ধূমকেতু প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। কিন্তু সে অনুপাতে পূণর্ভরণ হচ্ছে না। তাই এলাকার লোকজনদের ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।’কথাগুলো বলেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় পুকুর পুনর্খনন ও বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলার পানিহারা গ্রামে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ইএসডিও এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পরিবেশের সুরক্ষায় প্লাস্টিকের ব্যবহার, ইট ভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
এই এলাকার মানুষ পানি নিয়ে অসহায়। তাই সরকারি পুকুরগুলো খনন করা জরুরী। সেই পানি প্রসেসিং করে জনগণের কাচে সরবরাহ করা যেতে পারে। প্রত্যেক এরাকায় যেন পুকুর থাকে। সহজেই মানুষ যেন পানি ব্যবহার করতে পারে আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি।’
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) বাস্তবায়িত ‘গোফরইমপ্যাক্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন করিন থেভো, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী, ইএসডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান, গোফরইমপ্যাক্ট প্রকল্পের প্রধান সাইফ মনজুর-আল-ইসলাম, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মুর্শিদা খাতুন। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ একটি করে গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন। এসময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রকল্পের উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণের পর অতিথিরা অংশগ্রহণমূলক জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি বলেন, এই প্রকল্পটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।’
সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভা শেষে প্রকল্পের সহায়তায় নির্মিত একটি কমিউনিটিভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এই প্ল্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অতিথিরা মন্তব্য করেন।
সৰ্বশেষে অতিথিরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।



