ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ৭৭তম জন্মদিন উদ্যাপন করতে জেরুজালেমের মাহানে ইয়েহুদা বাজারে যাওয়ার পথে তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে কাচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেবলে জানায় বার্তাসংস্থা জেরুজালেম পোস্ট।
নেতানিয়াহুর গাড়িবহর বাজারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে স্বাগত জানাতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো ইসরায়েলি। গাড়িবহর নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দিতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল রেলসেবা।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোতল নিক্ষেপের পর নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ব্যারিকেড টপকে ভিড়ের মধ্যে প্রবেশ করেন। বোতল নিক্ষেপকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন তারা। এ সময় গাড়িবহর স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যায়।
মাহানে ইয়েহুদা বাজারে পৌঁছালে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারাকে জন্মদিনের সংগীত বাজিয়ে স্বাগত জানানো হয়। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে ফুলের তোড়া হাতে জনতার উদ্দেশে নাড়তে এবং পরে সেটি ভিড়ের দিকে ছুড়ে দিতেও দেখা যায়।
বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে অভিহিত করেছেন।
বেন-গভির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উসকানি এবং তার ওপর এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণতি রয়েছে। তিনি বামপন্থীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কথা মানুষকে হত্যা করতে পারে।’
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ, বাজারে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ
মাহানে ইয়েহুদা বাজারে যাওয়ার আগে বৃহস্পতিবার তেল আবিবের হাতিকভা বাজারেও গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। সেখানে এক ক্ষুব্ধ ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি হামাসকে লাখ লাখ ডলার কেন পাঠিয়েছিলেন?’
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এ ঘটনার দৃশ্য দেখা গেছে। ওই ব্যক্তি ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে সেখানে উপস্থিত লিকুদ পার্টির সমর্থকেরা তার হাত থেকে ফোন ফেলে দেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বাজারে উপস্থিত ছিলেন নিহত জিম্মি গাই ইলুজের বাবা মিশেল ইলুজ, নিহত জিম্মি কারমেল গ্যাটের চাচাতো ভাই গিল ডিকম্যান এবং সাবেক জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা আইনাভ জাঙ্গাউকার।
৭ অক্টোবরের হামলার সময় যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন তারা। এ সময় মিশেল ইলুজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হামলার সময় নেতানিয়াহু ওই এলাকায় ছিলেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইনাভ জাঙ্গাউকার লেখেন, নেতানিয়াহুকে সত্য কথাটি জানাতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য, গণহত্যার জন্য নেতানিয়াহুও দায়ী এবং ৭ অক্টোবর যারা ক্ষমতার অবস্থানে ছিলেন, তাদের কারও সরকারের দায়িত্বে থাকা উচিত নয় বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর।
জাঙ্গাউকার অভিযোগ করেন, সেখানে তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ বলা হয়, তাদের দিকে থুতু ও সবজি ছোড়া হয়। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। তার ভাষ্য, শোকাহত অভিভাবক ও জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য প্রকাশে বাধা দিতেই পুলিশকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল।
মিশেল ইলুজও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বন্দিদশায় ছেলেকে হারানো একজন শোকাহত বাবার ওপর সাধারণ নাগরিকদের হামলা চালানো লজ্জাজনক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ছেলেকে বন্দিদশায় মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখেছিলেন এই অভিযোগ জানাতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
ইলুজ আরও বলেন, ভোটের সময় ইসরায়েলিদের তার ছেলে গাইয়ের কথা মনে রাখা উচিত। এখন পরিবর্তন আনার সময় এসেছে।
সাবেক জিম্মি রম ব্রাসলাভস্কিও এক্সে ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘আমি রাগে ফুঁসছি… একই সঙ্গে বিষয়টি আমাকে কষ্টও দিচ্ছে।’
ইসরায়েলের ডেমোক্র্যাটস দলের আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভও মিশেল ইলুজের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাইকে পরিত্যাগ করার জন্য যেমন দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে, তেমনি তার বাবার ওপর যারা সহিংসতা চালিয়েছে, তাদেরও নিন্দা জানানো উচিত।



