ধূমকেতু প্রতিবেদক : সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশের প্রথম AI-সমন্বিত স্মার্ট হেলমেট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহীর সপ্তম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী আহম্মদ আলী ও তানজিম ফয়সাল। আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হেলমেটটির প্রাথমিক সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে এটি নিয়ে বিজ্ঞান মেলায়ও অংশ নেবে তারা।
দুজনই শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ সাউথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহম্মদ আলীর রোল ১৩। তার বাবা মো. মোজাম্মেল হক ও মা মোসা. বিলকিশ আরা; বাসা রাজশাহী উপশহর ২ নম্বর সেক্টরে। তানজিম ফয়সালের রোল ১৫। তার বাবা আতিকুর রহমান পাভেল ও মা রেবেকা সুলতানা; সে রাজশাহীর ছোট বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।
দুই শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পরিচিত এক মোটরসাইকেল আরোহী রাতে নির্জন সড়কে দুর্ঘটনার পর প্রায় চার ঘণ্টা সাহায্য না পেয়ে পড়ে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি। সেই ঘটনাই তাদের এমন একটি হেলমেট তৈরির ভাবনা দেয়, যা দুর্ঘটনার পর দ্রুত সাহায্যের সংকেত পাঠাতে পারবে।
হেলমেটটিতে থাকবে মোশন, ইমপ্যাক্ট ও ফল-ডিটেকশন সেন্সর। তীব্র ধাক্কা, পড়ে যাওয়া কিংবা দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না থাকলে সিস্টেম সম্ভাব্য দুর্ঘটনা শনাক্ত করবে। এরপর GPS-এর মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে নির্ধারিত স্বজনদের কাছে SOS ও লোকেশন পাঠাবে। পরবর্তী ধাপে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি সেবার সঙ্গেও সংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে।
সামনের অংশের অ্যালকোহল সেন্সর চালকের নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের উপস্থিতি শনাক্ত করবে। ঝুঁকি ধরা পড়লে ভয়েস অ্যালার্ট ও LED সংকেতের মাধ্যমে সতর্ক করবে। পাশাপাশি থাকবে ছোট ডিসপ্লে, ব্যাটারি স্ট্যাটাস এবং হেলমেট সঠিকভাবে পরা হয়েছে কি না শনাক্ত করার ব্যবস্থাও।
এই উদ্যোগে AI ইন্টিগ্রেশন ও প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনায় সহায়তা করছেন রাজশাহীর আলোচিত তরুণ গবেষক মো. নাহিদ আলম। তিনি রাজশাহী সায়েন্স ফিয়েস্তা ২০২৪-এর চ্যাম্পিয়ন এবং দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য পরিচিত।
নাহিদ আলম বলেন, “এত অল্প বয়সে এমন প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তা সত্যিই প্রশংসনীয়। মূল ধারণা ও কাজ তাদেরই; আমি মূলত AI ইন্টিগ্রেশন ও প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনায় সহযোগিতা করছি। প্রকল্পটি সফল হলে পরবর্তী উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণেও তাদের পাশে থাকব।”



