IMG-LOGO

সোমবার, ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৩ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
পুনর্ভবা নদী ও রহনপুর খালকে দূষণমুক্ত করতে স্মারকলিপিশিক্ষা নিয়ে কোন গাফিলতি বরদাস্ত করা হবেনা: এমপি মিলননিয়ামতপুরে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে সংবর্ধনা প্রদাননিয়ামতপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্নটেকনাফে আলুর বস্তায় মিলল জি-৩ রাইফেলসহ বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক, আটক-৩বাগমারার শুভডাঙ্গাবাসীর সমস্যার কথা শুনতে পুরো ইউনিয়ন ঘুরলেন এমপি ডাঃ আব্দুল বারীরাজশাহীতে পেস্টিসাইড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি মাহফুজ, সম্পাদক মজিবুরডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্র্যাক মাইক্রো ফাইন্যান্স কর্মসূচির উদ্যোগে মশারি বিতরণ ও আলোচনা সভাচাঁয়না বাঁধে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও কেকের কারখানায় জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান ও জরিমানামান্দায় আইওরপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে চারতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনহাম উপসর্গে দেশে আরও ৯ শিশুর মৃত্যুভারতে বিমান মহড়ায় বাংলাদেশসহ ৯ দেশ, অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানমহাদেবপুরে সর্বমঙ্গলা উচ্চ বিদ্যালয়ের৩ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের উদ্বোধনইসলামিয়া সরকারি কলেজের খেলার মাঠ উন্নয়ন ও অভিযাত্রী সংসদের ভবণ নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন‘বিশ্ব ব্যবস্থায় রূপান্তর নয় ভাঙন চলছে’
Home >> জানা-অজানা >> টপ নিউজ >> রাজশাহীতে ডাচদের আগমন ও বড় কুঠি নির্মাণ

রাজশাহীতে ডাচদের আগমন ও বড় কুঠি নির্মাণ

ধূমকেতু প্রতিবেদক : রাজশাহী, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক শহর। পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এ অঞ্চলের ইতিহাস বহু প্রাচীন হলেও, ঔপনিবেশিক আমলে রাজশাহী ছিল ইউরোপীয় বণিকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ১৭শ শতকে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগমন রাজশাহীর অর্থনৈতিক ও স্থাপত্যিক দৃশ্যপটকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। ডাচরা শুধু বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে নয়, প্রশাসনিক এবং বসবাসের সুবিধার জন্যও রাজশাহীতে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলে, যার অন্যতম নিদর্শন হলো “বড় কুঠি”।

ডাচদের আগমনের উদ্দেশ্য :-
ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (VOC) ১৭শ শতকের শুরুতে বঙ্গদেশে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মসলিন, রেশম, নীল ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের ব্যবসা। রাজশাহী অঞ্চল ছিল নীল ও রেশম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এই অঞ্চল থেকে ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করা হতো। ডাচরা বুঝতে পেরেছিল, রাজশাহী অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তাই তারা এখানে একটি স্থায়ী বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

বড় কুঠি (ফ্যাক্টরি বা গুদামঘর) নির্মাণ:-
বড় কুঠি মূলত ডাচদের একটি কুঠি (ফ্যাক্টরি বা গুদামঘর) ছিল, যা ১৭৮১ সালের দিকে নির্মিত হয় বলে ধারণা করা হয়। এটি পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্থাপিত হয়েছিল, যাতে পণ্য পরিবহন সহজ হয়।এই ভবনটি একাধারে গুদাম, প্রশাসনিক অফিস ও বসবাসের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বড় কুঠির স্থাপত্যে ইউরোপীয় উপাদানের সঙ্গে স্থানীয় নির্মাণশৈলীর সংমিশ্রণ দেখা যায়। মোটা দেয়াল, খিলানযুক্ত দরজা, উচ্চ ছাদ ও বায়ু চলাচলের জন্য বড় জানালা – সব মিলিয়ে এটি একটি ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।

রাজশাহীতে ডাচদের প্রভাব:-
ডাচরা রাজশাহীর অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। তারা স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি করে নীল ও রেশম উৎপাদন করত এবং তা বিদেশে রপ্তানি করত। এর ফলে রাজশাহীতে একধরনের নগরায়ণ শুরু হয়, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে।
তবে ডাচদের এই কার্যক্রম সবসময় সুখকর ছিল না। নীলচাষ বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেক কৃষক শোষণের শিকার হন, যা পরবর্তীতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ব্রিটিশদের আগমনের পর ডাচদের ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তারা ধীরে ধীরে এই অঞ্চল থেকে প্রস্থান করে।

বড়কুঠির বর্তমান অবস্থান ও গুরুত্ব:-
বর্তমানে বড় কুঠি রাজশাহী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এবং এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আওতায় আছে। এটি শুধু একটি পুরনো ভবন নয়, বরং রাজশাহীর উপনিবেশিক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। এখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে, ইতিহাসপ্রেমীরা আসছেন ভবনটি দেখতে। সংস্কারের মাধ্যমে এটি এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।
ডাচদের আগমন ও বড় কুঠির নির্মাণ রাজশাহীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে শুরু হলেও, তাদের অবদান আজও স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যবান। বড় কুঠি শুধু একটি ভবন নয়, এটি রাজশাহীর ঐতিহাসিক পরিচয়ের অংশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষণীয় নিদর্শন।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031