IMG-LOGO

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৭ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
তানোরে ঐতিহ্যবাহী দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধনআরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবলটুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণে রাসিক প্রশাসকবাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ইন্ডিয়ায় বিএসএফের হাতে বাঘার ৫ জন আটক,ছোটাছুটি করে ও ফেরত পায়নি পরিবারফুলবাড়ীতে পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত১০ বছরের পুরোনো ভাড়ার তালিকায় ঝুলছে বিষপুর ফেরীঘাটশতবর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধারাবাহিক সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়নিয়ামতপুরে হাটের সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগমহাদেবপুরে নারী ইউপি সদস্যেরঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার‘ভারতের সঙ্গে করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার’মন্নুজান স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজে ফাটল, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ রাসিক প্রশাসকেরদুর্গাপুরে ইউএনওর অভিযানে৭০০ বস্তা সার জব্দকুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যার পানিবৃদ্ধি অব্যাহত পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষমোহনপুরে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং বিষয়ে কর্মশালাগোমস্তাপুরে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন আলিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়তানোর থানার কমিউনিটি পুলিসিং কমিটির আয়োজনে কাবাডি খেলা
Home >> নগর-গ্রাম >> বিশেষ নিউজ >> চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম জাদুঘর কানসাটে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম জাদুঘর কানসাটে

ধূমকেতু প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : আমের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে আমের রাজ্যও বলা হয়। এ জেলায় একটি ব্রিটিশ আমলের আমের বাগান আছে। বাগানটির নাম হলো- রাজার আম বাগান। যদি কোন দর্শনার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়াতে এসে সব জাতের আমের গাছ গুলোকে এক সাথে দেখতে চায়। তাহলে তাকে দেতে হবে কানসাটের রাজার বাগানে। জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলোর একটি এই আম বাগান।

জেলার শিবগঞ্জের কানসাটে রাজার বাগানাটি অবস্থিত। বাগানটি কোনো রাজার বাড়ি নয়, জমিদারবাড়ি। প্রায় একশ বিঘা আয়তনের বাগানটি ছিল সূর্যকান্ত চৌধুরী, শশীকান্ত চৌধুরী ও শিতাংশুকান্ত চৌধুরীদের। তখন সাধারণ মানুষ জমিদারদেরকে রাজা বলত।

জানা যায়, ১৯৪০ সালের আগ পর্যন্ত বিশাল এই বাগানটির মালিকানা ছিল ব্রিটিশ আমলের। দেশ ভাগের পর ব্রিটিশরা বাগানটি তৎকালিন কানসাট এলাকার জমিদার হিসেবে পরিচিত কুজা রাজার কাছে বিক্রি করে দেন। বাগানটি কিছুদিন ভোগের পর কুজা রাজা তার সকল সম্পদ ছেড়ে দিয়ে ভারতে চলে যান। তিনি ভারতে চলে যাবার পর কোন মালিক না থাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বিশাল এই বাগান। তখন থেকেই সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় কুজা রাজা নামে পরিচিত এই বাগানটি। ১৯৬৬ সালের দিকে বাগানটি পরিচর্যা ও দেখাশোনার দায়িত্ব পান ঢাকার হর্টিকালচার। সে সময় বাগানে অনেক ছোট ছোট আম গাছ লাগানো হয়। তারা প্রায় ৫-৬ বছর দেখভাল কারার পর বাগান ছেড়ে চলে যান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্যের লেখক অধ্যাপক মাযহারুল ইসলাম জানান, জমিদারদের রোপণ করা কোনো বাগান নয় এটি। মি. হল নামের এক ইংরেজ আম প্রেমী এ বাগান তৈরি করেন। এ দেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি এখানকার জমিদারের কাছে বাগানটি বিক্রি করে যান বলে জনশ্রুতি আছে।

এই রাজার বাগানে ‘মেমপসন্দ’ নামের একটা আম গাছ আছে। আমটি খেতে বেশ সুস্বাদু। ধারণা করা হয়, কোনো এক মেম সাহেবের দারুণ পছন্দের আম ছিল এটি। তাই এমন নামকরণ করা হয়।

আরও আছে অমৃতভোগ, নবাবপসন্দ, জালিবান্ধা, বৃন্দাবনি, গোলাপবাস, কালীমেঘা, খেজুরকাইঞ্জ, মুলতানি, কাঁচামিঠাসহ অপ্রচলিত বহু সুস্বাদু জাতের আম। সঙ্গে বিখ্যাত ফজলি, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ এসব জাতের আম গাছতো আছেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের ঐতিহ্য যে বহু পুরোনো, এ আমবাগানও তার একটা প্রমাণ। জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে এটি।

প্রায় ৫৭ বছর ধরে এ বাগানে প্রহরীর দায়িত্বে আছেন সাইদুর রহমান তিনি জানান, এ বাগানে ছিল প্রায় ৫০ জাতের ২৯৭টি বড় বড় আমগাছ। এখন আর নেই। আগের বিশাল গাছগুলোর মধ্যে ১০-১২ জাতের মাত্র ৬৫টি গাছ আছে। ২০০১ সালের পর একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বাগানটি বন্দোবস্ত নিয়ে পুরোনো অনেক গাছ কেটে ফেলেন। এ সময় কেটে ফেলা হয় গরজিত, বউ ভুলানি, ভুটভুটি, কেরাসিনাসহ আরও পুরোনো সব সুস্বাদু জাতের আমগাছ। লাগানো হয় আম্রপালিসহ বিভিন্ন গুটি জাতের আম। ঠিকমতো পরিচর্যা না হওয়ায় সে গাছগুলোতে ফলন হয় না দীর্ঘদিন। পরিণত হয় ঘন জঙ্গলে।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাগানটিকে ‘বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম’-এ রূপান্তরে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মিউজিয়ামটির সীমানা দেয়াল নির্মাণ শেষ হয়েছে। বাগানের ভিরতে নির্মাণ করা হচ্ছে, একটি গেষ্ট হাউজ। এছাড়াও বাগানের ভিতরে বসার জন্য বানানো হয়েছে টিন দিয়ে ছাউনি।

শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাকিব আল রাব্বি জানান, এলাকার আম প্রেমীদের মুখে বাণিজ্যিক জাত গুলোর বাইরেও নানা সুস্বাদু জাতের কথা শোনা যায়। এ ছাড়া সারা দেশেরও নানা সুস্বাদু জাত রয়েছে। সেগুলো এখানে লাগানো হবে। এসব উদ্যোগের সঙ্গে আম বিজ্ঞানীদের সম্পৃক্ত করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ জাত সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এখানে নির্মাণ করা হবে ডাকবাংলো।

আমকেন্দ্রিক পর্যটনে এ বাগান দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন। ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শামীম খান।

তিনি বলেন, আমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। কেউ যদি চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে আমের সব ধরণের জাত এক সাথে দেখতে চায়। তাহলে তাকে আমের যাদুঘরে এসে দেখে যেতে হবে।

রাজার বাগানসংলগ্ন গ্রাম হচ্ছে পারকানসাট। এ গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, রাজার বাগানে এখন যেগুলা পুরনো আমের গাছ আছে, এ গাছগুলো আমরা ছোট বেলা থেকে দেখছি। এ বাগানে আরও অনেক বড় বড় গাছ ছিল। কিন্তু একসময় বাগানটা দখল দারের হাতে চলে যাওয়ায়, অনেক আম গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ বাগানের বয়স দুই শ বছরেরও বেশি।

তিনি আরও বলেন, এ বাগানটা অনেক পুরনো, অনেক সুস্বাদু আমের গাছ আছে। বাগানে এখন যেগুলা গাছ আছে, সেগুলা যেন সংরক্ষণ করা হয়। যাতে এসব গাছ আর না হারায়।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031