ধূমকেতু প্রতিবেদক,তানোর : রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামে শ্রী শ্রী কালীমাতার নামীয় ৫ একর ৪ শতাংশ ঐতিহ্যবাহী দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়। জবরদখল রোধ ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধসহ দুই শতাধিক গ্রামবাসী একযোগে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন পালন করেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে শিবরামপুরের মধ্যপাড়া কালীমাতা মন্দিরে সর্বস্তরের হিন্দু ধর্মাবলম্বী একত্রিত হন। সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিবরামপুর শালবান্ধাপাড়া দ্বীপের মোড় এলাকায় এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ভগিরো শিবমাতা মন্দির সংলগ্ন বিতর্কিত ধানি জমিতে উপস্থিত হয়ে উক্ত স্থানটির প্রকৃত পরিচয় ও কালীমাতার জমির দালিলিক প্রমান উল্লেখসংবলিত সীমানা প্লাকার্ড স্থাপন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সি.এস, এস.এ এবং আর.এস রেকর্ড অনুযায়ী শিবরামপুর মৌজার জে.এল নং-৫৫, আর.এস খতিয়ান নং-১২৩ এর ৫ একর ৪ শতাংশ জমি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। তৎকালীন সময় থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের জিম্মাদার ও সেবায়েতরা জমিটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন এবং বর্তমানেও সেখানে সাধারণ হিন্দু পরিবারগুলো বসবাস, চাষাবাদ ও পূজা-অর্চনা পরিচালনা করছেন।তবে সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নামো শংকরবাটি এলাকার খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীর নেতৃত্বে একটি ভুমিদস্যু চক্র ভুয়া দলিল ও সেবায়েতদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে জমি ক্রয়ের দাবি তুলে স্থানীয় পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের নানা চক্রান্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ আগস্ট সকালে অজ্ঞাত ১৫-২০ জন সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এসে বসতবাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হলে গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা প্রতিরোধ করেন। খবর পেয়ে তানোর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, ইতিপূর্বে দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষা ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের তান্ডব বন্ধে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল। তবে স্থায়ী কোনো সমাধান বা আইনি প্রতিকার না পাওয়ায় তারা আজ বাধ্য হয়ে রাজপথে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে নেমেছেন। আইন অনুযায়ী দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যক্তি নামে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও ভূমিদস্যুরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক সরজমিনে খতিয়ে দেখে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।মুঠোফোনে খাইরুল ইসলামকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


