ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : সৌদি আরবে ২০২৫ সালে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির আধুনিক ইতিহাসে এক বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক।
মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভ ও ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ৩৫৬ জনের মধ্যে ২৪০ জন মাদকসংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮৮ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
সংগঠন দুটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু গাঁজাসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ৯৮ জনের।
তারা বলছে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বাড়ার পেছনে বিদেশি নাগরিকদের মাদকসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি বড় ভূমিকা রাখছে।
পাঁচ বছরে মৃত্যুদণ্ড বেড়েছে পাঁচগুণ
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সৌদি আরবে ১৯৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫৬ জনে।
রিপ্রিভ ও ইএসওএইচআর ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতায় আসার আগের পাঁচ বছরে সৌদি আরবে বছরে গড়ে ৭০ দশমিক ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো।
সংগঠন দুটির দাবি, এরপর দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
রিপ্রিভের প্রধান নির্বাহী মায়া ফোয়া বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমান একাধিকবার মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার কমানোর কথা বলেছেন। কিন্তু তার শাসনামলেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা পাঁচগুণ বেড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে, আঞ্চলিক সংকটের সময় নজর অন্যদিকে সরে গেলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অপরাধের অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া।
রিপ্রিভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এমন কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যারা অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনার সময় শিশু বা কিশোর ছিলেন।
ইএসওএইচআরের আইনবিষয়ক পরিচালক তাহা আল-হাজ্জি বলেন, সৌদি আরবে শিশু, অভিবাসী শ্রমিক এবং ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিরা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসব ঘটনা উপেক্ষা করলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রিপ্রিভ ও ইএসওএইচআর জানিয়েছে, তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, প্রকাশ্য তথ্য এবং সম্ভব হলে আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের হিসাব সংগ্রহ করে। তাদের হিসাবে ২০২৫ সালে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে তারা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রিপ্রিভ


