ধূমকেতু প্রতিবেদক : রাজশাহীর তরুণ প্রযুক্তি গবেষকদের মধ্যে আলোচিত নাম মো. নাহিদ আলম। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ রাজশাহীতে বসবাস করছেন।
প্রযুক্তির প্রতি তাঁর আগ্রহ স্কুলজীবন থেকেই। ২০১২ সালে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় জায়গা করে নেন। অষ্টম শ্রেণি থেকেই অ্যান্ড্রয়েড কাস্টম রম ও সফটওয়্যার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন।
তবে, তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। মা চেয়েছিলেন চিকিৎসক, বাবা চেয়েছিলেন সরকারি চাকরিজীবী হবেন। ২০১৮ সালে মাধ্যমিকের পর পুলিশ বাহিনীতে চাকরির সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি। উচ্চমাধ্যমিকের পরিবর্তে পরিবারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে প্রযুক্তিকে বেছে নিয়ে ভর্তি হন রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। পরে কম্পিউটার প্রযুক্তিতে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে (সর্বমোট সিজিপিএ ৩.৭১) ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।
করোনাকালে ব্যবহারকারী ইন্টারফেস ও অভিজ্ঞতা নকশা শেখার পাশাপাশি মুক্তপেশায় যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে গুগলের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিকভাবে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁর কর্মজীবনে যোগ হয়। তবে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর গুগলের চুক্তিবদ্ধ চাকরি থেকে বেরিয়ে এসে গবেষণায় পুরোপুরি মনোযোগ দেন তিনি।
উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকার উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতায় রাজশাহীতে ফেরেন। পরে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার ধারাবাহিকতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিজ্ঞান উৎসবে একটি প্রকল্প নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় ও আর্থিক সংকটের মধ্যেই ‘ড্রি বিজ’ নিয়ে বিশ্বরেকর্ড স্বীকৃতির প্রচেষ্টা চালান তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট ধারণার স্বত্ব নিয়ে জটিলতায় সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।
এরপর আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোর৪২-এ দূরবর্তীভাবে কাজের সুযোগ পান তিনি। একই সময়ে আইন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে তোলেন ‘লেক্সগ্লোবাল বিডি’। প্রকল্পটির প্রাথমিক ধারণায় তাঁর সাবেক জীবনসঙ্গী ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরাবীন রিয়ার একটি বুদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জানা যায়।
বর্তমানে লেক্সগ্লোবাল বিডিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তি ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততার কথাও জানা গেছে।
পারিবারিক মতপার্থক্য, ব্যর্থতা ও ব্যক্তিগত বিপর্যয় পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর এই যাত্রাই নাহিদ আলমের গল্পকে করেছে ব্যতিক্রমী।


