IMG-LOGO

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩০ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
ইউক্রেনে ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলাকুষ্টিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ, বড় ভাইয়ের হাঁসুয়ার কোপে ছোট ভাই নিহতরাজশাহীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনদেশের প্রথম AI-সমন্বিত স্মার্ট হেলমেট তৈরির উদ্যোগ সপ্তম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীরসিংড়ার চামারি ইউনিয়নে ‘নবীন-প্রবীণ ঐক্য পরিষদ’ আত্মপ্রকাশসিরাজগঞ্জে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা’র আয়োজনে, দোয়া ও আলোচনা সভাতানোরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আনসার প্লাটুন কমান্ডারের তাল বীজ রোপণপ্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের তারিখ জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিররায়গঞ্জের হাটপাঙ্গাসীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমাবেশবাঘায় বন্যার্তদের পাশে আনসার ভিডিপি,বিতরণ করা হলো খাদ্য ও ওষুধসিরাজগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার রোধে সেমিনারছোটবেলা থেকেই বন্ধুত্ব, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আসলে আপন বোনসাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার ও তদন্ত চেয়ে আবেদনপ্রতিবন্ধীদের প্রতিষ্ঠান স্নেহনীড় পরিদর্শন করলেন রাসিক প্রশাসকনিহত সেনাসদস্য রিফাতের পরিবারের পাশে এমপি মিলন
Home >> মতামত >> ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করুন

ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করুন

ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করুন

তৌফিক সুলতান : ঈদুল ফিতর মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি। ‘ঈদ’ অর্থ উৎসব বা আনন্দ। ‘ফিতর’ অর্থ বিদীর্ণ করা, উপবাস ভঙ্গ করা, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া।

পবিত্র রমজানে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর শাওয়াল মাসের ১ তারিখে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে যাওয়ার দিনটিই ঈদুল ফিতর। পবিত্র রমজানের এক মাস কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য—এসব রিপুর চর্চা থেকে নিজেকে বিরত রাখার সাধনা চলে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পরই ঈদুল ফিতর উৎসব পালন শুরু হয়। হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস থেকে জানা যায় যে নবী করিম (সা.) মদিনায় এসে জানলেন, মদিনাবাসী বছরের দুটি দিনে আনন্দ-উল্লাস করে থাকে। জিজ্ঞাসা করে তিনি আরও জানলেন, ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই এই দুটি দিনকে তারা উৎসবের দিন হিসেবে পালন করে।

রাসুল (সা.) তাঁদের বললেন, আল্লাহ তোমাদের এই দুইটি দিনের বদলে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। দিন দুটি হলো ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।পবিত্র রমজানের পুরো এক মাস রোজা এবং সংশ্লিষ্ট ইবাদত ও বিধিনিষেধ পালনের পর শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে ঈদ উৎসব পালিত হয়। এ দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জামাতে ঈদের নামাজ আদায়, গরিব-দুঃখীদের মধ্যে ফিতরা বিতরণ এবং ভালো খাওয়া–দাওয়ার আয়োজন।

ঈদুল ফিতর উৎসবের একটি তাৎপর্যময় অঙ্গ হলো ফিতরা বিতরণ। রোজার সময় সংযম সাধনায় কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটে থাকলে তা সংশোধন এবং সমাজের সর্বস্তরের লোক যাতে উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে জন্য গরিব-দুঃখীদের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট হারে সদকায়ে ফিতরা বিতরণ করতে হয়।

প্রত্যেক সমর্থ্য মুসলমানের জন্য ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। মাথাপিছু কত টাকা ফিতরা দিতে হবে, তা আগেই ইসলামিক রাষ্ট্র কিংবা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দেয়। নিয়ম হলো ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগেই এই ফিতরা পরিশোধ করতে হবে। তারপর ঈদগাহ কিংবা তার অভাবে বড় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। ফিতরা দেওয়া ছাড়াও গরিবদের সাধ্যমতো খাদ্য ও বস্ত্র ইত্যাদি দেওয়া উত্তম।

ঈদুল ফিতরের নামাজে অতিরিক্ত ছয় তকবিরসহ দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ পড়তে হয়। নামাজের শেষে ইমাম সাহেব পর পর দুটি খুতবা পড়েন। নামাজ শেষে মুসলমানরা উচ্চ–নিচ, ধনী–গরিব ও বয়সনির্বিশেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি, সালাম ও কুশল বিনিময় করে। এ ছাড়া অনেকে এ দিন আত্মীয়স্বজন ও পুণ্যবানদের কবরও জিয়ারত করে।পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মে যে সব প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয় সেগুলির মধ্যে ঈদুল ফিত্‌র হচ্ছে কনিষ্ঠতম৷ এ মহান পুণ্যময় দিবসের উদযাপন শুরু হয় আজ থেকে মাত্র ১৩৮০ সৌর বছর পূর্বে৷ প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মদীনাতে হিজরত-এর অব্যবহিত পরেই ঈদুল ফিত্‌র উৎসব পালন শুরু হয়৷

হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদীস থেকে জানা যায়, নবী করিম (সা.) মদীনা আগমন করে দেখলেন মদীনাবাসীগণ দুই দিবসে আনন্দ-উল্লাস করে থাকে৷ মহানবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, এ দিবসদ্বয় কি? ওরা বলল, জাহেলী যুগ থেকেই এ দুটি দিবসে আনন্দ-উল্লাস করে থাকি৷ তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “আল্লাহ তোমাদেরকে উক্ত দিবসদ্বয়ের পরিবর্তে উত্তম দুটি দিবস দান করেছেন৷ দিবসদ্বয় হলো ঈদুল আযহার দিবস ও ঈদুল ফিত্‌রের দিবস৷ (সুনান আবূ দাউদ, কিতাবুল ঈদায়ন)’’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পারসিক প্রভাবে শরতের পূর্ণিমার নওরোয নামে এবং বসন্তের পূর্ণিমার মিহিরজান নামে উৎসব দুটি মদীনাবাসীরা বিভিন্ন ধরনের আনন্দ-আহ্লাদ, খেলাধুলা ও কুরুচিপূর্ণ রংতামাশার মাধ্যমে উদযাপন করত৷ উৎসব দুটির রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার ছিল সম্পূর্ণরূপে ইসলামের আদর্শ পরিপন্থী৷

জরথুস্ত্র প্রবর্তিত নওরোয ছিল নববর্ষের উৎসব৷ কিন্তু এটি ছয়দিন ব্যাপী উদযাপিত হতো যার মধ্যে শুধুমাত্র একটি দিবস নওরোয-এ-আম্মা বা কুসাক ছিল সাধারণ মানুষের জন্য নির্দিষ্ট৷ অন্যান্য দিনগুলি ছিল সম্ভ্রান্ত ও উচ্চবিত্তের ব্যক্তিবর্গের জন্য সুনির্দিষ্ট৷ অনুরূপভাবে ৬ (ছয়) দিনব্যাপী মিহিরজান অনুষ্ঠানেও শুধুমাত্র একটি দিন সাধারণ, দরিদ্র মানুষেরা উপভোগ করতে পারত৷ শ্রেণি বৈষম্য, ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে কৃত্রিম পার্থক্য, ঐশ্বর্য-অহমিকা ও অশালীনতার পূর্ণ প্রকাশে কলুষিত ছিল এ দুটি উৎসব৷ ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত আরববাসীরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশে শুরু করল ঈদুল ফিত্‌র ও ঈদুল আযহা উৎসব উদযাপন৷ জন্ম নিল শ্রেণি বৈষম্য বিবর্জিত, পঙ্কিলতা ও অশালীনতামুক্ত সুনির্মল আনন্দে ভরা সুস্নিগ্ধ, প্রীতি-সঘন মিলন উৎসব ঈদুল ফিতর৷

উল্লেখ্য যে, ইসলাম ধর্মীয় উৎসব বলে ঈদুল ফিতর প্রধানত মুসলমানদের মধ্যেই সীমিত থাকে৷ তবে, ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম এবং ঈদের অর্থ আনন্দ বিধায় প্রকারান্তরে ঈদ সকল মানবের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে৷ মুসলিমরা ঈদুল ফিতরের দিন বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করে থাকে৷ ঈদের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ এবং এই দিনটির জন্য একটি নির্দিষ্ট নামাজও মনোনীত করা হয়েছে। দান-খয়রাতের একটি বাধ্যতামূলক কাজ হিসেবে ‘ঈদের নামাজে’ যাবার আগে গরিব ও অভাবীকে অর্থ (যাকাত উল ফিতর নামে পরিচিত) প্রদান করা হয়৷ রমযান মাসের রোজার ভুলত্রুটির দূর করার জন্যে ঈদের দিন অভাবী বা দুস্থদের কাছে অর্থ প্রদান করা হয়, যেটিকে ফিতরা বলা হয়ে থাকে৷ এটি প্রদান করা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব৷

ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করার বিধান রয়েছে৷ তবে ভুলক্রমে নামাজ পড়া হয়ে গেলেও ফিতরা আদায় করার নির্দেশ ইসলামে রয়েছে৷ ফিতরার ন্যূনতম পরিমাণ ইসলামি বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট৷ সাধারণত ফিতরা নির্দিষ্ট পরিমাণ আটা বা অন্য শস্যের (যেমন: যব, কিসমিস) মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়৷ সচরাচর আড়াই সের আটার স্থানীয় মূল্যের ভিত্তিতে ন্যূনতম ফিতরার পরিমাণ নিরূপণ করা হয়৷ স্বীয় গোলামের ওপর মালিক কর্তৃক ফিতরা আদায়যোগ্য হলেও বাসার চাকর/চাকরানি অর্থাৎ কাজের লোকের ওপর ফিতরা আদায়যোগ্য নয়; বরং তাকে ফিতরা দেয়া যেতে পারে৷ ইসলামে নিয়ম অনুযায়ী, যাকাত পাওয়ার যোগ্যরাই ফিতরা লাভের যোগ্য৷

লেখক : তৌফিক সুলতান, দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও নিউজ ও ভিডিও পেতে ক্লিক করুন :

ওয়েব সাইট : https://dhumkatunews.com/
ইউটিউব ভিডিও লিংক : https://www.youtube.com/@dhumkatunews/featured
টুইটার : https://twitter.com/dhumkatunews
ইন্সটেগ্রাম : https://www.instagram.com/dhumkatunews/
লিংকডইন : https://www.linkedin.com/in/dhumkatunews/
পিনটারেস্ট : https://www.pinterest.com/dhumkatunews

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031