ধূমকেতু প্রতিবেদক : রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং হাসপাতালের সহায়তায় ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু হৃদরোগীদের ২২ থেকে ২৪ জুলাই তিন দিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী’র সভাপতি আব্দুল মান্নান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পটি প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালের নিজস্ব ক্যাম্পাসে পরিচালিত হবে এবং এ কার্যক্রমে অংশ নিতে আজ ২১ জুলাই পর্যন্ত ২৬০০ জনের অধিক শিশু রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। সমগ্র উত্তরবঙ্গে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা প্রদানে উপস্থিত থাকবেন চীনের খ্যাতনামা (ঋঁধির ণঁহহধহ ঈধৎফরড়াধংপঁষধৎ ঐড়ংঢ়রঃধষ, ঈযরহবংব অপধফবসু ড়ভ গবফরপধষ ঝপরবহপবং (ঋণঈঐ)-এর ৭ সদস্যবিশিষ্ট পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট দল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (ঘওঈঠউ)-এর পরিচালকসহ ৮ জন অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ টিম।
এ ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, শিশুদের হার্টের জন্মগত ত্রুটি সময়মতো শনাক্ত করা এবং রোগের তীব্রতা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কার্যকর চিকিৎসাসেবা প্রদান করা। যার ফলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা, হার্ট ফেইলিউর বা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। যাদের হার্টের জন্মগত ত্রুটি ধরা পড়বে, তাদের জটিলতার মাত্রা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ টিম তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেবেন কিংবা প্রয়োজনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা অথবা আরও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, মরহুম ডা. আব্দুল খালেকের দানকৃত জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৪ সালে সূচিত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী একটি পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ হাসপাতাল হিসেবে গত ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালটি বর্তমানে করোনারি এনজিওগ্রাম, স্টেন্টিং, পেসমেকার স্থাপন ও পিটিএমসি পদ্ধতি সফলভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক জরুরি ইউনিট, আউটডোর, সিসিইউ, পিসিসিইউ, আইসিইউ, জেনারেল বেড ও কেবিন সেবার মাধ্যমে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত দেড় বছরে হাসপাতালটি ভর্তিকৃত অসহায় ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসাব্যয়ের জন্য ১,৮৭,৯৮,৯০৮ টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেছে।
এদিকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী হাসপাতালটি মেডিসিন, ক্যাথল্যাব যন্ত্রপাতি, ডায়াগনস্টিক ল্যাব রিয়েজেন্ট ও মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্রয়কৃত ওষুধ হাসপাতালে ভর্তিকৃত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।
এছাড়াও ক্যাথল্যাবের নতুন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কমপক্ষে ১০০ জন গরিব রোগীকে ৫০% ছাড়ে এবং ৫০ জন দরিদ্র রোগীকে বিনামূল্যে এনজিওগ্রাম করা হবে এবং ল্যাব রিয়েজেন্টের মাধ্যমে হৃদরোগ সম্পর্কিত ব্যয়বহুল ৬টি গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের ফি ৩০-৩৫% হ্রাস করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর জন্য সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হলে এ খাতের শতভাগ সুযোগ-সুবিধা সরাসরি ভর্তিকৃত গরিব রোগীরা পাবেন, যার ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হৃদরোগী ও তাদের পরিবার বিশাল চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা থেকে রক্ষা পাবে এবং বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে অতি স্বল্প ব্যয়ে বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি সরকারি এই বরাদ্দ স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর সহসভাপতি হাসেন আলী, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান, পরিচালক (মেডিকেল) প্রফেসর ডা. রইছ উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য ডা. ওয়াসিম হোসেন প্রমুখ।



