ধূমকেতু প্রতিবেদক,মহাদেবপুর : নওগাঁর মহাদেবপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হলো সমতলের আদিবাসীদের অন্যতম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ মহাদেবপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে মঙ্গলবার বিকেলে ডাকবাংলো মাঠে কারাম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ উপজেলা কমিটির সভাপতি দিলীপ পাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ফজলে হুদা বাবুল।
প্রতিবছর ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে সমতলের আদিবাসীরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নিজস্ব নাচ-গান ও সংস্কৃতি তুলে ধরেন। উৎসবটি আদিবাসীদের হলেও অন্যান্য ধর্মীয় লোকজনসহ নানা শ্রেণি- পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় ডাকবাংলো মাঠ। উৎসবে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ পাশর্^বর্তী জয়পুরহাট, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা থেকে আগত বিভিন্ন আদিবাসী সাংস্কৃতিক দল তাদের নিজস্ব নাচ-গান ও সংস্কৃতি তুলে ধরে। উৎসবের শুরুতে আগের দিন রাতে কারাম গাছের (খিল কদম) ডাল কেটে এনে অস্থায়ী বেদিতে রোপণ করা হয়। এরপর দিয়া-বাতি, ফুল, ফলমূল ও আদিবাসীদের তৈরি বিশেষ পিঠা দিয়ে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে বিশেষ পূজা অর্চনা করা হয়। মূলত নিজেদের ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা করার পাশাপাশি সমতলের আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের সম্মিলিত বার্তা দিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ উপজেলা কমিটির সম্পাদক যোগশ উড়াও এবং আদিবাসী ছাত্র পরিষদ নওগাঁ জেলা শাখার সম্পাদক চঞ্চল পাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম আব্দুল হান্নান, বিএনপি নেতা মোঃ মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান মতি, রুমিয়া ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক মুরাদ হোসেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক সাবিত্রী হেমব্রম, বাসদ নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন মুকুল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ মহাদেবপুর উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক আজাদুল ইসলাম আজাদ, হাতুড় ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।
এ কারাম উৎসবে জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১০০টি আদীবাসী নৃত্যদল অংশগ্রহণ করে। শেষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।#



