IMG-LOGO

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৯ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
সিংড়ায় হতদরিদ্রের চাল আত্মসাত, ইউপি সদস্য পদ হারালেন সোহরাব হোসেনকুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবনজয়েন্ট ফ্যামেলি প্রোপার্টিজ লিমিটেড ও হোটেল হকস ইন এর বিরোধ নিষ্পত্তিদাম কমল এলপি গ্যাসেরবাগমারায় রান্নাঘরের দেয়াল ভেঙে শিশুর মৃত্যুনিয়ামতপুরে স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু, আটক ৩ফুলবাড়ীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনপোরশায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনপোরশায় মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার ক্রাইম রোধে পুলিশের সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিতরাজশাহী সদর দলিল লেখক সমিতির নবম নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিতকোট স্টেশন দলীয় কার্যালয় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতগোমস্তাপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনদুর্গাপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনবর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভাতানোরে যুবদল নেতার সরিষা মিলে তালা কেটে ডাকাতি, ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, শিশুসহ নিহত ৫
Home >> কৃষি >> বিশেষ নিউজ >> রাজশাহী >> লিড নিউজ >> রাজশাহীতে কৃষকের গোলায় উঠছে না আউশ ধান

রাজশাহীতে কৃষকের গোলায় উঠছে না আউশ ধান

ধূমকেতু প্রতিবেদক : এবার রাজশাহীর ৭ উপজেলার কৃষকের ঘরে উঠছে না আউশ ধান। বন্যার কারণে ইতোমধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চল ছাড়া বাকি ৭টি উপজেলার আউশ ধান পানির নিচে তোলিয়ে গেছে। প্রায় এক মাস ধরে আউশ ধানের মাথার উপর বন্যার পানি চেপে বসে আছে। এতে পুরো ধান পানির নিচে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। খোদ কৃষি বিভাগ মনে করছে, এবার আউশ ধান রোপণ করা হলেও তা কৃষকের ঘরে উঠছে না। শুধু মাত্র বরেন্দ্র অঞ্চল তানোর-গোদাগাড়ীর কৃষকরা আউশ ধান এবার ঘরে তুলতে পারবেন। এছাড়া এই সকল উপজেলার কোনো কৃষকের ঘরেই এবার আউশ ধান উঠছে না। মাস পেরিয়ে গেলেও এলাকার খালবিলে আউশ ধানের মাথার উপর পানি থৈ থৈ করছে। অথচ কৃষি অফিস বলছে, আউশের খুব বেশি ক্ষতি হয় নি। আর ক্ষতি হলেও রোপা-আমন দিয়ে তা পুষিয়ে নেয়া যাবে। এখন প্রশ্ন হলো, বেশিরভাগ খালবিলে পানি জমে আছে এক মাস ধরে। পানি নিস্কাশনের কোনো ব্যবস্থাও নেই। তাহলে রোপা-আমন চাষ হবে কোথায়? রোপা-আমন চাষ নিয়েই যেখানে অনিশ্চয়তা, সেখানে আউশের ক্ষতিই বা পোষাবে কিভাবে?

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, এবার রাজশাহীতে আউশের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছিল ৫০ হাজার ৯শ’ ৬০ হেক্টর। চাষ হয়েছে লক্ষমাত্রার চেয়ে দশ হেক্টর বেশি জমিতে। আর রোপা-আমনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ৫শ’ হেক্টর। আর চাষ হয়েছে ৭৪ হাজার ৯৮ হেক্টর জমিতে। লক্ষমাত্রার যে জমিতে রোপা আমন রোপণ হয়েছে তা শুধু মাত্র বরেন্দ্র অঞ্চলে। এছাড়া রাজশাহীর ৭টি উপজেলার কোথাও খুব বেশি জমিতে রোপা আমন চাষ হয়নি। এবার “মাত্রা বরেন্দ্র অঞ্চল” নামে খ্যাত গোদাগাড়ী-তানোর উপজেলাতেই কয়েকশ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ হয়েছে। এছাড়া বাকি ৭টি উপজেলায় আউশের আবাদ হয়নি। আউশের যে রোপণ হয়েচিল তা বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি অফিস বলছে, রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত ২৭শ’ ৫৮ হেক্টর জমির আউশ ধান পানির নিচে তোলিয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

বিভিন্ন উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্র ও খোজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য বছর খরা প্রবনতা বেশি থাকায় এবার আউশ চাষিরা নিচের জমিতে বীজতলা তৈরি করে সেখানে বীজ বপন করেন। কিন্তু এবার আষাঢ় মাসের প্রথম দিক থেকে অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকদের বীজ তলায় পানি জমে চারা নষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় চারা তৈরি করে কৃষকদের এবার আউশ ধান রোপণ হয়েছে। কিন্তু আউশ ধান রোপণ করার পর ভারি বর্ষণের কারণে খালবিলে পানি জমতে থাকে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে বৃষ্টির পানি খালবিল ডুবে ধান তোলিয়ে যায়। যা এখন পর্যন্ত খালবিলে বন্যার পানি থৈ থৈ করছে।

কৃষি বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, আউশের তেমন বেশি ক্ষতি হয়নি। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ২৭শ’ ৫৮ হেক্টর জমির আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু মাঠের চিত্র ভিন্ন দেখা গেছে। রাজশাহীর পবা, বাগমারা, মোহনপুর, দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও চারঘাট উপজেলায় খালবিলের নিচু জমিতে আউশ চাষ হয়। কিছু আউশ চাষ হয় বাঘা উপজেলায়। বন্যার কারণে এই ৭টি উপজেলার নিচু এলাকায় এক হেক্টর জমিরও আউশ ধানও জেগে নেই। সব ধান পানির নিচে রয়েছে। অল্প কিছু জমিতে আউশ ধানের মাথা দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু কৃষকরা বলছে, গলা অবদি পানিতে ডুকে থাকা এসব আউশ ধান আর হবে না। কারণ পানি নেমে গেলে বাড়ন্ত এসব ধানের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়বে। মাটিতে লুটিয়ে পড়া গাছ থেকে ধানের শীষ বের হয় না।

বাগমারার চাষি আমজাদ হোসেন জানান, তিনি যশোর নামক বিলে ৬বিঘা জমিতে এবার আউশ চাষ করেছিলেন। টানা বর্ষণের কারণে সব আউশ ধান পানির নিচে তোলিয়ে গেছে। উঁচু জমির ধানও এখন পানির নিচে। কারণ নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরবাড়িতে উঠে গেছে। এই পানি নেমে গেলেও আউশ ধান আর হবে না। ইতোমধ্যে ধানের গাছ পানির নিচে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এবার আউশের কোনো ধান আমার ঘরে উঠবে না। মোহনপুরের চাষি মকলেসুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন থেকে তিনি আউশ চাষ করে আসছেন। কিন্তু এবারই প্রথম আউশ ধান রোপণ করা হলেও জমিতে কাটতে যেতে হবে না। তিনি বলেন, ১১বিঘা জমির এক বিঘাতেও আউশের ধান জেগে উঠেনি। সব পানির নিচে নষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মোহনপুরের আশাপাশের চারটি বিলে আউশ চাষ হয় বেশি। কিন্তু এই চার বিলের এক হেক্টর জমির ধানও কৃষকের ঘরে উঠবে না। অন্যান্য বছর খালবিলে পানি জমলেও তা অল্প সময়ের মধ্যে নেমে যায়। কিন্তু এবার এক মাস হয়ে গেলেও খালবিলের পানি এতোটুকু কমে নি। তাহলে কি করে আশা করা যায় যে, পানি নেমে গেলে আউশ ধান উঠে দাঁড়াবে।

মকলেসের মত আরো অনেক কৃষকরাই জানান, পানি নেমে গেলে হয়তো দ্রুত বীজতলা তৈরি করে রোপা-আমন চাষ করা যেতো। কিন্তু পানি সহসাই নামবে না বলেও তারা জানান। কারণ রাজশাহীর খালবিলের পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। টানা এক মাস হতে চললো বিলের পানি বিলেই অবস্থান করছে।

এদিকে কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী বাগমারার ৮টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীর কোথাও বন্যায় প্লাবিত হয়নি। কিন্তু বাস্তবে এই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌর সভার কোনো খালবিল বন্যায় প্লাবিত হতে বাকি নেই। শুধু বাগমারাই নয়, মোহনপুর উপজেলার ১১টি বিলের মধ্যে সবকটি বন্যার পানি থৈ থৈ করছে। দুর্গাপুরের ১৪বিলের আউশ ধান এখনো পানির নিচে। পবা, পুঠিয়া, বাঘা, চারঘাট এই তিন উপজেলার ৩৭টি বিলের মধ্যে সবকটি খালবিলের আউশ ধান এখনো পানির নিচে রয়েছে। তারপরও রাজশাহী কৃষি বিভাগ বলছে’ আউশের তেমন ক্ষতি হয়নি। আউশের যে ক্ষতি হয়েছে তা রোপা-আমনে পুষিয়ে নেয়া যাবে। কিন্তু সেই রোপা আমন ধান কোথায় রোপন হবে এমন প্রশ্ন কৃষকের মধ্যে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয় রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাসছুল হকের সাথে। তিনি আউশের ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আউশের যে ক্ষতি হয়েছে তা আমরা রোপা আমনে পুষিয়ে নেবো। খালবিলের পানি কতদিনে নিস্কাশন হবে আর রোপা আমন ধান রোপন চাষ কিভাবে হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রোপা-আমন মওসুম শেষ না হতেই পানি নেমে যাবে। পানি নেমে গেলে আউশের ওই সব জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হবে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031