ধূমকেতু প্রতিবেদক,বাগমারা : সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের প্রবাসী শ্যামল উদ্দিন মাঝির মরদেহ দেশে ফেরার পর জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার রাত ৩টার দিকে শ্যামল উদ্দিন মাঝির কফিনবন্দী মরদেহ তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। দীর্ঘদিন পর প্রিয় মানুষটি দেশে ফিরেছেন—এমন অপেক্ষা ছিল পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু জীবিত শ্যামলের পরিবর্তে কফিনবন্দী মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন প্রতিবেশীরাও।
শুক্রবার বেলা ১১টায় শ্যামল উদ্দিন মাঝির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। শেষবারের মতো তাঁকে একনজর দেখতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ ছুটে আসেন।
সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬)। তিনি রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
গত ৯ আগস্ট রাতে ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, দীর্ঘ আট বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে শ্যামল দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ কথোপকথনেও তিনি শিগগিরই বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরাও তাঁর ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো এক মর্মান্তিক ঘটনায় জীবিত মানুষ হিসেবে নয়, কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন শ্যামল।
শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সন্তানদের কাছে শেষ পর্যন্ত ফিরল বাবার নিথর মরদেহ। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। স্ত্রীর আহাজারি আর তিন কন্যাসন্তানের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রবাসে পরিবারের সুখ-স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া শ্যামলের জীবনের শেষ পরিণতি হলো বড়ই মর্মান্তিক। দীর্ঘ আট বছর পর তিনি দেশে ফিরলেন ঠিকই, কিন্তু জীবিত মানুষ হিসেবে নয়—কফিনবন্দী মরদেহ হয়ে।
শ্যামলের মৃত্যুতে শোকাহত বাগমারার ঝিকড়া ইউনিয়নবাসী। পরিবারের এই কঠিন সময়ে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



