ধূমকেতু প্রতিবেদক,মহাদেবপুর : নওগাঁর মহাদেবপুরে মসজিদের জমি দখল করে নতুন মসজিদ নির্মাণ করায় উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। মসজিদ নির্মাণের এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খাজুর ইউপির রণাইল নিচপাড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রণাইল মৌজার আরএস ৪৩৬ নং খতিয়ানে লেওয়ান বিবি স্বত্ববান ও দখলীকার থাকাকালে ১৯৬৯ সালে ৬২৯ দাগে ১৪১২৯ নং দানপত্র দলিলমূলে ১.১৮ শতক জমি রণাইল নিচপাড়া জামে মসজিদের নামে হস্তান্তর করা হয়। সম্প্রতি রণাইল নিচপাড়া জামে মসজিদের প্রাক্তন সেক্রেটারী রণাইল নিচপাড়া গ্রামের মৃত কাদের বক্স মন্ডলের ছেলে মোঃ এহেসানুল হক বাবুল, মৃত ইয়াকুব আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ জিয়ারুল ইসলাম, মৃত সারেজ মন্ডলের ছেলে আহম্মদ আলী, মৃত জয়নালের ছেলে নুরুজ্জামান, মৃত ফইমুদ্দীনের ছেলে মকলেছুর রহমান, মৃত তমছের আলীর ছেলে মোঃ বেলাল উদ্দীন, মৃত ময়েজ উদ্দীনের ছেলে মোঃ মোশারফ হোসেন, ফজর আলীর ছেলে মোঃ ময়নুল ইসলাম, মাবুদ বক্সের ছেলে মোঃ মিরাজুল ইসলাম, মৃত আব্দুস ছামাদের ছেলে মোঃ আবুল কালাম, মৃত মজির উদ্দীনের ছেলে মোঃ হেলাল উদ্দীন জোরপূর্বক উক্ত জমির দক্ষিণ পূর্ব কোনায় ৫ শতক জমি দখল করে একটি অস্থায়ী ওয়াকিতিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন। এহেসানুল হক বাবুল সেক্রেটারী থাকা অবস্থায় মসজিদের একটি পুকুর ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় জিয়ারুল ইসলামকে লীজ প্রদান করেন কিন্তু হিসাব-নিকাশের গড়মিলসহ বিতর্কিত কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মুছল্লীগণ কমিটি বাতিল করে রণাইল গ্রামের মৃত মাবুদ বক্স মন্ডলের ছেলে মোঃ আব্দুল কাদেরকে সভাপতি ও মৃত আবু তালেবের ছেলে মোঃ ইদ্রিস আলীকে সেক্রেটারী নির্বাচিত করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মসজিদ কমিটির প্রাক্তন সেক্রেটারী এহেসানুল হক বাবুল পুকুর লীজের টাকার হিসাব-নিকাশ না দিয়ে উপরোক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে রণাইল নিচপাড়া জামে মসজিদের ওই জমি দখল করে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এ ব্যাপারে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের জন্য উপরোক্ত ব্যক্তিদের বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির প্রাক্তন সেক্রেটারী মোঃ এহেসানুল হক বাবুল ওই মসজিদের জমিতেই মসজিদটি নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এলাকার বয়স্ক মানুষের জন্য ওয়াকিতিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। পুকুর লীজের টাকা লীজ গ্রহিতা প্রতি বছর আনুপাতিক হারে মসজিদ কমিটির নিকট পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় বিরোধের সমাধান না হলে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং যেকোনো সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা।#



