IMG-LOGO

শনিবার, ৩ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
শহীদ জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের আপোষহীন জনপ্রিয় নেতা: ভূমিমন্ত্রীপুঠিয়ায় ২০০ লিটারের অধিক চোলাই মদ ধ্বংসগোমস্তাপুরে কৃষকদলের বর্ধিত সভাখোকশাবাড়ী নতুন পশুর হাট বসানোর লক্ষ্যে ইউনিয়নবাসীর বিরাট মতবিনিময় সভামাদক-বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের ভূমিকা চান এমপি ফজলে হুদা বাবুলরাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার পরিচিতি সভাপুঠিয়ায় ইজিবাইক মালিক সমিতির কমিটি গঠনপিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ রাজশাহীর বার্ষিক শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিকতা উৎসবসিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পাবলিক লাইব্রেরী পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভাতারাগঞ্জের আলমপুরে পুকুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুসিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানবিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রিমান্ডেকড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামরাজশাহীতে “১১নং ওয়ার্ড ক্রিকেট প্রিমিয়ার লীগ ২০২৬, সিজন-১ এর কার্যক্রম ও রেজিস্ট্রেশনের উদ্বোধনবাঘায় যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ফুটবল একাডেমীর উদ্বোধন করেন এমপি চাঁদ
Home >> জাতীয় >> লিড নিউজ >> মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদে নতুন বিল পাস

মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদে নতুন বিল পাস

ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : বিরোধী দলের আপত্তির মুখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করতে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন, তা সেভাবেই পাস হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে (কুমিল্লা-৪) আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

বিলটি পাসের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার আইন পুনঃপ্রচলন হবে।

বিলটি উত্থাপনে আপত্তি তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, আজকে যারা সরকারি বেঞ্চ রয়েছেন, তারা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে এই বিল পাসের বিরোধিতা করতেন। এই অধ্যাদেশকে ল্যাপস করার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়তো ল্যাপস করা যাবে, কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পাস হবেই হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই সংসদে আজকে যে পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, এই সংসদ, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, সরকারি বেঞ্চে যাঁরা উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকে এই সংসদে আসার পথে যে ক্রান্তিকালীন পর্যায়ে অতিক্রম করে এখানে এসেছেন। এই পুরো জার্নির পেছনে যে আইন জড়িত, তা নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করছি। এটার আলোচনার জন্য দুই মিনিট সময় অপ্রতুল।

এ পর্যায়ে স্পিকার মাইক বন্ধ করে দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশংসা, অন্য বিষয়ে অনেক সময় অপচয় হয়। জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে তিনি আলোচনার জন্য সময় বাড়িয়ে দিতে স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

সময় বাড়িয়ে দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজকে যে আইনটি পাস করার কথা বলাা হচ্ছে, তার মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশনকে রিস্টোর (পুনঃপ্রচলন) করবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ২০০৯ সালের যে আইন রয়েছে, সেই আইনের প্রয়োগ দীর্ঘ ১৭ বছরে হয়েছে আমরা তা দেখেছি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বিরোধী দল ও মতকে দমন কমিশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা মানবাধিকার কমিশন উৎপাদন করেছে।

হাসনাত বলেন, আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বলতে শুনেছি, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের গুলি করা বৈধ মানবাধিকার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। আমরা যদি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ২০০৯-এ যদি ফিরে যাই, আজকে যদি ২০২৫-এর অধ্যাদেশকে ল্যাপস করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা যে ফরওয়াডিং মুভে ছিলাম, সেখান থেকে জাতি আবারও ব্যাকওয়ার্ডে যাবে। জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি টেক্সটবুক উদাহরণ হিসেবে এই সংসদে এটি থাকবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আদতে কোনো আইন নয়, এটিতে সরকারি আরেকটি দপ্তর বানানো হয়েছিল। সেখানে স্পিকারের নেতৃত্বে যে ‘সিলেকশন কমিটি’ করা হয়েছে। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারদলীয় এমপি ও একজন সচিব থাকেন। ছয় সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডের পাঁচজনই সরকারদলীয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, আমাদের এলজিআরডিমন্ত্রী (মির্জা ফখরুল ইসলাম) বলেছিলেন, এটা “বিরোধী দল দমন কমিশন” হিসেবে ফাংকশন করে। মানবাধিকার কমিশন যখন বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন হিসেবে ফাংশন করে, আমরা যদি দেখি আদতে মানবাধিকার যেসব ক্ষেত্রে ক্ষুণ্ন হয়েছে, তা সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থা করেছে। সেখানে বিডিআর, র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনী সরাসরি সংযুক্ততা আমরা দেখেছি। মানবাধিকারকে তারা ক্ষুণ্ন করেছে।

এই সংসদ সদস্য বলেন, ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আমরা দেখেছি। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত পরিচালনা করতে চাইলে সেই বাহিনীর পূর্বানুমতি লাগবে, সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে। সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে সরকার যে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করবে, সেই মানবাধিকারের তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে, তা এই সংসদের প্রত্যেক সদস্য তা জানেন।

হাসনাত আবদুল্লাহকে দেওয়া ৪ মিনিট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন।

তিনি বলেন, এই বিষয়টি স্বচ্ছ রাজনীতি ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, এ জন্য এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়া দরকার। জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমরা অতীতে ছয়টি সংসদ দেখেছি।

এ পর্যায়ে স্পিকার হাসনাত আবদুল্লাহকে আরও দুই মিনিট সময় বাড়িয়ে দেন।

হাসনাত বলেন, আজকে যদি ২০২৪ সালের মে মাস হতো, আর এই বিলটি যদি উত্থাপন হতো, তাহলে এই সংসদে এমন কোনো সদস্য নেই যে এর বিরোধিতা করত। প্রত্যেকে এটাকে সাদরে গ্রহণ করত। আজকে সময় পাল্টিয়েছে, ২০০৮ সাল, ২০১৮ সালে আপনারা এই পাশে ছিলেন। আজকে আপনারা ওই পাশে (সরকারি দলে) গিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছেন। আজকে এই বিলের বিরুদ্ধে আপনারা অবস্থান নিয়েছেন। চব্বিশ সালের জুলাইয়ের কোনো মাসে, ফেব্রুয়ারি-জানুয়ারি-মার্চ; তৎকালীন ফ্যাসিবাদ সময়ে যদি এই বিলটি, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি এই সংসদে তোলা হতো, সবাই চাইতেন বিলটি যেন পাস করা হয়।’

হাসনাত আরও বলেন, সময় পাল্টেছে, ঋতু পরিবর্তন হয়েছে, চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে, দিক পরিবর্তন হয়েছে। আজকে জাতীয় মানবাধিকর কমিশনের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি। আমাদের এই অবস্থান নৈতিককতার দিক থেকে টেক্সবুক এক্সামপল হিসেবে থাকবে।’

বিরোধীদলীয় এই সদস্য বলেন, এই আইন শুধু মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আরও দুটি অধ্যাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা গুম অধ্যাদেশ ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দায়মুক্তির অধ্যাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন ল্যাপস করার মধ্য দিয়ে আদতে বাকি দুটি অধ্যাদেশকে অর্নামেন্টাল করে ফেলা হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার পরবর্তী সময়ে এই অধ্যাদেশকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না, সেটার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যা গরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়তো ল্যাপস করা যাবে। কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকর কমিশন অবশ্যই পাস হবেই হবে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930