IMG-LOGO

শনিবার, ১৮ই জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩ই সফর ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দেয়াল টপকে পালিয়েছেন কয়েদিচাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক দুইটি অভিযানে এস্কাফ সিরাপ ও ভারতীয় ফোন জব্দচাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাণীনগরে গৃহবধুর আত্মহত্যা প্ররোচনায় মামলাপশ্চিমবঙ্গে স্কুল বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ২ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৩রাজশাহী মহানগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৩‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে’‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে হতে পারে ৩.৫ শতাংশ’গাজায় ইসরায়েলি হা*ম*লা*য় আরও ৪ ফিলিস্তিনি নি*হ*তরাজশাহীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাবাঘা চারঘাটে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে দেয়া হবে না: রথযাত্রায় এমপি চাঁদনিয়ামতপুরে‘জুলাই শহীদ দিবস’উদযাপনদুই দফা দাবিতে বাগমারায় শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের স্মারকলিপি প্রদানমান্দায় জুলাই শহীদ দিবস পালিতফুলবাড়ীতে কৃষক কার্ড বিতরণে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন
Home >> লাইফস্টাইল >> শ্রমজীবী নারীর আন্দোলন, একটি দিবসের সূচনা

শ্রমজীবী নারীর আন্দোলন, একটি দিবসের সূচনা

ছবি-সংগৃহীত

ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : ১৮৫৭ সালের গ্রীষ্মের এক সকাল, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ফ্যাক্টরিগুলোর ধোঁয়াশা ভরা গলিপথে হাজার হাজার নারী শ্রমিক একত্রিত হয়েছিল। তারা কেবল শ্রমিক নন, ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা। যারা প্রতিষ্ঠা করেছেন নারী-পুরুষের সমান অধিকার, নিরাপদ কাজের পরিবেশ এবং মানুষের মতো জীবনযাপন।

নারীদের গলা ভারী ছিল ক্লান্তি ও অবহেলার সঙ্গে, কিন্তু দৃঢ় ছিল চেতনা। তারা জানতেন, পরিবর্তন নিজের জন্য লড়াই না করলে কখনো পরিবর্তন সম্ভব না। সেদিনের আন্দোলন কেবল শ্রমিকদের অধিকার নয়, নারীর স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

এই আন্দোলন থেকেই জন্ম নিল আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আদর্শ একটি দিন, যা কেবল ফুল বা শুভেচ্ছার জন্য নয়, বরং নারীর সংগ্রাম, সাহস, ও অবদানকে সম্মান জানানোর প্রতীক। সময়ের স্রোতে এই দিবস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ আমরা প্রতি বছর ৮ মার্চ নারী শ্রমিকদের সেসব যাত্রা স্মরণ করি। যাদের মাধ্যমে লড়াই শুরু হয়েছিল শ্রমক্ষেত্রে ন্যায় ও মর্যাদার জন্য, এবং যা কেবল একটি আন্দোলন নয়, মানবতার এক প্রতিশ্রুতিও বটে।

নারী শ্রমিকদের জীবন সহজ ছিল না। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ের ফ্যাক্টরিগুলোতে নারীরা কাজ করতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, প্রায়শই শিশুদেরও কাজ করানো হতো এতে। কিন্তু বেতন, কাজের পরিবেশ নিরাপত্তা কিছুই ছিল না তাদের। সাধারণ কাজের টাকাই ঠিকমতো পেতেন না তারা সেখানে ওভারটাইমের টাকা তো দূরের বিষয়। সুষম বেতন, নিরাপদ কাজের পরিবেশ এই ছিল তাদের মৌলিক দাবি।

প্রায় ১৫ হাজার নারী সেদিন নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় নেমেছিলেন। নারীর অধিকার রক্ষার আন্দোলন করেছিলেন তারা। ১৮৫৭ সালের নারীর ঐতিহাসিক ধর্মঘট ও হরতালের মাধ্যমে তাদের আহ্বান কেবল স্থানীয় সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা আন্তর্জাতিক শ্রম আন্দোলনের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে রইলো।

শ্রমজীবী নারীদের এই সংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীর ক্ষমতায়ন কেবল স্লোগান নয়, এটি প্রতিদিনের লড়াই। অফিস হোক, কারখানা বা গৃহপরিচর্যকারী নারী প্রতিনিয়ত দায়িত্ব ও শ্রমের ভার বহন করে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের আহ্বান জানায়, সেই সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানাতে, সমান সুযোগ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কয়েকজন সাহসী নারী এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রথম নারী দিবস পালন করা হয়। এটি জাতীয় নারী দিবস হিসেবে পরিচিত ছিল। অ্যাক্টিভিস্ট থেরেসা মালকিয়েলের পরামর্শে আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি এই তারিখে দিনটি উদযাপন করে।

১৯১০ সালের আগস্টে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে জার্মান রাজনীতিবিদ ও সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়-১৯১১ সাল থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

১৯১৪ সালে জার্মানিতে প্রথমবার ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন শুরু করে। ১৯৭৭ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয় যে প্রতি বছর ৮ মার্চ দিনটি ব্যাপকভাবে পালন করা হবে। ১৯৯৬ সাল থেকে জাতিসংঘ প্রতি বছর নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ঘোষণা করে আসছে। নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সাফল্যগাথা ও লিঙ্গ সমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য দিয়ে করা হয় এসব প্রতিপাদ্য।

১৯৭৫ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র পালন করে নারী দিবস। ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ সদস্য দেশকে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানানোর পর থেকে ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় দিবসটি। বিশ্বের অনেক দেশে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

আজকের দিনে আমরা কেবল ফুল বা শুভেচ্ছা পাঠাই না; আমরা সেই নারীর লড়াইকে স্মরণ করি, যিনি ১৮৫৭ সালে তার সহকর্মীদের সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা তাদের কণ্ঠস্বরকে পুনর্জীবিত করি যারা বলেছিলেন, ‘আমাদের শ্রম মূল্যবান, আমাদের জীবন সম্মানের যোগ্য। সেই চেতনা এখনো আমাদের প্রেরণা দেয়।’

সেই প্রেরণা থেকেই ৮ মার্চের আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় নারীর প্রতি সম্মান, নারীর প্রতি সমতা, এবং নারীর জন্য সুবিচার। এটি একটি দিন যখন আমরা বিশ্বকে মনে করায় যে, নারীর অবদান শুধু ইতিহাসের পাতায় নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধে সেই নারীরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন, এবং তাদের ইতিহাস আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930