ধূমকেতু প্রতিবেদক,সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি আট দফা দাবি মেনে না নিলে আন্দোলন এক দফায় পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, জনগণের দাবি মেনে না নেওয়া হলে রাজপথের আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় লং মার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল থেকে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে মহাসড়কের পাশে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরের দিকে প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে বেইমানি ও প্রতারণা করেছে বলে তারা মনে করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলদারি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে তিনি এসব বন্ধের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মূল দাবি ছিল রাষ্ট্রের সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
মঞ্চে উঠে জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কাঠফাটা রোদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি আট দফা দাবি আদায়ে জনগণের প্রস্তুতির প্রমাণ। তিনি বলেন, আট দফা দাবি মানা না হলে এক দফার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ‘দেখা হবে রাজপথে, ইনশাআল্লাহ’—বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আট দফা দাবির মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি রয়েছে।
জনসভায় এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে তারা সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে কথা বলেছেন। প্রত্যাশা পূরণ না হলে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার বিকল্প থাকে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শান্তিপূর্ণ লং মার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণ তার জবাব দেবে বলেও তিনি বক্তব্য দেন।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা।
ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হওয়া লং মার্চের বহরটি বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে হাটিকুমরুলে পৌঁছে। পরে দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে নেতৃবৃন্দ রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।



