ধূমকেতু প্রতিবেদক,সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে নিজের অর্থ ব্যয় করে ২৪ বছর ধরে তালগাছ লাগানোর কাজ করছেন সিরাজগঞ্জের আবুল কালাম আজাদ। বজ্রপাতের ঘটনা থেকে পাওয়া শিক্ষা তাঁকে এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত করে। পেশায় দরজি আবুল কালাম সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ পর্যন্ত তিনি সাড়ে ১১ হাজারের বেশি তালবীজ বুনেছেন। পাশাপাশি লাগিয়েছেন অন্তত দুই হাজার খেজুরবীজ।
২০০২ সালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়ে বজ্রপাতের ঘটনা দেখেন আবুল কালাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন বজ্রপাতের আঘাতে বাড়ির উঠানে থাকা একটি উঁচু তালগাছ পুড়ে যায়। কিন্তু বাড়িতে থাকা ১৫ থেকে ২০ জনের কেউ আহত হননি। ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলে। এরপর থেকেই তালগাছের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় তালবীজ বপন শুরু করেন।আবুল কালামের বিশ্বাস, বেশি করে তালগাছ লাগানো হলে বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি নিয়মিত বীজ সংগ্রহ, বপন ও চারার পরিচর্যা করছেন।
সিরাজগঞ্জ শহরের কাটাখালি, ইলিয়ট ব্রিজ, সরকারি কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ এবং সিরাজগঞ্জ-কাজীপুর সড়কের পাশে তাঁর লাগানো গাছ রয়েছে। সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর, বহুলী ও শিয়ালকোল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেও তালবীজ বুনেছেন তিনি। শহররক্ষা বাঁধের ক্রসবার-৩ থেকে বিসিক শিল্পপার্ক এলাকার বেলতিয়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে তাঁর লাগানো দুই হাজারের বেশি তালগাছ। সেগুলোর অনেকগুলোই এখন বেশ বড় হয়েছে।গাছের পরিচর্যার জন্য প্রতিদিন সাইকেলে বের হন আবুল কালাম। সঙ্গে থাকে কোদাল, পানির বোতল ও দা। চারার গোড়ায় আগাছা পরিষ্কার করা, বৃষ্টিতে মাটি সরে গেলে নতুন মাটি দেওয়া এবং প্রয়োজনমতো পরিচর্যা করা তাঁর নিয়মিত কাজ।
প্রতিটি বীজ বপনে প্রায় চার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি। নিজের আয়ের একটি অংশ এ কাজে ব্যয় করেন।বিভিন্ন এলাকা থেকে তালবীজ সংগ্রহ করেন আবুল কালাম। তাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও বীজ নেন। স্থানীয় কেউ বীজের সন্ধান দিলে সেখানে ছুটে যান। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের আপত্তি থাকলেও এখন তাঁরাও সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাশেম বলেন, নিজের জমি না থাকা সত্ত্বেও আবুল কালাম রাস্তার পাশের সরকারি জায়গায় তালগাছ লাগাচ্ছেন। তাঁর এ নিঃস্বার্থ উদ্যোগ এলাকার মানুষের কাছে প্রশংসা পাচ্ছে।সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান বলেন, তালগাছের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে আবুল কালামের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি সহযোগিতা চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাশে দাঁড়ানো হবে।



