ধূমকেতু প্রতিবেদক,নিয়ামতপুর : ‘বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ, বাংলাদেশ সৌহার্দ্যের দেশ। আবহমানকাল থেকে আমরা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একসাথে বসবাস করছি। প্রত্যেক ধর্মের মানুষজন স্বাধীনতা নিয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছি। ধর্ম যার যার, দেশটা সবার।’ কথাগুলো বলেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। নওগাঁর নিয়ামতপুরে জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পূজা অর্চনা, গীতা পাঠ, কীর্তনসহ নানা কর্মসূচিতে উপজেলা জুড়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে জন্মাষ্টমী মহোৎসব পালন করা হয়েছে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নিয়ামতপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে
নিয়ামতপুর কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় ঢোল-তবলা বাজিয়ে শ্রীকৃষ্ণের নাম-গানের মাধ্যমে ধরাধমে তাঁর আগমনকে স্বাগত জানান ভক্তবৃন্দ। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।শোভাযাত্রাটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক ভীম চন্দ্র বর্মণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ – ১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ডালিম চন্দ্র বর্মণ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিতাই বর্মণ, সহ সভাপতি নিশেন চন্দ্র বর্মণ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সুবোধ চন্দ্র সরকার প্রমুখ।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে পূজা অর্চনা, তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে। মন্দির ছাড়াও ঘরে ঘরে ভক্তরা উপবাস থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও পূজা করেন।
সনাতন ধর্মানুসারে, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করতেই এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ।
শান্তিহীন পৃথিবীতে শান্তি আনতেই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব। দ্বাপর যুগের শেষ দিকে এই মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর এই আবির্ভাব তিথিকে ভক্তরা শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে উদ্যাপন করে থাকেন।
উল্লেখ্য, হিন্দু পুরাণ মতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্ম গ্রহণ করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই অসুরশক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মধ্যে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন বলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এ দিনটি ভাবগাম্ভীর্যভাবে যথাযথ মর্যাদায় এ জন্মাষ্টমী উৎসব নানাভাবে উদযাপন করে।



