ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : দেশের অভ্যন্তরে চলমান অর্থনৈতিক চাপ ও নানা সমালোচনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন করে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) নিউইয়র্কের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।
এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। পরবর্তীতে বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
এদিকে, এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘দারুণ অর্জন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলেন, “বিশ্বসেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আরও ১১টি কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোয় বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন! যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এটি আরেকটি দারুণ অর্জন, যেখানে লাভবান হবে দুই দেশই।”
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ঢাকায় বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। এরপর মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর বাংলাদেশ সফরে এসে আরও উড়োজাহাজ কেনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বিলিয়ন ডলার খরচ করে নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশীয় বিশ্লেষকদের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে।
এসব সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণ ও নতুন রুট চালুর পরিকল্পনার কারণে সৃষ্ট চাহিদার ভিত্তিতেই এই উড়োজাহাজগুলো কেনা হচ্ছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়। এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন।
বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দেশেই টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা চাওয়া হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরে দ্রুত তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: বিবিসি



