ধূমকেতু প্রতিবেদক,কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টায় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
নিহত শিশুর নাম রাফি (৩)। সে ওই গ্রামের সাব্বির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় রাফি। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মিরপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ১১ নম্বর মেডিকেল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় ডা. আব্দুস সামাদ ও ডা. জান্নাতুল রিয়া নামে দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে রকির মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও ভাংচুরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন তারা।
মিরপুর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল রিয়া বলেন, স্বজনদের প্রিয়জন হারানোর বেদনা আমরা সহানুভূতির সঙ্গে দেখি। তবে হাসপাতালে জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে ভাঙচুরের পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী।
মিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের সনাক্তসহ গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



