IMG-LOGO

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৪ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
রাণীনগরে এক কেজি গাঁজা ও ১১৩পিস ট্যাপেন্টাডল বড়ি উদ্ধারতানোরে গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারসিংড়ায় অবৈধভাবে সরকারি সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ডরাণীনগরে ভ্রাম্যমান আদালতে ২মাদক সেবির কারাদন্ড১১ হাজার ৪৯৫ জন ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকুষ্টিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত ২বাঘায় গরু চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ১অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিগত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যুচিত্রনায়িকা পরীমনির কোলে ফুটফুটে শিশুরাণীনগরে ৩য় শ্রেনীর শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটকপুঠিয়ায় সারের জন্য মহাসড়ক অবরোধযুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫, আহত ৫বাগমারায় পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ‘এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে’
Home >> রাজশাহী >> বিশেষ নিউজ >> মোবাইল গেমে আসক্ত রাজশাহীর শিক্ষার্থীরা

মোবাইল গেমে আসক্ত রাজশাহীর শিক্ষার্থীরা

ধূমকেতু প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাসের কারণে গত প্রায় এক বছর তিনমাস ধরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সকল ক্লাস পরীক্ষা। গত ১৫ মাসে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে ১৫’র অধিকবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দিনক্ষণ ঠিক করেছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়নি। এমনকি কবে নাগাদ খুলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে নানান কর্মকাণ্ডে।

অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে পরিবারের হাল ধরেছে, অনেক পরিবার তাদের ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন, কেউ বা জড়িয়ে পড়েছেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। এতে শিক্ষাজীবন নষ্ট হতে বসেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ পড়াশোনা ছেড়ে মেতে উঠেছে মোবাইল ফোনের ফ্রি ফায়ার গেমে। শহর কিম্বা গ্রাম সবখানেই উঠিতি বয়সের এসব শিক্ষার্থীরা অবসর সময় হিসাবে ফ্রি ফায়ার গেমকেই বেছে নিয়েছে।

প্রথম দিকে শিক্ষার্থীরা এই গেমকে সময় কাটানোর একটি অংশ হিসাবে বা বিনোদন হিসাবে নিলেও বর্তমান এটি নেশায় পরিণত হয়েছে। রাজশাহীতে ৫ম থেকে শুরু করে অনার্স পড়া শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে ধ্বংসের দারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। মাদকের নেশার মত আসক্ত হয়ে পড়েছে কোমল মতি শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি এই খেলায় ছেলেদের সাথে মেতে উঠেছে মেয়েরাও। শেষ বেলায় এ গেমের নেশা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন পরিবারও। তবে অভিজ্ঞ মহল বলছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসানো মুশকিল হয়ে পড়বে।

জানা গেছে, গত ২০২০ সালের মার্চে করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এরপর টানা ৬মাস শিক্ষার্থীরা বাড়িতে অবস্থান করে। ৬মাস পর গত বছরের আগষ্ট মাসে সরকার শিক্ষার্থীদের বই মুখি করতে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়। অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হওয়ার পর পরের মাসে স্কুল কলেজে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নেয়ার নিদের্শ দেয় সরকার। এসময় ৫ম শ্রেণী থেকে অনার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস করার জন্য নিদের্শনা দেয়া হয়। এই নিদের্শনার পর অভিভাবকরা করোনার ক্রান্তিকালেও তাদের সন্তারদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এড্রোয়েট ফোন কিনে দেন। যদিও স্বচ্ছল পরিবারের পক্ষে কেবল শিক্ষার্থীদের এনড্রোয়েট ফোন কিনে দিতে পেরেছেন। সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই সন্তানের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বাড়ির ঘটিবাটি বিক্রি করে দামি ফোন কিনে দিয়েছিলেন।

পরে দেখা গেছে, গ্রামোঞ্চলে নেটওয়ার্ক সমস্যা, এমবি কিনার টাকা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করতে পারেনি। এরমধ্যেই একেরপর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হলেও তা খোলা হয়নি। গত বছরের ডিসেম্বরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বেশ কিছু পরীক্ষার ফলাফল অটোপাস করে দেয়া হয়। চলতি বছরের চলে ভর্তি প্রক্রিয়া। কিন্তু শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে ভর্তি হলেও ক্লাস করার সৌভাগ্য হয়নি। একটি বছর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ছাড়াই কেটে যায়। শিক্ষার্থীরা আশায় ছিল চলতি বছরের শুরুতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে কিন্তু সে আশাতেও গুড়েবালি। শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস করার জন্য স্মার্ট ফোন কিনে দেয়া হলেও সেই ফোন এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা হাতে স্মাট ফোন পাওয়ার পর ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়ে ফ্রি ফায়ার গেমের দিকে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিনরাত ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়ে থাকছে। শুধু শহরের শিক্ষার্থীরাই নয়, গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও এখন মশগুল এই খেলা নিয়ে।

দেখা গেছে, এক সাথে ১০ থেকে ১২জন উর্তি বয়সের ছেলেরা জটলা বেঁধে খেলছে ফ্রি ফায়ার গেম। তাদের সাথে বাড়ি বাড়ি থেকে যুক্ত হচ্ছে মেয়েরাও। সকাল থেকে তারা এই খেলা শুরু করে, চলে রাত পর্যন্ত। বিশেষ করে বাড়ি থেকে একটু দুরে বাবা-মার চোখের আড়ালে শিক্ষার্থীরা এই গেম খেলে থাকে। নগরীর পাড়ামহল্লা, অলিগলিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের ফি ফায়ার গেমে মজে থাকার দৃশ্য। বিশেষ করে এই গেম বেশি ছড়িয়ে গেছে গ্রামাঞ্চলে। গ্রামের শিক্ষার্থীদের বিনোদনের তেমন কোনো সুযোগ না থাকায় ফি ফায়ার গেমে সময় পার করে। বর্তমান এই গেমে শিক্ষার্থীরা এতোটাই আসক্ত তারা যে শিক্ষার্থী সেটাও ভুলতে বসেছে। শেষ কবে নাগাদ তারা পড়ার টেবিলে বসেছে সেটা কেউ জানে না।

দুর্গাপুর গণকৈড় গ্রামের এইচএসসিতে পড়া শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কলেজে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। ক্লাস নাই তাই পড়াশোনাও নাই। এখন তিনি এলাকায় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে বসে এই গেম খেলে সময় পার করেন।

একই কথা জানান, নগরীর বহরমপুর এলাকার শিক্ষার্থী সেলিম মাহমুদ। তিনি বলেন, কলেজ ছুটি হওয়ার পর আশায় আছি কবে আবার কলেজ খুলবে। যেদিন তিনি শেষ কলেজ করেছেন তারপর আর কখনো বইয়ের আশপাশে যাননি। গত প্রায় ৮মাস থেকে এই গেম নিয়ে পড়ে আছেন।

দুর্গাপুর তাদেরপুর ডিগ্রি কলেজের এক প্রভাষক জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের বইমুখি করতে বিনা বেতনে প্রাইভেট পড়াতেন। কিন্তু প্রাইভেট পড়ানো বাদ দেয়ার কারণে ওইসব শিক্ষার্থীরা এখন সময় কাটায় ফি ফায়ার গেম নিয়ে। তিনি বলেন জাতি মেধাশূণ্য হয়ে যাচ্ছে। এই শূণ্যতা পুরণ হবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে অনেক শিক্ষকরাই বলছেন শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরাতে হলে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। নইলে গেমে আসক্ত শিক্ষার্থীরা বই মুখি হবে না।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মাহবুব হোসেন বৃহস্পতিবার জানিয়েছিন, করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে যাওয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইমেন্ট শুরু করতে মাউশিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি শুরু করা হবে। তবে অ্যাসাইমেন্ট আরো সৃজনশীল করতে কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। শনিবার থেকে পুনরায় অ্যাসাইমেন্টের কাজ শুরু করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মাউশির পরিচালক (বিদ্যালয়) অধ্যাপক বেলাল হোসাইন।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031