IMG-LOGO

রবিবার, ৯ই আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৫ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫ই সফর ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
মান্দায় ডলার দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২রাজশাহী জেলা ট্রাক শ্রমিকদের মানববন্ধনবগুড়াতে প্রায় ৪০০ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্প পার্কের ঘোষণা বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রীরট্রাক শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে পাল্লাপাল্টি কর্মসূচি,কমিটির মেয়াদ শেষ না হলে নির্বাচন নয়তানোরে কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত‘জুলাই জাদুঘরে ভারতীয় আগ্রাসনের চিত্র নেই’‘গণঅভ্যুত্থান নিউটনের আপেল নয়, ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল’আত্রাইয়ে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-৮হাম ও উপসর্গে দেশে আরও ৪ শিশুর মৃত্যুহলিউডে আরও এক ধাপ এগোলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া‘গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেন জামায়াত আমির’মহানগরীতে আরএমপি’র পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে নারীসহ ১৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারঢাকায় এমপি আনুকে সংবর্ধনা দিল সিংড়া উপজেলা কল্যাণ সমিতিচাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ১৫০ বোতল সিরাপসহ আটক ১‘বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র’
Home >> কৃষি >> তানোরে আমন খেতে সাতরা পোকার আক্রমণ

ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

তানোরে আমন খেতে সাতরা পোকার আক্রমণ

ধূমকেতু প্রতিবেদক, তানোর : রাজশাহীর তানোরে আমন খেতে সাতরা পোকার আক্রমণে ধান গাছের পাতা হলুদ রং হয়ে পড়েছে। শুধু হলুদ কালার না যেখানে এই পোকার আক্রমণ সেখানকার ধান গাছ নেই বললেই চলে। এরোগ থেকে ধান গাছের পাতা কে রক্ষা করতে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করেও দূর করতে পারেন নি কৃষক রা। যে জমিতে এর আক্রমণ সেই জমিতে অর্ধেক ফলনও হবে না।

অপরদিকে রোগ দূর করতে কৃষি অফিস থেকে সঠিক পরামর্শ পায়নি কৃষকরা। একারণে রোগ দূর হয়নি, আস্তে আস্তে পুরো জমির ধান পুড়ে যাওয়ার মত অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষি অফিসের উদাসীনতার কারনে রোগ দূর করতে পারেন নি কৃষক রা।

পৌর এলাকার সিন্দুকাই গ্রামের কৃষক তাইনুস বলেন, আমি ৮ বিঘা জমিতে রোপা আমন লাগিয়েছি। প্রায় জমিতে এরোগের প্রভাব পড়লেও তার মধ্যে এক বিঘা জমিতে এরোগ প্রচুর আকার ধারণ করেছে। পচন ও কারেন্ট পোকার বিষ দিয়েও দূর হয়নি। এখন পর্যন্ত কৃষি অফিসের লোকজনের কোন দেখাও পাওয়া যায়নি। একারণে রোগও দূর হয়নি এবং একবিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রকার ভেদে ১২/১৪ হাজার টাকা।

পৌর এলাকার গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক সাহেব আলী বলেন প্রায় জমিতে এরোগের প্রভাব দেখা দিয়েছে। আমার ১০ কাঠা জমিতে এরোগ হয়েছে, প্রথম দিকে মনে হয়েছিল কারেন্ট পোকা কিংবা পচন রোগের কারনে ধান গাছের পাতা হলুদ হয়ে পড়েছে। শুধু আমার না বড় ভাই মোস্তফার দেড় বিঘা জমিতে এরোগ, তসলিমের একবিঘা, কাবিলের, ১৫ কাঠা, জমিতে। এধরণের রোগ আগে কখনো দেখা যায়নি একারণে কারেন্ট পোক ও পচনের বিষ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগ দূর হওয়ার বিপরীতে দিনের দিন ধান গাছের পাতা পুড়ে যাচ্ছিল। এখন বসে গেছে, ফলন হবেনা।

পাঁচন্দর ইউপির প্রানপুর পাঠাকাটা গ্রামের কৃষক কামরুল বলেন, প্রথম দিকে অল্প পরিমানে ধানগাছের পাতা হলুদ আকার ধারন করে। আমি ২০ বিঘা জমিতে রোপা আমন লাগিয়েছে, এর মধ্যে ১ বিঘা জমির ধানে এরোগ।

তিনি আরও বলেন জাহাঙ্গীরের ২ বিঘা, এরবান ৭ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেছে তার মধ্যে দেড় বিঘায় এরোগ, রফিকের, ১৪ বিঘার মধ্যে একবিঘায়, আইনুল মাস্টার ৭ বিঘের মধ্যে দেড় বিঘায় রোগের আক্রমণ। রোগটি এবার প্রথম বলে মনে করছেন কৃষকরা। এজন্য তারা বুঝতেই পারেন নি কিভাবে রোগ দূর করতে হবে। অনেকে বালাইনাশক দোকানীর পরামর্শে বিষ দিয়েছেন, কিন্ত কোন ফল পায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর থেকে মুন্ডুমালা পর্যন্ত জমি গুলোতে এরোগের প্রভাব প্রচুর পরিমানে। জমির মাঝে মাঝে ধানগাছের পাতা হলুদ আকার ধারণ করে বসে গেছে। আবার অনেক জমিতে চার সাইড হলুদ লালচে হয়ে আছে। যেখানে রোগের আক্রমণ হয়েছে, সেখানে ধানের শীষ গজাবে না। কারন ধীরে ধীরে বসে গেছে, দূর করার কোন উপায় নেই। যার কারনে হতাশ হয়ে কৃষক রা রোগ দূর করতে না পেরে ফলনের আসা ছেড়ে দিয়েছেন।

লতিফ নামের এক কৃষক বলেন, প্রচন্ড খরার কারণে এরোগের আবির্ভাব। আমরা কোন সময় মাঠে কৃষি অফিসের লোকজন কে দেখিনি। আমরা পা ফাটা লুঙ্গি পরা কৃষক। সারা দিন মাঠে কাজ করি। কৃষি দপ্তরের কাছ মাঠে থাকা। কিন্তু তারাতো মাঠেই আসে না।

কমষকরা আরও বলেন, এবার রোপা আমন রোপনের সময় ও তার পর থেকে প্রচুর খরতাপের মধ্যে পড়ে রোপা আমনের জমি। সেচ পানি নিয়ে ধান গাছ কোন রকম বাছিয়ে রাখা হয়েছিল। খরার কারণে প্রচুর পরিমানে আগাছার জন্ম। এক বিঘা জমিতে আগাছা দূর করতে নিম্মে ৪ হাজার উর্ধ্বে ৬ হাজার টাকাও লেগেছে। রোপা আমন চাষাবাদ হয় রহমতের বৃষ্টির পানিতে। একারণে অন্য আবাদের চেয়ে খরচও কম হয়। কিন্তু এবারের চিত্র পুরোটাই উল্টো ছিল। রোপন করতে হয়েছে সেচের পানি দিয়ে এবং রোপণের পর কয়েকবার করে বিভিন্ন ভাবে সেচ দেয়া হয়েছিল। এছাড়াও কীটনাশক ও সারের বাড়তি দাম। সব মিলে অন্য বছরের তুলনায় দ্বিগুন খরচ গুনতে হয়েছে। কিন্তু সাতরা পোকার আক্রমণের কারণে ফলনের চরম বিপর্যয় ঘটবে। ধান গাছের বয়স আড়াই থেকে তিন মাস। এখন পর্যন্ত বিঘায় খরচ ১৪/১৬ হাজার টাকা।

আদর্শ কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, প্রচন্ড খরতাপের কারণে এরোগের সৃষ্টি। এটা সাতরা পোকার আক্রমণের কারণে পাতা হলুদ হয়ে বসে গেছে। জমির যেখানে এরোগের আক্রমণ হয়েছে সেখানে ফলন হবে না। বিশেষ করে উঁচু জমিতে এরোগের আক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এরোগের আক্রমণ দেখার সাথে সাথে সেখান কার ধান গাছ তুলে ফেলে নতুন ধানগাছ রোপন করতে হত। তাহলে ফলন পেত।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, জিংক বা ক্রৃমির জন্য এধরণের রোগ হতে পারে। তবে জমিতে না গিয়ে বলা যাবে না। তাহলে কি এরোগ সম্পর্কে অবহিত না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অজানা না কিছু কিছু জায়গায় গিয়েছি বলে দায় সারেন এই কর্মকর্তা। তিনি প্রতিদিন শহর থেকে অফিস করেন। অথচ প্রতিটি সময় কৃষকের পাশে থাকার জন্য সরকার থেকে গাড়ি দেয়া হয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ কর্মী থাকলেও কৃষকের জমিতে দেখা মিলেনা বলেও কৃষকদের অহরহ অভিযোগ। এবারে উপজেলায় ২১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষাবাদ হয়েছে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031