IMG-LOGO

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহতবাঘায় আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত: র‍্যালি ও আলোচনা সভাবন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে এবার ভূমিকম্প!জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আনন্দ শোভাযাত্রাকুষ্টিয়ায় যুবদল নেতার ছেলের পিস্তল হাতে ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ সম্মেলনে দাবি ‘খেলনা’মান্দায় ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিনিয়ামতপুরে খোঁয়াড় বন্দী হচ্ছে বিলুপ্তির ‘খোঁয়াড়ে’তানোরে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালনবাগমারায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিতসিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক শপিং মল, মার্কেট ও দোকানে রাত ৮:০০ টার পরে মোবাইল কোর্টঅপরাধী যেই হোক তার স্থান হবে জেলেই-এসপি তারিকুলপুঠিয়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপনরাণীনগরে জনসচেতনতামুলক র‍্যালি ও আলোচনাসভাচাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যুসিরাজগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে উন্নয়ন কার্যক্রম বিষয়ে নারী সমাবেশে
Home >> নগর-গ্রাম >> বিশেষ নিউজ >> মান্দায় অরক্ষিত বধ্যভূমি ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল

মান্দায় অরক্ষিত বধ্যভূমি ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল

ধূমকেতু প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দায় পাকহানাদার বাহিনীর ব্রাশফায়ারে নিহত ১৬ শহীদের স্মৃতিবিজড়িত মনোহরপুর বধ্যভূমি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অরক্ষিত রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। এটি রক্ষার জন্য পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ সদস্যরা। বধ্যভ‚মি ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় শহীদ পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছেন, বধ্যভ‚মিতে প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও ভূমি জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলেই প্রাচীর নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

মনোহরপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আলতা বিবি জানান, মনোহরপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প রয়েছে রাজাকারদের এমন সংবাদে একাত্তরের ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে গ্রামটি আক্রমণ করে হানাদার বাহিনী। হানাদার বাহিনীর সদস্যরা আগুনে পুড়িয়ে দেয় গ্রামের ১০-১২টি বসতবাড়িসহ একটি মসজিদ। এ সময় তাঁদের হাতে আটক হন মনোহরপুর, তুড়ুকগ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের ১৬ জন নিরীহ মুক্তিকামী মানুষ। পরে গ্রামের পশ্চিমধারে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয় তাঁদের।

গ্রামের জিল্লুর রহমান বলেন, একাত্তরের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে মনোহরপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী প্রামানিকের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা একটি ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন। এ ক্যাম্প থেকে ৬ ডিসেম্বর নিয়ামতপুর থানা আক্রমণসহ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজাকাররা ক্ষুব্ধ হন।

পরে রাজাকাররা কালিকাপুর স্কুল মাঠে স্থাপিত পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান বিষয়ে অবহিত করেন। সেই সংবাদে ১৩ ডিসেম্বর কালিকাপুর থেকে পায়ে হেঁটে সদলপুর হয়ে ওই দিন বিকেলে মনোহরপুর গ্রাম আক্রমণ করে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি বাহিনী।

গ্রামের কেয়াম হোসেন বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বধ্যভূমির পশ্চিমধারে শহীদ মিনারসহ একটি ফলকে ১৬ শহীদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান বলেন, ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি শহীদ মিনারের পাশে উপজেলা এলজিইডির তত্ত¡াবধানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে বধ্যভূমির চারপাশে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে এলজিইডি। কিন্তু ভ‚মি জটিলতায় কাজটি বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মনোহরপুর মৌজার আরএস ১২০ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২৫০ দাগের ১৮ শতক জমিতে একাত্তরের ১৩ ডিসেম্বর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। ওই খতিয়ানের মালিক হিন্দু স¤প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তি। খতিয়ানে উল্লেখিত অন্য ৪টি দাগে দেবস্থান ও হিন্দু জনসাধারণের ব্যবহার্য উল্লেখ থাকলেও ২৫০ দাগের শ্রেণিতে গড়লায়েক পতিত ও মন্তব্য কলাম ফাঁকা রয়েছে। এতে করে ওই স¤প্রদায়ের লোকজন বধ্যভূমির প্রাচীর নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়।

জমির দাবিদার নিরঞ্জন চন্দ্র সরকার বলেন, বধ্যভ‚মি চত্বরে তাঁদের খতিয়ানভ‚ক্ত ১৮ শতক সম্পত্তিতে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। আদালতে এ সংক্রান্ত একটি মামলা করা হলে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। জমির নায্য মূল্য দেওয়া হলে বধ্যভ‚মির অনুকুলে জমি হস্তান্তর করা হবে।

শহীদ পরিবারের দাবি, ২৫০ নম্বর দাগে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। এ দাগের পূর্বধারে গণকবর ও পশ্চিমধারে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। একই দাগে স্থাপিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। সেখানে গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আগামি প্রজন্ম সহজেই মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

তাই ভূমি জটিলতা কাটিয়ে শহীদের স্মৃতি রক্ষায় বধ্যভূমিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ্ত কামনা করেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

এ প্রসঙ্গে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন চন্দ্র রায় বলেন, মনোহরপুর বধ্যভ‚মির রক্ষণাবেক্ষন ও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন হলেই গ্রাচীর নির্মাণসহ অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031