ধূমকেতু প্রতিবেদক,পুঠিয়া : জয় বাবা ভোলানাথ জয় বাবা পুঠিয়া নাথ” এই শ্লোগানে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে শিবলিঙ্গে পবিত্র গংঙ্গাজল অর্পণ করা হয়।
সোমবার (১৭ আগষ্ট) এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঐতিহাসিক শিবমন্দিরে গংঙ্গাজল অর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উপজেলা হিন্দু কল্যান ও সংস্কার সমিতি।
পুঠিয়া উপজেলা হিন্দু কল্যান ও সংস্কার সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন,সোমবার ভোর থেকে স্থানীয় ও বহিরাগত হিন্দু ধর্মালম্বী ভক্তরা শিবমন্দিরে আসতে শুরু করেন। আগত ভক্তদের সার্বিক নিরাপত্তায় পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে পুলিশ-প্রশাসনের পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির লোকজন তাদের দ্বায়িত্ব পালন করেন।
আয়োজকরা বলেন, গঙ্গাজল অর্পণ করতে শুধুমাত্র পুরুষরা গেরুয়া ধুতি ও গেঞ্জি পরিধান করেছেন। আগত ভক্তরা একটি বাঁকা ভার দু’টি বড় ছিকা সম্বলিত দুই ঘটি গঙ্গাজল সাজিয়ে ক্ষেপা বাবা বোম, বোম, ধ্বনিতে মন্দিরে আসছেন। এরপর মন্দিরের চার পাশে সাতপাক ঘুরে শিবলিঙ্গের মাথায় পবিত্র গংঙ্গাজল অর্পন করেছেন।
তবে বহিরাগত কিছু ভক্ত রোববার বাঘা উপজেলায় অবস্থিত আড়ানী বাজারে ক্ষ্যাপা বাবার আশ্রমে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে সারারাত্রী নাম-কীর্তন করে সোমবার ভোরে বড়াল নদী থেকে ঘট ভর্তি গঙ্গা জল নিয়ে শিব মন্দিরে এসে গঙ্গাজল অর্পন করেছেন।
জানা গেছে, ১২৩০ বঙ্গঃ থেকে ১২৩৭ বঙ্গঃ পর্যন্ত উপমহাদেশের দৃষ্টিনন্দন সস্বলিত ঐতিহাসিক শিব মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। আর মন্দিরটি নির্মাণ করেন মহারানী ভুবনমহন দেবী। যা এশিয়ার সর্ববৃহত শিব মন্দির হিসাবে পরিচিত। আর ১৯৮৯ ইং সালে বাঘা উপজেলার আড়নীর পাগলা বাবা প্রথম শিবমন্দিরে নগ্ন পদযাত্রা ও পবিত্র গংঙ্গাজল অর্পণের রীতি শুরু করেন। এরপর থেকে এখানে প্রতিবছর শ্রাবন মাসের শেষ সোমবার নগ্ন পদযাত্রা (বোম, বোম) অনুষ্ঠিত হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও শিবমন্দিরে হিন্দু ধর্মালম্বীদের নগ্ন পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আর পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় পুঠিয়া উপজেলা হিন্দু কল্যান ও সংস্কার সমিতির সভাপতি গুরু প্রসাদ দাস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে রাজশাহী ৫ (পুঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যপক নজরুল ইসলাম মন্ডল বলেন,বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনা দেশ। শতাব্দি প্রাচীন পুঠিয়া রাজবাড়ী ও শিবমন্দিরে আবহমান কাল ধরে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে উদযাপিত অনুষ্ঠানগুলো আমাদের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও কৃষ্টি-কালচারের এক অনন্য নিদর্শন। তিনি এছাড়াও আরো বলেন স্থানীয় ও বহিরাগত সকল ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখে অনুষ্ঠান উদযাপনের সকলকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ যাপন করেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব,শ্রী বিশ্বনাথ সরকার, পুঠিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র আসাদুল হক আসাদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক রাজন, উপজেলা পূজা উদযাপন ঐক্য ফন্টের সভাপতি শ্যামল কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু হায়াত মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফন্টের আহ্বায়ক মৃনাল কুমার গোস্বামী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক অধ্যাপক আতিকুর রহমান, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলাল হোসেন আলাল, পৌর যুবদলের আহবায়ক নেফাউর রহমান সুমন,উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিপন রেজা, যুবদল নেতা রোকনুজ্জামান রিকো স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



