ধূমকেতু প্রতিবেদক,বদলগাছী : ধান-ফসলের মাঠে যাদের ব্যস্ততা, সেই কৃষকরাই এবার নেমে গেলেন ফুটবল মাঠে লাঙল-জোয়ালের বদলে পায়ে বল, আর প্রতিযোগিতার সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে-মেতে উঠেন। বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার কৃষকদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই ব্যতিক্রমী ফুটবল উৎসব। সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দিনভর খেলাধুলা, কৃষি বিষয়ে সচেতনতা ও আনন্দে মেতে ওঠেন দুই উপজেলার কৃষকেরা।
গতকাল বিকেলে মহাদেবপুর উপজেলার জন্তিগ্রাম তাজউদ্দীন আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (যা স্থানীয়ভাবে জন্তিগ্রাম টি. এ. উচ্চ বিদ্যালয় নামেও পরিচিত) এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ফুটবল ম্যাচ। মুখোমুখি হয় এমিস্টার টপ একাদশের হয়ে খেলে বদলগাছী উপজেলার কৃষক ও ইনসিপিয়ো একাদশের হয়ে খেলে মহাদেবপুর উপজেলার কৃষকরা।
শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। প্রায় এক ঘণ্টার টানটান লড়াই শেষে ইনসিপিয়ো কৃষক একাদশকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় এমিস্টার টপ কৃষক একাদশ। খেলা ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। কৃষকেরা কেউ খেলোয়াড়, কেউ দর্শক—সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।
খেলার পাশাপাশি মাঠের পাশে সিনজেনটা বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেওয়া হয়। কোন ফসলে কোন পণ্য কীভাবে এবং কোন রোগ বা সমস্যায় ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়েও কৃষকদের সচেতন করা হয়। পাশাপাশি কৃষকদের আসল ও অনুমোদিত কৃষিপণ্য কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অংশ নেওয়া এক কৃষক বলেন, “এ ধরনের আয়োজন আমাদের জন্য আনন্দের। খেলার পাশাপাশি কৃষি বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আমরা চাই, এমন আয়োজন আরও হোক।”
খেলা শেষে বিজয়ী এমিস্টার টপ কৃষক একাদশের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন প্রধান অতিথি সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের নর্থ জোন বগুড়ার সেলস ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম।
রানারআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির বগুড়ার রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার আসাদুজ্জামান আসাদ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল তরফদার, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের নওগাঁর এরিয়া সেলস ম্যানেজার মো. সাব্বির আহমেদ, রাইগাঁ সরকার ব্রাদার্সের সিনজেনটা পরিবেশক নিতাই চন্দ্র, মহাদেবপুর সদরের পরিবেশক আনোয়ার হোসেন, বদলগাছীর রিটেলার সানজাদ রয়েল সাগরসহ মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলার কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনভর ফুটবল, কৃষি বিষয়ক সচেতনতা ও আনন্দ-উল্লাসে কৃষকদের জন্য আয়োজনটি হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমী এক উৎসব। কৃষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করা হবে।



