ধূমকেতু প্রতিবেদক,মহাদেবপুর : নওগাঁর মহাদেবপুরে চোর অপবাদে প্রথম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী মোঃ মাফিকে কয়েক ঘন্টা বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম আসামী মোঃ বাবু হাসান ওরফে মমতাজকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোঃ বাবু হাসান ওরফে মমতাজকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান বাদী হয়ে সহরাই গ্রামের মোঃ আইজুলের ছেলে মোঃ বাবু হাসান ওরফে মমতাজ, মমতাজের স্ত্রী মোছাঃ নাজমা এবং একই গ্রামের মোঃ মাহফুজের ছেলে জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
মামলা সূত্রে জানায়, গত রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের সহরাই মোড়ে মমতাজের দোকানের ভিতরে যায় শিশুটি। কিন্তু দোকানের ভিতরে কেউ না থাকায় শিশুটি দোকানের বাইরে চলে আসার সময় মমতাজ ও তার স্ত্রী নাজমা চোর সন্দেহে তাকে দোকানের পাশের একটি ঘরে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে বেদম মারপিট করে। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তজমাট কালশিরা জখমপ্রাপ্ত হয়। খবর পেয়ে সহরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিয়ার রসুল, দুজন শিক্ষিকা, দপ্তরি ফিরোজসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে শিশুটি সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করে আত্নহত্যার চেষ্টা করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটিকে ছটফট করতে দেখে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। শিশুটির অবস্থা বর্তমানে সঙ্কটাপন্ন।
মহাদেবপুর থানার ওসি মোঃ ওমর ফারুক জানান, এ বিষয়ে থানায় মামলা হলে মামলার অন্যতম আসামী মমতাজকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যায় নি। তবে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।#


