IMG-LOGO

মঙ্গলবার, ২৫ই আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১০ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
সাগরে ট্রলার ডুবী, উদ্ধার ৮, নিখোঁজ ৫জনপুঠিয়ায় বাবার সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যুসিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি‘ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ‘লোকদেখানো’’শিশু ধর্ষণে গর্ভে জন্ম নিল কন্যাসন্তান, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল বাবার পরিচয়বাগমারার নরদাশে ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কথা শুনলেন এমপি ডা. আব্দুল বারীসিংড়ায় অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধারশ্লীলতাহানির দায়ে আদায় ২ লাখ ৯০ হাজার, বোর্ড খরচ দেড় লাখ !বাগমারার নন্দনপুর (চিকাবাড়ি) বাজারে নতুন ও পুরাতন মোটরসাইকেল আজিজ মটরস এর উদ্বোধনতানোরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্নগোমস্তাপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিতনন্দীগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চার সার বিক্রেতার ৫৫ হাজার টাকা জরিমানারাণীনগরে যমজ দুই বোনসহ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান‘ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে’টিকটকার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, স্বামীর সংবাদ সম্মেলন
Home >> নগর-গ্রাম >> বিশেষ নিউজ >> বদলগাছীতে নাম মাত্র কাজ করে পুরো চাল আত্মসাৎ

দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ ২৩ মে: টন

বদলগাছীতে নাম মাত্র কাজ করে পুরো চাল আত্মসাৎ

ধূমকেতু প্রতিবেদক, বদলগাছী : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) দুটি প্রকল্পে নাম মাত্র লোক দেখানো কাজ করা হয়েছে। ওই দুই প্রকল্পের প্রায় ২০ মে: টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের সভাপতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে ভুয়া মাষ্টাররোল তৈরি করে এসব চাল উত্তলোন কারা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় বদলগাছী উপজেলার নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ২য় কিস্তির ৭টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে অনুমোদিত প্রকল্প (কাবিখা) কর্মসূচির ১ নম্বর প্রকল্প বদলগাছী সদর ইউনিয়নের ছেলেকালী শ্বশান ঘাটে মাটি ভরাটের জন্য ১৫ মে: টন ও ৬নং প্রকল্প আধাইপুর ইউনিয়নের বৈকন্ঠপুর মোকলেছ মুহুরীর বাড়ী হতে বৈকন্ঠপুর পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৮ মে: টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই দুটি প্রকল্পের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২৩ মে: টন চাল যা সরকারী বাজার মূল্য ১১ লক্ষ ৪৪ হাজার ২শত ৮ টাকা মাত্র।

২০২২-২৩ অর্থ বছর গত জুন মাসে এই প্রকল্পগুলোর কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এ দুটি প্রকল্পের মধ্যে ১ নং প্রকল্পে ২ মে:টন ও ৬নং প্রকল্পে ১ মে: টন চালের নাম মাত্র কাজ হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখে ও শুনে জানা যায়, বদলগাছী সদর ইউনিয়নের ছেলেকালী শ্বশান ঘাটটি ছোট যমুনা নদীর ধারে অবস্থিত। সেখানে ছোট যমুনা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রায় ১ লক্ষ টাকার বালি ভরাট করা হয়েছে। সেখানে নেই কোন প্রকল্পের সাইনবোর্ড। সরকারী কাজ সমন্ধে জানেনা সেখানকার কোন ব্যক্তিবর্গ ও জনসাধারনেরা। জানেনা কেউ, যে এখানে বরাদ্দ কতো।

ছেলেকালী শ্বশান ঘাটের আশে পাশের বসবাসরত জনসাধান দের সাথে কথা বললে তারা বলেন, দেড় মাস আগে আমাদের ছোট যমুনা নদীতে অবৈধ্যভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে এই শ্বশানে কয়েকদিন বালি উত্তোলন করে ভরাট করেছেন। সেখানে মোটামুটি ১ লক্ষ টাকার মতো বালি ভরাট করা হয়েছে।

অপরদিকে গত ৬ এপ্রিল রতজ কান্ত গোস্বামী ছেলেকালী মন্দীর ও মহাশ্বশানের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। যারা শ্বশান সংস্কার কাজে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক তাঁদেরকে মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে বলে। ইতিমধ্যে যারা সহযোগিতা করেছেন তাঁদের সহযোগিতার পরিমাণ সহ ২৬ জনের একটি তালিকা তাঁর ফেইসবুকে আপলোড করেন।

বিষয়টি এই প্রতিবেদকের নজরে আসলে সেই রজত কান্ত গোস্বামীর সাথে যোগাযোগ করে কথা বললে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা ইতি মেধ্যে এই চাঁদা তুলে শ্বশানের বাউন্ডারী ওয়ালসহ শ্বশানের বিভিন্ন সংস্কার কাজ মাস দেড়েক আগে করেছি। সেখানেতো সরকারী ১৫ মে:টন চাল বরাদ্দ রয়েছে বলে পশ্ন করলে তিনি বলেন সেটি আমার জানা নেই। তবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ভগিরত আমাদের বলে ছিলো আমি কিছু মাটি কেটে দিবো।

কাজ সমন্ধে জানতে ছেলেকালী মন্দীর ও শ্বশানের সভাপতি বাবু জীতেন্দ্র নাথ মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা চাঁদা দিয়ে ঐ শ্বশান ঘাটের সংস্কারের কাজ করেছি। সেখানে সংস্কারের জন্য কাবিখার ১৫ মে:টন চাল সরকারীভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে সেটি দিয়ে কি করেছেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সরকারী বরাদ্দের কথা আমার জানা নেই তবে আমার শালক ভগিরত আমাদেকে বলে ছিলো কিছু বালি/মাটি দিয়ে জায়গাটি ভরাট করে দিবে। তবে কতো বরাদ্দ সেখানে সেটি আমি জানিনা।

আধাইপুর ইউনিয়নের বৈকন্ঠপুর মোখলেছ মুহুরীর বাড়ী হতে বৈকন্ঠপুর পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কথা থাকলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায় আরেক চিত্র। মোখলেছ মুহুরীর বাড়ী হতে বৈকন্ঠপুর পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কথা থাকলেও নাম মাত্র রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে মোখলেছ মুহুরীর বাড়ীর হতে কাশিয়ারা ব্রীজ পর্যন্ত। সেখানেও নেই কোন সাইনবোর্ড। এলাকার জনগণ জানেনা সেখানে বরাদ্ধ কতো।

সেখানকার বসবাসকারী কাশিয়ারা গ্রামের ওয়াহেদ আলী, ফরিদা, আশরাফুল ও বৈকন্ঠপুর গ্রামের মোরশের্দ সহ প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তির সাথে কথা বললে তারা জানান, গত দেড় মাস আগে ১০ জন শ্রমিক এসে মোখলেছ মুহুরীর বাড়ী হতে এই কাশিয়ারা ব্রীজ পর্যন্ত ৭/৮ দিন যাবাত রাস্তার যেখানে যেখানে গর্ত হয়েছিলো সেখানে মাটি দিয়ে পুরুন করেছে এবং রাস্তায় সামান্য কিছু মাটি দিয়ে ডেসিং করেছে। সেখানে মোট এটুকু রাস্তা সংস্কার করতে সর্ব উচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা /১ মে:টন চাল খরচ হয়েছে।

ওয়াহেদ আলী বলেন, যখন রাস্তায় মাটি কেটে ছিলো তখন ঐ রাস্তা দিয়ে আমি ভ্যান গাড়ীতে করে জমিতে জৈব্য সার পরিবহন করে নিয়ে যাই। তাহলে বুঝেন এখানে কি রকম মাটি কাটা হয়েছে।

কাবিখা ১নং প্রকল্পের সভাপতি (পিআইসি) ছেলেকালী শ্বশান ঘাটের সাধারন সম্পাদক বিভাষ কুমার অধিকারী বলেন, আমি কিছুই জানিনা আমাকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী ভগিরত কুমার মন্ডল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে গিয়ে কয়েকটা কাগজে স্বাক্ষর করতে বললো তাই আমি স্বাক্ষর করেছি। তাহলে কি ঐ প্রকল্পের কাজ আপনি করেননি বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি পরে কথা বলবো বলে ফোনটি কেটে দেন।

কাবিখা ৬ নং প্রকল্পের সভাপতি (পিআইসি) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী ভগিরত কুমার মন্ডল বলেন, আমি সত্য কথা বলছি বৈকন্ঠপুরের ঐ রাস্তায় আমি ৭০ হাজার টাকার মাটি কেটেছি। আর অফিস খরচের জন্য আমার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা কেটে নিয়েছে। তাহলে আমি কি কাজ করবো। আমাকেওতো লাভ করতে হবে। আপনার ঐ প্রকল্পের রাস্তা সংস্কারের কথা ছিলো বৈকন্ঠপুর মোখলেছ মুহুরীর বাড়ী হতে বৈকন্ঠপুর পাকা রাস্তা পর্যন্ত কিন্তু আপনি রাস্তা সংস্কার করেছেন মোখলেছ মুহুরীর বাড়ী থেকে কাশিয়ারা ব্রীজ পর্যন্ত পুরো রাস্তা করলেন না কেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর প্রদান করেননি।

বদলগাছী ছেলেকালী শ্বশান ঘাটে মাটি ভরাট প্রকল্পটিও নাকি আপনি করেছেন বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই প্রথম এমপি সাহেব আমাকে এই দুটি প্রকল্প দিয়েছে ঐ প্রকল্পের সভাপতি বিভাষ কুমার অধিকারী । কাজটি আমি করেছি। ঐ প্রকল্পে ছোট যমুনা নদী থেকে অবৈধ্যভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নাম মাত্র প্রায় ১ লক্ষ টাকা/ ২ মে:টন চাল খরচ করে বালি ভরাট করে দিয়েছেন বলে অপর প্রশ্ন করলে তিনি কোন সদ উত্তর প্রদান করেন নি।

অপরদিকে আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যার একে.এম. রেজাউল কবির পল্টন বলেন, ঐ রাস্তায় এর আগে চল্লিশ দিনের কর্মসূচীর লোক দিয়ে মাটি কাটা হয়ে ছিলো।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ময়নুল ইসলাম বলেন, আমি কিছু বলতে পারবো না বলে তিনি সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য অনুরোধ করেন।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031