ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে অতিক্রম করে বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববারের এ দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রাইম এয়ারের ফ্লাইটটি দুপুর ২টার (ইডিটি) ঠিক আগে বিমানবন্দরের আড়াআড়ি রানওয়ে অতিক্রম করে মাটিতে থাকা একাধিক যানবাহনে আঘাত করে।
মায়ামি-ডেড ফায়ার সার্ভিসের প্রধান রে জাডাল্লাহ জানান, বিমানটির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িতে অন্তত দুজন আটকা পড়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর পাইলট ও কো-পাইলটও বিমানের ভেতরে আটকা পড়েন। নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেননি কর্মকর্তারা।
মায়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৬০টিরও বেশি উদ্ধারকারী দল এবং প্রায় ২০০ কর্মী ঘটনাস্থলে সাড়া দেন। বিকেলের শেষভাগেও জরুরি বিভাগের কর্মীরা বিমানটি থেকে জ্বালানি নিঃসরণ বা লিকেজ বন্ধের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সব ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে রোববার সন্ধ্যার মধ্যে বিমানবন্দরের চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং পরিষেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে ছেড়ে আসা বিমানটি ৩২ বছরের পুরোনো ছিল। এটি ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
অ্যামাজনের এক মুখপাত্র জানান, কার্গো এয়ারলাইন ২১ এয়ার অ্যামাজনের হয়ে বিমানটি পরিচালনা করছিল। ২১ এয়ার এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর রয়টার্সের তোলা ছবিতে দেখা যায়, বিমানটির সামনের অংশ মাটিতে ঠেকে আছে এবং পেছনের অংশ ওপরের দিকে উঠে আছে। বিমানটির ডান পাশে পোড়া দাগের মতো চিহ্নও দেখা যায়।
ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, রানওয়ে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১১২ নট বা ১২৯ মাইল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে চেয়ারওম্যান জেনিফার হোমেনডির নেতৃত্বে একটি দল মায়ামিতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করবে সংস্থাটি।
অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল বলেন, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে কোম্পানিটি এখনো তথ্য সংগ্রহ করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বোয়িং ও ২১ এয়ার জানিয়েছে, দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারি তদন্তে তারা সহযোগিতা করবে।
অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কোনো বিমান প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের হয়ে মায়ামি থেকে হিউস্টনগামী একটি কার্গো বিমান টেক্সাসের ট্রিনিটি বে-তে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা তিনজনই প্রাণ হারান।



