ধূমকেতু প্রতিবেদক, নাটোর : অল্প সময়ে বিনাপরিশ্রমে সহজে বড়লোক হওয়ার আশায় শিশু অপহরণ করার পরে নাটোর জেলা পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে কামরুল হাসান (২৫) নামের এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের বড়াইগ্রম উপজেলার বাগডোব গ্রামে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংএ পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, রোববার ২২ শে আগস্ট অপহরণকৃত শিশু আলহাজ্ব প্রামানিকের (৮) বাবা আক্তার প্রামানিক বড়াইগ্রাম থানায় তার শিশু পুত্র অপহরনের একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মোতাবেক জানা যায় জানা যায় গত ২১ শে আগস্ট বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বাগডোব গ্রামের আক্তার প্রামাণিকের ছেলে ৮ বছর বয়সী আলহাজ্ব নামের এক শিশুকে অপহরণ করে তার মায়ের চাচাতো ভাই কামরুল হাসান। সহজে বড়লোক হবার বাসনায় কামরুল অপহরণের পর মোবাইল ফোনে আলহাজ্ব এর বাবার কাছে ৪০ লক্ষ টাকার মুক্তিপণ দাবি করে। পরে শিুশু আলহাজ্বের চিকিৎসার জন্যে তাৎক্ষনিক ৩০ হাজার টাকা চায় কামরুল। এমতাবস্থায় উপায়ান্তর না দেখে বড়াইগ্রাম থানা ছেলে অপহরণের মামলা দায়ের করেন আক্তার হোসেন।

অভিযোগের সূত্র ধরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বড়াইগ্রাম সার্কেল নাটোরের ৫টি টিম নাটোর, দুপচাচিয় ও ঢকায় ১৫ ঘন্টার এস ড্রাইভ অভিযান পরিচালনা করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কামরুল হাসানকে বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষীকোল বাজার থেকে ২২ শে আগস্ট রাত ১০টার দিকে প্রথমে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেয়াা তথ্য অনুযায়ী ঐ রাতেই বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া এলাকার জনৈক রুবেল হোসেন এর বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় আলহাজ্বকে উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংএ আরো জানানো হয়, শিশু আলহাজ্বকে কামরুল হাসান অপহরণ করে তার নিজস্ব ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কাওে (যার রেজিঃ নং ঢাকা মেট্রো গ-১১-২৬৭৬) করে প্রথমে সিরাজগঞ্জ জেলার হাটিকুমরুল নিয়ে যায়। সেখান থেকে বগুড়ার জনৈক ড়–বেলের কাছে তাকে তুলে দেয়া হয়। উদ্ধারের পর শিশু আলহাজ্বকে ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার তার বাবা মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়।
তবে কামরুল হাসানের সহযোগী অপর আসামী রুবেল হোসেন পলাতক রয়েছে এবং তাকেও ধরার জন্য অভিযান চলছে বলে প্রেস ব্রিফিংএ জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।


