IMG-LOGO

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২১ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
মায়ের মূর্ত প্রতীকই হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া : ভূমিমন্ত্রী‘গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ’নন্দীগ্রামে বিএনপি নেতা আদরের মাতার ইন্তেকালসিংড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসননিয়ামতপুরে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণরহনপুরে চক্ষু হাসপাতালের উপকেন্দ্রের উদ্বোধনসিংড়ায় ঢেউটিন প্রদান, চলনবিলে পোনা মাছ অবমুক্ত ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণধামইরহাটে কবর থেকে কঙ্কাল চুরি, জড়িত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরায়গঞ্জে একটি রাস্তা না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্হানীয় মুসল্লিরাসিংড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে কবরস্থান পরিষ্কার করলেন এলাকাবাসীবাগমারায় স্বামী-সন্তান ফেলে গর্ভে সন্তান নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে উধাও গৃহবধূরাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ান মোহনপুরের হাতে পুরস্কার তুলে দেন :ভূমিমন্ত্রী মিনুফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনচাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যাদাঁড়িয়ে থাকা লরির পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, কেরালায় ৮ শিক্ষার্থী নিহত
Home >> নগর-গ্রাম >> বিশেষ নিউজ >> উত্তরে মাঘের কাঁপনি

উত্তরে মাঘের কাঁপনি

ধূমকেতু প্রতিবেদক : উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। তাপমাত্রা কমে আসায় জবুথুবু কাঁপছে পুরো উত্তরাঞ্চল। কনকনে শীতে বিপযস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঝে মাঝে উঁকি দিলেও তাপ ছিল না। এতে দিনভর শীতে কেঁপেছে মানুষ সহ প্রাণীকুল। ঘনকুয়াশা শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে আরো এক ধাপ। সন্ধ্যার পর কনকনে শীতে নাজেহাল হচ্ছে মানুষ। শীত বাড়ায় সব বয়সী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আবহাওয় অফিস বলছে রাজশাহী অঞ্চলের তাপমাত্রা আরো কমে আসবে। এতে বাড়বে শীত। আর এই অবস্থা পুরো সপ্তাহজুড়েই চলবে এমনটাও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

রাজশাহীর আবহাওয়া অফিসের জেষ্ঠ্যপর্যবেক্ষক দেবল কুমার মৈত্র জানান, শুক্রবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কম থাকলেও শীতের তেমন দাপট ছিল না। কারণ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেশি ছিল। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে এসে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে এসে দাঁড়ায় ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে রাজশাহী অঞ্চলে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। পুরো সপ্তাহ জুড়েই এই অবস্থা চলবে বলে জানান তিনি। শুক্রবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীত বাড়ায় ভোগান্তি বেড়েছে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের। দিনমুজুর শ্রেণির মানুষ কাজে যেতে না পেরে অনেকটাই ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাড় কাঁপানো শীতের কারণে ছিন্নমূল মানুষ পড়েছে চরম বেকায়দায়। শীতের কারণে অতিপ্রয়োজন ছাড়া লোকজনদের বাইরে বের হতে দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে রাত ৮টার পর নগরীর রাস্তা-ঘাট জনমানুষ শূন্য হয়ে পড়ছে। নগরীর ন্যায় গ্রামাঞ্চলেও সন্ধ্যার পর লোকজনদের বাইরে দেখা মিলছে না। দেখা গেছে, রাতে নগরীর বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশনসহ ফুটপাতে যারা রাত পার করছেন তাদের দুর্ভোগের সীমা থাকছে না। এই কনকনে শীতেও এসব ছিন্নমূল মানুষের শরীরে নেই গরম কাপড়। এসব শীতার্ত মানুষের পাশে নেই কেউ।

এদিকে, রাজশাহী মহানগরীর বস্তি ও গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত গরম পোশাক না থাকা মানুষকে আগুন জ্বেলে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পথশিশুদের কনকনে ঠাÐার মধ্যেও সেই এক পোশাকে ঘুরতে দেখা গেছে। গত ৪ দিন ধরে প্রতিদিনই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তীব্রতা বাড়ায় মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোরে কাজের সন্ধানে বের হওয়া অনেক মানুষকে কাজ না পেয়ে খালি হাতে ঘরে ফিরতে দেখা গেছে।

নাইমুল নামের এক দিনমজুর বলেন, শীত হোক আর বৃষ্টি হোক পরিবারের সদস্যদের মুখে দুই বেলা দুই মুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য কাজ করতেই হয়। কিন্তু বেশি শীতের দিন ও বৃষ্টির সময় কাজ মেলেনা। কাজ না পেলে কষ্টের সীমা থাকেনা। রহিদুল নামের এক রিক্সাচালক বলেন, শীত বেশি পড়লেও কিছু করার নাই। দুই পয়সা আয় করার জন্য কষ্ট হলেও বাইরে থাকতে হবে। ঘরে বসে থাকলে পেটতো আর চলবে না।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে বস্তিতে থাকা ভিক্ষুক নারী বলেন, সামর্থ্যবানদের উচিত শীতের মধ্যে হতদরিদ্রদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করা। বিভিন্ন দল ও সংস্থার পক্ষ থেকে গরম কাপড় বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

নওগাঁ : নওগাঁর বদলগাছীতে টানা চর্তুথ দিনের মতো সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানান। সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ও বুধবার এখানে দেশের সর্বনিস্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। এর বৃহস্পতিবার দিনাজপুরে সর্বনিন্ম ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। তবে আবার নওগাঁর বদলগাছিতে শুক্রবার সকালে তাপমাত্রা আরো কমে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, শনিবার সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল সর্বনিম্ন ৯.৯ শতাংশ। তবে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। গত কয়েকদিন ধরে দিন ও রাতের আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের কারণে বেশ ঠাÐা পড়েছে। তাই তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরো বেড়ে যাচ্ছে। এজন্য সকালে ও রাতে ঘন কুয়াশার সাথে প্রচÐ ঠাÐা অনুভূত হচ্ছে। এর সাথে বয়ে যাচ্ছে উত্তরের প্রচণ্ড হিমেল হাওয়া। তিনি আরো জানান, ৮ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলে তাকে বলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ’। বর্তমানে এখানে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে চলেছে। তবে আরো তাপমাত্রা বাড়াতে পারে বলেও তিনি জানান।

জানা যায, বদলগাছী ছাড়াও নওগাঁ সদর, মান্দা উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোতে ঘন কুয়াশার সাথে উত্তরের বয়ে চলা হিমেল বাতাসে সাধারণ খেটে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষজন। কারণ তারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

এদিকে, শৈত্যপ্রবাহ আরো দুই দিন অব্যাহত থাকবে এবং দুই দিন পর তাপমাত্রা ফের বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। শুক্রবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে।

এ ছাড়া আবহাওয়াবিদরা জানান, চলতি শৈত্যপ্রবাহ আরো দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ফের তাপমাত্রা বাড়বে। চলতি মাসে সাধারণত শীত থাকলেও শৈত্যপ্রবাহ চলমান এলাকার বাইরে খুব বেশি জায়গায় ছড়াবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সাধারণত তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬-৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং এর নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। শুক্রবার নওগাঁর বদলগাছীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে আমাদের নওগাঁ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিন দিন থেকেই এমন আবহাওয়া বইছে জেলাজুড়ে। এ অবস্থা আরো কয়েক দিন থাকতে পারে। এদিকে বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় শুক্রবারের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১২.৩, ময়মনসিংহে ৯.৮, চট্টগ্রামে ১৫.৪, সিলেটে ১২.৫, রাজশাহীতে ৯, রংপুরে ১০.৩, খুলনায় ১৩ এবং বরিশালে ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031