ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডিত পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তার বিচার সেনা আইনেই হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই ঘটনায় তাকে আবার বেসামরিক আইনে বিচারের সুযোগ আছে কি না, তা আইনি প্রক্রিয়ায় পরে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার বিজিবি সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সেনা আইনে বিচারের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্য সহযোগীদের বিচার সে সময় সামরিক আদালতে হয়েছিল। সেই বিচারের বিভিন্ন পর্যায়ে যে পর্যবেক্ষণ (ফাইন্ডিংস) রয়েছে, সেগুলোও জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনায় নেবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তারের পর তার সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন, তা জানতে নতুন করে কোনো তদন্ত বা অনুসন্ধানী মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘একই ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুই ভিন্ন আইনে আলাদাভাবে বিচার করা যায় না।’
এ সময় আরেক সাংবাদিক উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সিআইডি আগে তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দিয়েছিল। এ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত (রিভাইভ) করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যদি বেসামরিক আদালতের কোনো বিষয় থাকে, তবে তা আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। তবে আপাতত গ্রেপ্তার হওয়া আসামির বিচার সেনা আইনেই চলবে।’
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা
সীমান্তে মাদক চোরাচালান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সীমান্তে গোলাগুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের ঘটনা বিবেচনায় সরকার ১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিরতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সরকারি বাহিনীর সাথে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী যেমন— আরএসও ও আরসা’র তীব্র অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত চলছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বর্ডার এই ত্রিমুখী সংঘাতের মাঝে এক ধরনের সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ওপার থেকে ছিটকে আসা গোলাগুলি ও মাদকের অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জারি রেখেছে। ভারতের সাথে সীমানা ব্যবস্থাপনার ধরন ও মিয়ানমার সীমান্তের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিধায় মিয়ানমার সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুশইন ঠেকাতে সফল হওয়ার দাবি
ভারত থেকে কথিত ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সহযোগিতায় এ ধরনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কিছু মানুষ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতে অবস্থানরত কেউ বাংলাদেশি নাগরিক হলে তাঁর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তালিকা পাঠাতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তালিকা পেলে জাতীয়তা যাচাই করা হবে। বাংলাদেশি হিসেবে নিশ্চিত হলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এর বাইরে কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত রাজ্য সরকার তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে এ ধরনের বিষয় সামনে আনতে পারে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করছে।
বিজিবির সদস্যদের অতিরিক্ত স্বীকৃতির আশ্বাস
বিজিবির সদস্যদের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে অতিরিক্ত পুরস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য বিজিবিকে প্রতিবছর নিয়মিত পদক দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুশইন প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকার জন্য পদকের পাশাপাশি সনদ বা অন্য কোনো স্বীকৃতি দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করবেন।



