ধূমকেতু প্রতিবেদক,গোদাগাড়ী : সিরাজগঞ্জে আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এস এস সি জিপিএ প্রাপ্ত ৪ শত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃওি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১ টায় পৌর শহরের ইবি রোডস্থ পৌর ভাসানী মিলনায়তনে হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার চেয়ারম্যান, আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ও সাত্তার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোওয়াত এর মধ্যে দিয়ে শুরু করা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও বৃওি হাতে তুলেদেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ সায়াদুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোঃ সায়াদুজ্জামান বলেন, “যদি আমরা এনালাইসিস করি জিপিএ ৫ পেলেই হবে না শুধু, তার ইনসেন্টিভ ভ্যালুটা থাকতে হবে।ওই জিপিএ ৫ পেয়ে যদি আমি জিপিএ ৫-এর মতো আমার ইনসেন্টিভ ভ্যালুটাকে আর্ন করতে না পারি তাহলে আমার ওই সার্টিফিকেটটা একসময় বার্ডেন হয়ে দাঁড়াবে।সো, আমার আবারও রিকোয়েস্ট থাকবে যে যারা জিপিএ ৫ পেয়েছো আজকে থেকেই হায়ার সেকেন্ডারি নিশ্চয়ই কলেজের মনে হয় সিলেকশন হয়ে গেছে ইন দ্য মিন টাইমযে যেখানেই চান্স পাও না কেন কলেজ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তোমাকে নিজেকে তৈরি করো আর নিজেকে তৈরি করার জন্য তোমার গার্ডিয়ানদের, প্রয়োজনবোধে তোমার শিক্ষকদের—অনেক শিক্ষক আছে যারা তোমাদেরকে এখনো যদি বলে যে, “স্যার, আমি এটা বুঝি না, আমি এটা জানতে চাই, শিখতে চাই”, আমার মনে হয় না কোনো শিক্ষক সেটা তোমাকে বলবে যে, “আমার কাছে এসো না, আমি তোমাকে শেখাব না।” আমার মনে হয় না, কারণ আমি শিক্ষক হিসেবে এটা আমার কাছে উপলব্ধি যে যেকোনো শিক্ষকের কাছেই কোনো জানতে চাইলে, শিখতে চাইলে সে মনে হয় শিখিয়ে দেয় সে যদি তার জানা থাকে। শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় না, বাংলাদেশে অনেকগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে।
সেখানে আমার যদি ফিউচার গড়তে চাই আবারো রিপিট করছি আমি এই সেকেন্ড ফাউন্ডেশনটা, অর্থাৎ সেকেন্ড ফাউন্ডেশন বলছি আমরা, ফার্স্ট ফাউন্ডেশন তো আপনারা আর্ন করেছ, সেকেন্ড ফাউন্ডেশনটা করার জন্য তোমরা সবাই আবারওসচেষ্ট থাকবে এবং আরও বেশি কেয়ারফুল হবে।
এর চেয়ে বেশি বললে আর হয়তো ভালো লাগবে না, এজন্য আমি এখানেই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এবং গার্ডিয়ানকে আর কিছু বলব না। শুধু এবার দুই-একটি কথা বলব যে আমি এখানে যে আয়োজনটা দেখতে পাচ্ছি, আসলে এরকমের চমৎকার আয়োজন আমাদের মাঝে যদি অন্যান্য যাদের সামর্থ্য আছে তারাও যদি করে, তাহলে আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা
অনেক অনেক গুণ এগিয়ে যাবে। আমি ১৯৯০ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার একটা ইংরেজি শব্দকে বাংলায় অনুবাদ করে বলছি, উনি বলেছিলেন যে, একটা দেশকে উন্নত করতে চাইলে সেখানে কোনো কিছুর দরকার নেই, শিক্ষাকে তুমি ভালোভাবে সাজাও।আর যদি একটা দেশকে ধ্বংস করতে চাও, পারমাণবিক বোমার দরকার নেই, শিক্ষার ভেতরে নকল ঢুকিয়ে দাও।এটা নেলসন ম্যান্ডেলা জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর, ২৭ বছর ছাড়া পাওয়ার পর উনি সাউথ আফ্রিকা ইউনিভার্সিটিতে প্রথম বক্তব্যে উনি এটা বলেছিলেন ১৯৯০ সালে। ঠিক আমি এই কথাটা আবারও আপনাদেরকে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, গার্ডিয়ান সকলকেই বলব, যে যতটুকুই পড়ুক না কেন, সেইটুকু অন্তর দিয়ে নিজের ব্রেইনে ধারণ করে যেন শেখে।নকলের চিন্তা করে শিখলে এটা ঐ রকমের হবে দেশকে ধ্বংস করা। এই প্রোগ্রামের যে প্রতিষ্ঠাতা হাজী আব্দুস সাত্তার সাহেব, আমার আসলে উনাকে খুবই ভালো লেগেছে প্রথম পরিচয়ে। এরকম মিশুক মানুষ আমি খুব কম দেখেছি।এবং বেশি বেশি লেগেছে যে, আমার মতো একজন ক্ষুদ্র শিক্ষককে উনি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রিসিভ করেছে।
এজন্য আমার কাছে আসলে খুবই অবাক লাগল। আর এই তারাই করতে পারে যাদের মন খুব উদার হয় মানে আমার অভিজ্ঞতায় বলছি। আর সেজন্য আমি আবারও আমাকে সম্মান দেওয়ার জন্য সকলকে নিয়ে বলব একটা হাততালি দিয়ে উনাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য।আর আমার বড় ভাই মকবুল ভাইকে তো না বললেই নয়, উনার সুবাদে আপনাদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে, দেখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, আল্লাহপাক পৃথিবীতে মানুষকে পাঠিয়েছেন উদ্দেশ্য দিয়ে।প্রত্যেকটা জিনিসই উনি উদ্দেশ্য দিয়ে পাঠিয়েছেন।আজকে দেখবেন আমি মাউথপিসের সামনে দাঁড়িয়ে যে কথা বলতেছি, এর উদ্দেশ্যটা কি? এর উদ্দেশ্যটা জোরে আওয়াজ হবে।আপনারা জোরে কথা শুনতে পারবেন।আজকে লাইট জ্বলতেছে, লাইটের উদ্দেশ্য কি? আলো দেওয়া।আজকে ফ্যান চলতেছে আমার পাশে, ফ্যানের উদ্দেশ্য কি? বাতাস দেওয়া।তেমনি প্রত্যেকটা জিনিসই উদ্দেশ্য দিয়ে পাঠিয়েছেন।আল্লাহপাক, দেখেন আমরা পোশাক পরছি কি জন্য? সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য।
তো আল্লাহপাক প্রত্যেকটা মানুষকেও উদ্দেশ্য দিয়ে পৃথিবীতে পাঠাইছেন।উদ্দেশ্যটা কি? প্রতিটা মানুষের কাজ কি? প্রতিটা মানুষের কাজ হচ্ছে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করা, আল্লাহর খলিফা হিসেবে পৃথিবীতে পাঠাইছেন।খলিফার কাজ কি? আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করা। প্রতিনিধিত্ব করবে আল্লাহর দ্বীন, আল্লাহর যে ভালো কাজগুলা এই প্রতিষ্ঠিত করবে। আল্লাহর আদেশ মাইনা চলবে, সেই আশায়ই আল্লাহপাক এই মানুষকে পাঠাইছেন উদ্দেশ্য দিয়ে।তো সামনে বিশিষ্ট অভিভাবক এবং আমার ছাত্র-ছাত্রী যারা রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে আমি দুই একটি উপদেশমূলক কথা বলব।তো আসলে তোমরা অনেক পরিশ্রম করে, নিরলস প্রচেষ্টায়, তোমরা অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় আজকে যে পর্যায়ে আসছো, আরও কিন্তু সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সময় রয়েছে। যদি চিন্তা করো যে আমি গন্তব্যস্থলে পৌঁছব, যদি একটু সময় আর নিজের চেষ্টা এবং ইচ্ছা থাকে, অবশ্যই আল্লাহপাক, আল্লাহপাকের কাছে কোনো কিছু চাইলে আল্লাহপাক অপূরণ রাখেন না। চেষ্টা করলে, ইচ্ছা থাকলে যে পাওয়া যায়, আমি তার প্রমাণ।আমি কিন্তু রুট লেভেল থেকে, আমি… আমি এমন একটি জায়গা থেকে আল্লাহপাক আমাকে উঠিয়ে এমন একটি জায়গায় তোমাদের সামনে এসে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন, আমি এজন্য মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া জানাই।
আমি সবার কাছে অনুরোধ করব যে, আমরা এই পৃথিবীতে আসছি এবং এই পৃথিবীতে এসে যদি আমার পরিবার, আমার নিজের জন্য, নিজে ভালো মন্দ খাব, ঘুম পারবো আর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব—এটা তো জীবন না। জীবনটা এমনই যে আমি নিজেও ভালো থাকব, অপরকেও ভালো রাখার চেষ্টা করব।ভালো রাখার মালিক যদিও আল্লাহ, কিন্তু ইচ্ছাশক্তি, উসিলা বাহক তো লাগে।তো আমরা যারা এ দেশের নাগরিক, আমাদেরও ইচ্ছা থাকতে হবে, এ দেশ আমাদের, দায়িত্বও আমাদের।আমরা যদি একটু মেহনত অথবা পরিশ্রম যার যার জায়গা থেকে যে কাজগুলো আছে, আমরা যদি দায়িত্ব নিয়ে, আল্লাহর ভয় নিয়ে পালন করি—কাজটাও যেমন ইবাদত, দেশের জন্য উন্নয়ন হবে, আমি নিজেও ভালো থাকব, অপরেও ভালো থাকবে।
আপনারা জানেন আমি মানবিক মানুষ, আমি অনেকদিন ধরে, ৩০ বছর ধরে তিলে তিলে তিল হয়ে আমি মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, কি জন্য?আমি… আমি একটা জিনিস দেখছি, কুরআন রিসার্চ করে দেখছি, সেখানে বলা আছে যে, প্রত্যেকটা জায়গায় বলা আছে যে, তুমি সৎ কাজ করো, খারাপ কাজ বর্জন করো।সূরা বাকারা-এর ৬২ নম্বর আয়াত পড়ে দেখলাম, সেখানে বলা আছে বিশ্বাস এবং সৎ কাজ যে করবে—মানে ভালো কাজ যে করবে, তাকে আল্লাহপাক জান্নাত দিয়ে দিবে।সূরা লোকমানের ৮ নম্বর আয়াত পড়ে দেখলাম, সেখানে বলা আছে ঈমান এবং ভালো কাজ যে করবে, আল্লাহপাক তাকে জান্নাত দিয়ে দিবে।
তাইলে প্রত্যেকটা জায়গায়ই বলা আছে ভালো কাজ করা, খারাপ কাজ বর্জন করা।ধর্ম কি? ধর্ম যে গ্রহণ করবে, আমি মনে করি ধর্ম পালন করা—প্রত্যেকটা ধর্মেও বলা আছে ভালো কিছু করার, খারাপ কাজ বর্জন করতে বলছে, ভালো কাজ করতে বলছে। ভালো কাজই… মানে ভালো কাজই ধর্ম। প্রত্যেকটা সময়ই তুমি ভালো কাজ করলে ওইটাই তোমার ইবাদত, ওইটাই তোমার আমল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ সরকারি অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মহীদুল হাসান,
হাজী কোরপ আলী সরকার কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোঃ মোকতেল হোসেন, বনোয়ারীলাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত),খন্দকার মোঃ আব্দুল্যাহ আল মামুন, এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন বনোয়ারী লাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সাত্তার, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শেখ এনামুল হক, ধানবান্ধি ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহজাহান আলী সাজা, অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ধানবান্ধি আদর্শ মানবকল্যাণ সমাজের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা প্রমূখ।



