IMG-LOGO

রবিবার, ২৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১২ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
পোরশায় মাদক, নগদ অর্থসহ মাদক সিন্ডিকেটের দুইসদস্য গ্রেফতারদিনমজুর বাবার সংগ্রাম পেরিয়ে জজ হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাজলজাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানবাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড়সম্ভাবনা দেখছে স্পেনের ব্যবসায়ীরাপলাশবাড়ীতে মোটর মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন দ্বন্দ্বের মীমাংসা,পূর্বের মতো সড়কে চলবে ‘বকুল এন্টারপ্রাইজ’বাঘায় পরকীয়ার অভিযোগে হামলায় অভিযুক্ত গুরুত্বর আহত, বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগগোমস্তাপুরে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনাসাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের স্মরণে মিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে স্মরণসভানিয়ামতপুরে সচেতনতামূলক গম্ভীরা অনুষ্ঠিতচাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যুসিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের আমলে মেয়র নির্বাচন করা ব্যক্তিই বিএনপির প্রার্থী হবেন: টুকুঅগ্রাধিকার ভিত্তিতে হরিয়ানের উন্নয়ন করা হবে: এমপি মিলনমান্দায় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ডা. টিপুরায়গঞ্জের গ্রামপাঙ্গাসী নিজামগাতী সড়কে ধস সব ধরণের যানচলাচল বন্ধশহর খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ লিমিটেডের ১৭তম ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত
Home >> টপ নিউজ >> নগর-গ্রাম >> দিনমজুর বাবার সংগ্রাম পেরিয়ে জজ হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাজল

দিনমজুর বাবার সংগ্রাম পেরিয়ে জজ হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাজল

ধূমকেতু প্রতিবেদক,চাঁপাইনবাবগঞ্জ : পেটে ক্ষুধা, মাথায় এনজিওর কিস্তির বোঝা আর বাবার দিনমজুরি—এমন চরম বাস্তবতা প্রতিদিন চোখ রাঙাত কাজল পাঁড়ের সামনে। তবে অভাবের সেই অন্ধকারকে উপড়ে ফেলে এক ইতিহাস গড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ছেলে কাজল পাঁড়ে। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশ পেয়েছেন তিনি।

কাজলের এই জয়ে ২২ বছর আগে গড়ে ওঠা পার্বতীপুর ইউনিয়নের মাধাইপুর গ্রামের দীর্ঘদিনের অন্ধকার কাটল। গ্রামটিতে এতদিন কোনো সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন না; সেই খরা কাটিয়ে প্রথম সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিচারকের আসনেই বসতে যাচ্ছেন অদম্য এই তরুণ।

মাধাইপুর গ্রামের ‘তুরি’ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমিহীন কৃষক নরেশ পাঁড়ে ও পঞ্চমী জেড়ি দম্পতির একমাত্র ছেলে কাজল। অভাবের তাড়নায় যাঁর তিন বোনের পড়াশোনা প্রাথমিকে পৌঁছানোর আগেই থেমে গিয়েছিল, অল্প বয়সেই দিতে হয়েছিল বিয়ে। অনেক দিন এমনও কেটেছে—ঘরে খাবার না থাকায় না খেয়েই স্কুলে দৌড়েছেন কাজল।

স্থানীয় মাধাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিশন স্কুল, এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজে থেকে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিকে লেখা পড়া শেষ করেন। এরপরই উচ্চশিক্ষার যুদ্ধে নামেন তিনি। প্রথমবার হোঁচট খেলেও দ্বিতীয়বারে বাজিমাত করে একযোগে জগ্ননাথ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান। ভর্তি হন রাবির আইন বিভাগে।

ছেলের পড়ার খরচ যোগাতে বাবা নরেশ পাঁড়েকে নামতে হয়েছে কঠিন লড়াইয়ে। এনজিওর কিস্তি তোলা থেকে শুরু করে বাড়িতে দুধের গরু বিক্রি—সবই করেছেন। মানুষের দয়া না চেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে গিয়ে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির কঠোর শ্রমিকের কাজ বেছে নেন, সেই মজুরির টাকায় ছেলের শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখেন। অন্যদিকে কাজলও ক্যাম্পাসে টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। অবশেষে ১৮তম বিজেএসে অর্জন করে সব কষ্টের হিসাব চুকিয়েছেন কাজল।

ছেলে জজ হওয়ায় চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না মা পঞ্চমী জেড়ি। তিনি বলেন, ছেলে চরম কষ্ট করে বড় হবার স্বপ্ন দেখেছিল, তা পূরণ হয়েছে। গাঁয়ের মানুষ এখন আমাদের দেখতে আসছে, এতে আনন্দ ধরে রাখতে পারছি না।

কাজলের বোন স্বপ্না পাড়ে বলেন, দিন আনি দিন খায়- এমন পরিবারের সন্তান আমরা৷ পড়ানোর স্বক্ষমতা না থাকার কারণে আমাদের ৩ বোনকে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবার। যার কারণ

আমরা প্রাথমিক স্তরও পার করতে পারিনি। আমার ভাই লেখা পড়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছে।

কাজলের এমন কৃতিত্বে বাবা নরেশ পাঁড়ে আবেগ আপ্লূত হয়ে নিজের ভাষায় তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয় দানে যখ্যান হ্যামার ছোয়া মোবাইল কারেলা তখন ক্যাহালো যে, ‘বা, ভাগয়ান কার আশীর্বাদে হাম জজ’কা চাকরি পালো।’ তখন হাম শুনকে খুশি হল।

তিনি বলেন, হামনি গরিব আবদিন। হামরা মাটি লাড়িচাড়ী। দিন খাটিলা দিন খাইলা। হামি চাই হামার ছোয়া মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। ভাগয়ান যেই দায়িত্বটুকু দেইছে সোঠা যেহে ভালো হয়।

কাজলের এমন সাফল্যের খুশি গ্রামবাসীও। তারা বলছেন, মেধাবী শিক্ষার্থী কাজল ও তার পরিবার যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছে- এমন জায়গায় চাকরি তার প্রাপই।

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশ পাওয়া কাজল পাঁড়ে বলেন, মাধাইপুর গ্রামের সন্তান হিসেবে প্রথম সরকারি চাকরি পাওয়ার বিষয়টি খুবই আনন্দের। এই আনন্দ শুধু আমার একার নয়; আমার পরিবার, গ্রাম, আমার গোষ্ঠীরও।

স্মৃতির পাতা হাতরে পড়ালেখার যাত্রার সবচেয়ে কষ্টের একটি দিন স্মরণ করে তিনি বলেন, পড়ালেখার একপর্যায়ে আমাদের পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। যার কারণে, আমার বড় বোন গরু বিক্রি করে হাতে টাকা দিয়েছিল। সেদিনের কথা খুব মনে পড়ে।

বিচারালয়ে তার উপস্থিতি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নৃগোষ্ঠীর মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেও মনে করেন কাজল পাঁড়ে।

কাজলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, গরিব ঘরের সন্তান কাগজের এমন সাফল্যে আমরা খুবই খুশি। তার জীবনের সাফল্য কামনা করি।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ