ধূমকেতু প্রতিবেদক : বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করতে বিএমডিএ’র আওতাধীন গভীর নলকূপগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) কৃষিবিদ জনাব মোঃ হাসান জাফির তুহিন।
আজ সোমবার(২৮সেপ্টেম্বর) বিএমডিএর প্রধান কর্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান (গ্রেড-২) সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতি চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো: হাসান জাফির তুহিন বলেন, গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সারা দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার গভীর নলকূপ পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। সৌরচালিত ডিপ টিউবওয়েল চালু হলে একদিকে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পরিচালনা ব্যয় কমবে অন্যদিকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও উৎপাদনে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থা চালু হলে কৃষকের সেচ ব্যায় কমানো, সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুকি কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা আরও টেকসই ও আধুনিক হবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতিটি এলাকার কৃষক আমাদের কাজের কেন্দ্রবিন্দু। কোথাও জমি অনাবাদি থাকবে, আবার অন্য কোনো এলাকায় বেশি সুযোগ-সুবিধা থাকবে এ ধরনের বৈষম্য কাম্য নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৬টি জেলায় প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এতে উন্নয়নের সুফল সব এলাকার মানুষ সমানভাবে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পরিকল্পিতভাবে প্রতিটি জেলায় প্রয়োজনভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করে কৃষি, সেচ, পানি ব্যবস্থাপনা ও সৌরবিদ্যুতের সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে ছোট আকারের প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে সরকারের সবুজ পাতায় স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি মহানন্দা নদীকে ঘিরে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এছাড়া বরেন্দ্র মেগা প্রকল্পের কাজের ফাইলও এগিয়ে চলেছে বলে তিনি জানান।
তিনি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় কৃষক ও জনগণের সমস্যা ও প্রয়োজন জানতে হবে। বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করা হলে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভায় নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কোনো জমি যেন পানির অভাবে অনাবাদি না থাকে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের বিএমডিএ’র কমান্ড এরিয়ার মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার কারণে যেসব ডিপ টিউবওয়েল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে সংশিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আসন্ন সেচ মৌসুম শুরুর আগেই বন্ধ ডিপ টিউবওয়েল গুলো সচল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি পাশাপাশি পানি ও জ্বালানির অপচয় রোধ করে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী ড. মোঃ আবুল কাসেম, সচিব মোঃ মেহেদী হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল লতিফ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম মাহফুজুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: নাজিরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক শিবির আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ জিন্নুরাইন খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ সমসের আলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোসাঃ রুবিনা খাতুন, নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তোফাজ্জল আলী সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী এ,এস.এম দেলোয়ার হোসেন সহ মতবিনিময় সভায় বিএমডিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



