবে এই গ্রামের মাটির নিচে রয়েছে শুধু ইট আর ইট। বেশিদুর খনন করা যায় না। অনেকেই এই ইট দিয় বাড়ীর প্রাচীর তৈরি করেছে।

একই গ্রামের জহুরুল (৬০) বলেন, হ্যাঁ শুনেছি এই গ্রামের নাম ছিলো বটগোহালী। তবে কত বছর আগে এই গ্রামের নাম পরিবর্তন করে গোয়ালভিটা হয়েছে সেটি তাঁর জানা নেই। আরেক ব্যক্তি আফতাব হোসেন বলেন, বটগোহালী গ্রাম হতে পারে। কিন্তু আজকে এর নাম গোয়ালভিটা। এই গোয়ালভিটাতেই পাহাড়পুর বাজার। এই গ্রামে মাটির উপরে এখনো কালো পাথর আছে। আমার দাদারা গল্প করতো এখানে মসজিদের সামনে দুটি পাথর ছিলো। স্থানীয় লোকজন এই পাথরের উপর বসে ওজু করতো। কিছু বিদেশি লোকজন সেই মসজিদের পাথর রিসার্চ করতে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে লোক মুখে শোনাযায় সেই পাথর দুটি নাকি সোনার পাথর ছিল।

প্রাচীন বটগোহালী গ্রামের বিষয়ে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক রাজ্জাক আহমেদর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, পাহাড়পুর খনন কালে পঞ্চম আব্বাসীয় খলিফা হারুন অর রশিদের শাসনকালের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল। সেই মুদ্রা থেকে ধারণা করা যায় বাগদাদের সঙ্গে পাহাড়পুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। সেই সময় মানুষ নদী ও সমুদ্র পথে যাতায়াত করত। গ্রামে একটি বিল আছে। এই বিল সেই আমলের নূর নদী। এই নূরনদী হয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে বাগদাদে যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল।

তিনি আরও বলেন, সোমপুর বিহারের নিচে আরও ইতিহাস দাফন আছে যা খনন করলে জানা যাবে।

এ ব্যপারে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাষ্টডিয়ান ফজলুল হক আরজু বলেন, এই নামে কোন গ্রাম আছে কিনা জানিনা। আমার চাকুরী এখানে বেশি দিন হয়নি। তবে বিহারের গেটর উওর দিকে ছিল তা আমি জেনেছি। এব্যপারে পূর্বের কাষ্টডিয়ান বলতে পারবে।

এ বিষয়ে ১৯৯০ সালে দায়িত্বে থাকা কাষ্টডিয়ান মাহবুব আলম বলেন, সোমপুর বিহার আজ পাহাড় পুর নামে পরিচয় পেয়েছে। পাহাড়পুর খননকালে পাহাড়পুরের নিচে আরও বিহার আছে বলে জানা গেছে। অন্য এক বিহারের উপর আজকের পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। বটগোহালী গ্রামের নাম বললে তিনি বলেন, আজকের গোয়ালভিটা গ্রামই হয়তো বটগোহালী গ্রাম। এই গ্রামের নিচে প্রাচীনতম সভ্যতা বিদ্যমান রয়েছে। গ্রামের মাটি খনন করলে পুরনো ইট পাওয়া যায়।

এ ব্যপারে বগুড়া আঞ্চলিক প্রত্নতত্ব কর্মকর্তা নাহিদ সুলতানা বলেন, আমরা ২০০৭সালে কিছু খনন কাজ করেছি। পাহাড়পুরের নিচে আরো একটি বিহার থাকার সম্ভাবনা বয়েছে। তবে ঐ স্থানে নতুন করে খনন করলে আরো ইতিহাস বের হবে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031