IMG-LOGO

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২২ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
‘আমরা রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে গ্যাস-বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য’তানোরে মাটির দেয়াল ধসে গৃহবধুর মৃত্যুচিত্রনায়ক রিয়াজের আগাম জামিন আবেদন ফেরত দিল হাই কোর্টবাগমারায় আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি এমপি ডাঃ আব্দুল বারীরতানোরের কামারগাঁ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে সোহেল রানা সকলের দোয়া প্রার্থীবাগমারায় নদীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অবৈধ সুতি জালের বাঁধ উচ্ছেদপাটের বাম্পার ফলন ও ভালো দামে খুশি রায়গঞ্জের কৃষকেরানয়াদিল্লিতে ছয় তলা মেসবাড়ি ধ্বংসস্তূপে আটকে আছে বহু শিক্ষার্থীসিংড়ায় এসএসসি ’৯৪ ব্যাচের বন্ধুদের মিলনমেলা, স্মৃতিচারণ ও নৌকা ভ্রমণএকশত পরিবারকে শুকনো খাবার দিলেন সংসদ সদস্যরাজশাহীতে বিএসটিআই’র ভ্রাম্যমাণ আদালতে দশ হাজার টাকা জরিমানা‘লংমার্চের নামে বিরোধী দল গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে’রাজশাহী মহানগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৫রাণীনগরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধনপুঠিয়ায় ৪ মাদকসেবী ও বিক্রেতা আটক
Home >> রাজশাহী >> বিশেষ নিউজ >> ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খননের হিড়িক

ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খননের হিড়িক

ধূমকেতু প্রতিবেদক : রাজশাহীতে থামছে না ফসলি জমিতে পুকুর খনন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একের পর এক পুকুর খনন রোধে সভা সেমিনার হলেও রোধ হচ্ছে না ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে পুকুর খননের প্রতিবাদে কৃষকদের অভিযোগের স্তুপ পড়ে থাকলেও জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। পুরাতনের সাথে নতুনভাবে রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় চলছে পুকুর খনন। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমে কমে যাচ্ছে অন্য দিকে পুকুর খননের কারণে একরের পর একর জমি পতিত হয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমিতে পুকুর খননের কারণে জলাবদ্ধতায় অনেক জমি ইতোমধ্যে পতিত হয়ে গেছে। তারপরও রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলাতেই পুকুর খনন করা হচ্ছেই। জেলা প্রশাসন থেকে ফসলি জমিতে পুকুর খননে নিষেধাজ্ঞাজারী থাকলেও দেখভালের অভাবে চলছে ফসলি জমিতে পুকুর খনন।

কৃষি বিশেজ্ঞরা বলছেন, এভাবে পুকুর খনন চলতে থাকলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে রাজশাহীতে আবাদ করার মত কোন জমি পাওয়া যাবে না।

জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি বিলে বোরো ধানের জমিতে চলছে পুকুর খনন। এরমধ্যে দুর্গাপুর কয়ামাজমপুর সরদারপাড়া বিলে কয়েকজন ব্যক্তি কৃষকদের লোভ দেখিয়ে পুকুর খনন করছেন। এরমধ্যে ওই গ্রামের নাসিম ও নাজমুল নামে দুই ব্যক্তি সরদারপাড়া বিলে ৪৫ বিঘা ধানি জমিতে পুকুর খনন করছেন। কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা তাদের স্ট্যাম্পের উপর স্বাক্ষর নিয়ে পুকুর খনন করছেন। এই পুকুর খননের কারণে আশপাশের শতশত বিঘা জমি পতিত হয়ে যাবে এমনটাই শঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন হবে না ফসল।

কায়ামাজমপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সরদারপাড়া বিলে জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দিনে ও রাতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। যেখানে পুকুর খনন করা হচ্ছে সেখানে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দু’টি গভীর নলকুপ রয়েছে। ওই নলকুপ দিয়ে বিলের জমি সেচের মাধ্যমে বোরো ধান উৎপাদন করা হয়। পুকুর খননকারীরা বরেন্দ্রের ড্রেন ভেঙ্গে দিয়ে পুকুর খনন করছে। এই পুকুর খনন করা হলে কয়ামাজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে পুকুরের পাড় পর্যন্ত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে প্রায় ১শ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। অনাবাদি হয়ে পড়বে শতশত বিঘা জমি।

কিছু কিছু এলাকায় পুকুর খনন বন্ধে জেলা প্রশাসন থেকে নিষেধাজ্ঞাজারি রয়েছে। পুকুর খনন শুরু করার পর জেলা প্রশাসন তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন দিয়ে পুকুর খনন বন্ধ করে দেয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণেই রাতের আঁধারে পুকুর খনন চলছে। দিনের আলোয় পুকুর খনন না করে রাতের আঁধারে চলছে পুকুর খনন। তবে কৃষকদের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসন থানার মাধ্যমে পুকুর খনন বন্ধের নিদের্শনা দিয়েছে। আর থানা পুলিশ পুকুর খননকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে রাতের আধারে পুকুর খনন করার জন্য সহযোগিতা করছেন। যার কারণে পুকুর খনন বন্ধে নিদের্শ থাকলেও তা বন্ধ হচ্ছে না।

একই এলাকায় আরো তিনটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। কয়ামাজমপুর গ্রামের ফিরোজ, আকবর হোসেন, তাহেরপুরের রতন নামে তিন ব্যক্তি পৃথকভাবে পুকুর খনন করছেন। তারা মুলত উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফসলি জমিতে পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছেন। জমির মালিকদের অভিযোগ, পুকুর খননে বাধা দিতে গেলে নানা ধরণের হুমকি ধামকি দেয়া হয়। এমনকি বাড়ি ছাড়া করে রাখা হবে বলেও হুমকি প্রদান করে পুকুর খননকারীরা। এতে ভয়ে কৃষকরা পুকুর খননের প্রতিবাদ করতে পারছেন না। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ বা ভুমি অফিস থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা কৃষকরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। কৃষকরা অভিযোগ করেন, বিঘা প্রতি টাকা দেয়ার কথা বলে পুকুর খনন করা শুরু করে এসব ব্যক্তি। কিন্তু পুকুর খনন শুরু করে আর কোনো কৃষককে টাকা দেয়নি। টাকা না দিয়ে জোর করে পুকুর খনন করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয় কয়ামাজমপুর গ্রামের পুকুর খননকারী নাজমুল হোসেনের সাথে। তিনি পুকুর খননের কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা জোর করে পুকুর খনন করছি না। যাদের জমি ওই বিলে আছে তারা স্বেচ্ছায় পুকুর করার জন্য জমি দিয়েছেন। তারপর আমরা পুকুর খনন করছি। তবে জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে পুকুর খনন করার কোনো অনুমতিপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো কাগজপত্র আমাদের নেই।

এদিকে পবার বড়গাছি গ্রামে চলছে ফসলি জমিতে পুকুর খনন। গত কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসনের নির্দেষে থানা পুলিশ পুকুর খনন বন্ধ করে দিয়ে আসে। কিন্তু পুকুর খননকারীরা পুনরায় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছে। একেরপর এক অভিছযোগও দিলেও পবা থানা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও দুর্গাপুরে ফসলি জমিতে পুকুর খননের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে গত সোমবার। মানববন্ধনের পর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের দাওকান্দি গ্রামের নামুপাড়া বিলে প্রায় ৮০বিঘা ফসলি জমি নষ্ট করে ৪টি পুকুর খনন বন্ধ করে দেন উপজেলা প্রশাসন। দুর্গাপুর হরিরামপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম সাবু এ পুকুর খনন করছিলেন। কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভুমি অফিসের এসিল্যান্ডসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রত্যক্ষ মদদে দুর্গাপুরে ফসলি জমি দখল করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। অভিযোগ দিলেও তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।

বিষয়টি নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহসিন মৃধাঠ সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কৃষকরা জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহসিন মৃধাকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেন না। উপজেলায় যত বড়ই ঘটনা ঘটুক না, কোনো ফোন দেয়া হলে অপরিচিত নম্বার রিসিভ করেন না ইউএনও। দুর্গাপুর সহকারী কমিশনার (ভুমি) শুভ দেবনাথের কথা বল্লে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার দফতরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়, রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি অফিসার ছামসুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, আমরা সব সময় পুকুর খননের বিরুদ্ধে থাকি। কারণ ফসলি জমিতে পুকুর খননের কারণে জমি দিনদিন কমে আসছে। তিনি বলেন ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা হয়েছে। যতদ্রæত সম্ভব অবৈধভাবে ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031