IMG-LOGO

মঙ্গলবার, ২১ই জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই সফর ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
মহানগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ ব্যক্তির কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদানচাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ৯ বছরের শিশুবিএনপি কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের দল, আমি তাদের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবো : এমপি চাঁদবাগমারায় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ভূমিহীনদের জমি দখল চেষ্টার অভিযোগশহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনেনিয়ামতপুরে গরুবোঝাই ভটভটি উল্টে নিহত ১, আহত ৫মোহনপুরে জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভারুয়েট ও খাজা ইউনুস আলী ইউনিভার্সিটির এমটিই বিভাগের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠিতমান্দায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিতচাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রিক এনজিওকর্মী আটকরাজশাহী এডিটরস ফোরামের সঙ্গে আরএমপির মতবিনিময় সভাদিল্লির রাজপথে বিক্ষোভের দিন উত্তপ্ত লোকসভাককরোচ পার্টির কর্মসূচি ঘিরে রণক্ষেত্র দিল্লিরাজশাহী মহানগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৯রাণীনগরে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায়, গরীব ও দু:স্থ্যদের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান
Home >> রাজশাহী >> বিশেষ নিউজ >> কোটি টাকার ধস, ক্রেতা সংকটে ফুল ব্যবসায়ীরা

কোটি টাকার ধস, ক্রেতা সংকটে ফুল ব্যবসায়ীরা

ধূমকেতু প্রতিবেদক : রাজশাহীতে প্রতি বছর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রমরমা ব্যবসা হয় ফুলের। গত দুই বছর থেকে এই দিবস ও পহেলা ফাল্গুন একই দিনে হচ্ছে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। এবারো ১৪ ফেব্রæয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন একই দিনে। আর এই সময়টা এলেই ফুল ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বাঁধে। কিন্তু এবছর ফুল ব্যবসায়ীরা অনেকটাই হতাশার মধ্যে পড়েছেন। এক দিকে ফুলের দাম বেশি। তার উপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। দুইয়ে মিলে ফুলের ব্যবসায় নেমেছে ধস। ব্যবসায়ীরা বাহারি রকমের ফুল আমদানি করলেও তা বিক্রি নেই। দাম বেশি হওয়ার কারণে ক্রেতারা ফুল কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। কারণ গত বছর একটি গোলাপের দাম ছিল ১০ থেকে ১৫ টাকা থাকলেও এবার সেই ফুলের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে মিলছে না। একটি সাদা গোলাপ এবার বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১শ’ টাকায়। তবে আরো দুই দিন সময় যেহেতু আছে সেহেতু বেচাবিক্রি হবে এমনটাও আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, বিগত বছরে রাজশাহীতে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকায় ফুলের ব্যবসা হয়েছে। ফুল নিতে ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল বেশি। পুরো ফেব্রæয়ারি জুড়েই বিক্রি হতো ফুল। কিন্তু এবছর তার ব্যতিক্রম। এবার ফুলের দাম একেবারে আকাশ ছোঁয়া। ব্যবসায়ীরা বেশি দামে ফুল কিনে বেশি দামে আর বিক্রি করতে পারছেন না। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। দু’একজন ক্রেতা ফুল কিনলেও তা চাহিদার অনেক কম। গত বছর ১শ’ টাকার ফুল কিনলেও যে পরিমাণ হতো এবার ওই একশ টাকায় তার অর্ধেক ফুলও হচ্ছে না। শুধু মাত্র কিনতে হবে তাই লোকজনদের নামমাত্র ফুল কিনছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের একটি বড় অংশ বেশি ফুল কিনতো। কিন্তু এবার কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে তরুণ-তরুণী এখন নগরীতে নেই। যার কারণে এই বয়সের একটি বড় অংশ ক্রেতা হারাচ্ছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।

নগরীর সাহেব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে দোকানে বাহারি ফুলের সমরাহ। ১৪ ফেব্রæয়ারি ও পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে নানা ধরনের ফুল আমদানি করেছে ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীর দোকানে শোভা পাচ্ছে রং বেরংয়ের ফুল। তরতাজা ফুলের ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে চারদিক। দেশি বিদেশী ফুলে ফুলে ভরে আছে ব্যবসায়ীদের দোকান। কিন্তু আশানুরুপভাবে ক্রেতা নেই। ক্রেতা সংকটের কারণে বাহরি ফুল দোকানে থাকলেও বিক্রি হচ্ছে না। ফুলের দাম শুনেই ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তবে অনেকেই মনে করছেন বছরে একবার ফুল কিনতে হয়, সে ক্ষেত্রে দাম যাই হোক না কেনো বিচার বিশ্লেষন না করেই কিছু ক্রেতা ফুল কিনছেন। অনেকে আবার ফুলের দাম আরো বেশি হতো এই মনে করে নিজের সাধ্যমত ফুল কিনছেন।

সেদিক থেকে দেখা গেছে, গোলাপ ও গাদা ফুলের চাহিদা একটু বেশি। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ফুল দিয়ে তৈরি ফুলের মাথার বেনি, গাদা ফুলের মালারও চাহিদা অন্য ফুলের চেয়ে একটু বেশি। যার কারণে এসব ফুলের দাম একটু বেশি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেখা গেছে এবার একটি লাল গোলাপ এবার বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টাকা, সাদা গোলাপ ৯০ থেকে ১শ’ টাকায়, জারভেরা বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০টাকা পিস, রজনীগন্ধা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পিস, গ্যালোডিলাক্স ২৫ থেকে ৩০টাকা, মাথার ব্যান্ড ১৫০ থেকে ২শ’ টাকা, গেদা ফুল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০টাকা শ’, এছাড়াও প্রকার ভেদে অন্যান্য ফুল বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।

ফুলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসাবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে রাজশাহীতে যে পরিমাণ ফুল উৎপাদন হতো তা আর হচ্ছে না। বিগত বছরগুলোতে রাজশাহীর ফুল দিয়েই চাহিদা মেটানো হতো। কিন্তু এবার রাজশাহীতে উৎপাদিত ফুল দিয়ে চাহিদা মিটছে না। কারণ করোনার কারণে যারা বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করতো তাদের চাষ কমে এসেছে। অনেক ফুল চাষি এবার ফুল উৎপাদন করতে পারেন নি। আর যারা উৎপাদন করেছেন তা সীমিত। এই অবস্থা পুরো বাংলাদেশেই। এ কারণেই এবার ফুল আমদানি করতে হচ্ছে বাইরের জেলা থেকে। ফুল আমদানি করতে গিয়ে খচর পড়ছে বেশি। তাই অতিরিক্ত দাম দিয়ে তা বিক্রি করতে হচ্ছে। বাইরে থেকে একশ গোলাম আমদানি করতে খরচ পড়ছে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। পরিবহণ খরচ দিয়ে এই ফুল রাজশাহীতে বিক্রি করতে হচ্ছে ৮ হাজার থেকে ১০হাজার টাকার মধ্যে। তারপরও অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ফুল কিনতে আসা তরুনী উম্মে কুলসুম জানান, বাইরে বের হতে পারি না। দুটো গোলাপ কিনার জন্য আজ বাজারে এসেছিলেন। কিন্তু ফুলের দাম শুনে তিনি হতবাক। তিনি ফুল কেনার জন্য যে বাজেট নিয়ে বাজারে এসেছেন তা দিয়ে অর্ধেক ফুলও হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শিফা নামের অপরা ক্রেতারা জানান, ফুলের দাম বেশি হবে এমন আশঙ্কায় তিনি আগেই ফুল কিনতে বাজারে এসেছেন। কিন্তু ফুলের বাজারে এসে তিনি হতবাক। প্রিয়জনকে একটি গোলাপ দিতে তাকে গুনতে ৫০টাকা। তিনি বলেন, এবছর স্কুল কলেজ বন্ধ, তাতে ফুলের দাম কম হওয়ার কথা। কিন্তু ফুলের দাম তাতে প্রিয়জনকে খুশি করতে গিয়ে নিজেই বিড়াম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

নগরীর জিরোপয়েন্টের ফুল বিক্রেতা সন্তোষ কুমার গুপ্ত জানান, বিগত ২০ ভচর থেকে তিনি ফুলের ব্যবসা করে আসছেন। এবছরই প্রথম এমন ফুলের দাম। দু’বছর আগেও একটি গোলাপের দাম ছিল ৫ টাকা, রজনীগন্ধার স্টিক বিক্রি হয়েছে ১ থেকে ২ টাকায়। গত বছরও একটি গোলাপ বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ১০ টাকার মধ্যে। কিন্তু এবার করোনার কারণে একটি গোলাপের দাম উঠে গেছে ৫০ টাকায়।

তিনি বলেন, ৫০ হাজার টাকার ফুল কিনলে দোকান ভরে যেতো। ব্যবসাও হতো বাম্পার। কিন্তু এবার ৫০ হাজার টাকার ফুল দোকানে তোলার পর মনেই হচ্ছে না যে দোকানে এতো টাকার ফুল আছে। দাম চড়া হওয়ার কারণে ক্রেতাদের ফুল কিনার প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারির আরো দুদিন বাকি আছে তাই ওই দুইদনের দিকে তাকিয়ে ব্যবসা করছি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফুল ব্যবসায়ী জনি জানান, এবার ফুল আমদানি করতে যেমন সমস্যায় পড়তে হয়েছে বিক্রি করতেও তেমনি সমস্যা হচ্ছে। দাম বেশি হওয়ার কারণে ক্রেতা নেই বললেই চলে। সামনের দিনগুলোতে কি হবে সে চিন্তায় আছেন বলেও তিনি জানান।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930