ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : দিল্লিতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধাবস্থার’ দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জা হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও প্রিন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করেন সিজেপির নেতারা। এতে সংগঠনটির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্রকে নিজ নাগরিকদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে বিক্ষোভ করতে চাওয়া আন্দোলনকারীদের বাধা না দিয়ে কর্তৃপক্ষ চাইলে আলোচনার জন্য প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারত।
ট্রেন বাতিল, বিক্ষোভে বাধা ও কর্মীদের আটকের মাধ্যমে মোদি সরকার দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন সিজেপির নেতারা। তারা বলেন, বেআইনিভাবে আটকে রাখার পর ছেড়ে দেওয়ার সময় ‘আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখার’ শর্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমারই দেশে শান্তি ভঙ্গ করেছেন।
শনিবার দিল্লিতে সমাবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যাক সদস্য মোতায়েন করে প্রশাসন। আটক করা হয় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে। রোববার তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা মেট্রো পরিষেবা ও ইন্টারনেট চালু করতে রোববার সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে অবশ্যই সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদের অধীনে জনশৃঙ্খলার শর্তাবলি মেনে চলতে হবে।
হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, রোববার বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ফের রাজপথে নামে। মিছিল নিয়ে কনট প্লেসের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ শিক্ষার্থী আন্দোলনকর্মী নেহা বোরাকে আটকের চেষ্টা করে। পরে তিনি দৌড়ে এইচ ব্লকের দিকে যান। বিকেল তিনটার দিকে সেখান থেকে নেহাকে আটক করেছে পুলিশ।


