ধূমকেতু প্রতিবেদক,গোমস্তাপুর : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে রহনপুরের অপরাধের স্বর্গরাজ্য বলে খ্যাত রেলস্টেশনসংলগ্ন কেডিসিপাড়া (শান্তিপাড়া) উচ্ছেদের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে স্থানীয়রা ।
দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পুর্বে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এ বস্তিতে দীর্ঘদিন মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে। এ বস্তি উচ্ছেদের দাবিতে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়িক ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সোচ্চার হয়েছে জনসভা হয়েছে। এ দাবিতে গত মঙ্গলবার বিকেলে রহনপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন আমবাজার চত্বরে এক জনসভার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জনসভা থেকে এলাকায় মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং কেডিসিপাড়া উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়।জনসভায় বক্তারা কেডিসিপাড়ার বস্তি উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে বলেন, এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে রহনপুর আম আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং মাদক ছিনতাই ও অসামাজিক কার্যকলাপ বিরোধী কমিটি গোমস্তাপুর উপজেলার আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের লোকজনের উপরে হামলা ও ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনায় ৬২ জনের নাম উল্লেখ ও আরও অজ্ঞাত ৬০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করলাম। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের এখনো গ্ৰেপ্তার করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবের কারণে মাদককারবারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। টাকার কাছে সবাই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে, ওই বস্তি (কেডিসিপাড়া) উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। রহনপুর রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক নাজমুল হুদা খান রুবেল জানান, রহনপুর রেলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। রহনপুর রেলস্টেশনের চারপাশে রেলওয়ের শতশত বিঘা জমি অবৈধ দখলে রয়েছে। যা অপসারণ করে রেলবন্দরের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ওই বস্তিতে অপরাধ প্রবনতা কমানোর লক্ষ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউএনওর গাড়িতে হামলা ও ব্যবসায়ীদের মারধরের ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। ওই মামলা দুটিতে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ওসি আরও বলেন, বস্তি উচ্ছেদের বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত। তারা যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনো খবর পুলিশের কাছে নেই।



